গোলাম মাহাদি হাসান

গোলাম মাহাদি হাসান

শিক্ষার্থী, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ


০৭ অগাস্ট, ২০১৯ ০৩:১৫ এএম

ভালো ধারণাগুলোই হাইলাইটস হোক

ভালো ধারণাগুলোই হাইলাইটস হোক

চা আড্ডায় বা কোন পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আমার বন্ধুদের ভেতর দশজনের মাঝে যদি দু'জন বন্ধুও ডাক্তারদের নিয়ে ক্ষোভ বা ডাক্তারদের আচরণে দোষারোপ করে, তবে বাকি আটজন বন্ধু ঠিকই কিন্তু ডাক্তারদের পরিশ্রম আর আন্তরিকতায় এপ্রিশিয়েট করে।

এক্ষেত্রে, এই আটজনের মাঝে ধারণ করা পজিটিভিটিকে যদি আমি অনলাইনে এপ্রিশিয়েট না করতে জানি, তবে নিশ্চয়ই বাকি দু'জনের ভেতরকার নেগেটিভিটিকেও অনলাইনে স্প্রেড করার কোন রাইটস নেই আমার।

দুই.

মাঝে মাঝে অনলাইন নিউজপোর্টালে গুম, খুন বা পরকীয়ায় খুনোখুনির ঘটনা পড়ে প্রচুর ডিপ্রেশড লাগতো। এই ডিপ্রেশন বেশিটা সময় বইতে পারতাম না। মাকে শেয়ার করে জিজ্ঞেস করতাম- "মা, আমার বোধহয় ভুল সময়েই জন্ম হয়েছে। তোমাদের জেনেরেশনটা কত্ত লাকি... এইটিজের তোমরা যা পেয়েছো, পিওর পেয়েছো সবকিছুই। আমাদের সময়টায় সবই শুধু মিথ্যের আশ্রয়..."

মা বোঝাতেন- বিষয়টা মোটেও এমন কিছু নাহ। যে ঘটনাগুলো এখন আমরা রোজই দেখতে পাই, সেই ঘটনাগুলো এইটিজেও ঘটতো। আত্মহত্যা বা খুন, কিংবা পরকীয়া- সবকিছুরই অস্তিত্ব আজও  যেমন রয়েছে, এইটিজ প্রজন্মের কাছেও ছিল। কিন্তু, এই অনলাইন মাধ্যম না থাকায় দেশের একপ্রান্তের খবর অন্যপ্রান্তের মানুষেরর কাছে অপ্রকাশ্যই থেকে গিয়েছিল।

তিন.

সিলেটের আবদুল মন্নান অথবা আনাচে কানাচের কোন এক আবুল হান্নানকে কখন ডাক্তারদের গালি দিল, ডেঙ্গু ডাক্তারদের নিজেদের স্বার্থে নিজেরাই মানুষের মাঝে ছড়ালো বলে উল্লেখ করলো- এই নেগেটিভ সংবাদগুলো কিন্তু তড়িৎ গতিতে বিভিন্ন মেডিকেল পারসোনেলের টাইমলাইন কিংবা রিনোনড মেডিকেলীয় পেইজ গুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। অথচ, এই পেইজগুলোতেই এসব নেগেটিভিটি স্প্রেডিং পোস্টের প্রথম কমেন্টে যখন কোনো নন-মেডিকেলীয় মানুষই এসব মিথ্যে আজগুবী নিউজের প্রটেস্ট করে কমেন্ট রাখে, তখন তা আর প্রচার হয়না..!

চার.

আমার স্কুল-কলেজ লাইফের যে ফ্রেন্ডগুলো আজ নামকরা সব ভালো ভালো মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা ডাক্তার, তারা পর্যন্ত তাদের পারিপার্শ্বিকতা থেকে কেবল বাজে ঘটনাগুলোই, মানুষের মুখের সমালোচনাগুলো কেবল অনলাইনে স্প্রেড করেই চলেছে। কই, কখনো তো তারা গর্ব করে লিখেনি, বলেনি- কোন শয্যাশায়ী রোগীটাকে তারা সারারাত সেবা শুশ্রূষা করে সারিয়ে তোলার পর, রোগী বিদায়-প্রাক্কালে কী বলেছে বা রোগী চোখেমুখে তার (চিকিৎসক বন্ধু) প্রতি কী কৃতজ্ঞতায় পরিপূর্ণ অভিব্যক্তিটুকুই না ছিল..! কিংবা, মৃত্যু পথোযাত্রী কোন রোগীকে নিজের শরীরে রক্তবিন্দু দিয়ে সেবা দানের সময়টায় রোগীর লোকজন কী কৃতজ্ঞতায় না অবনত ছিল- কই, এসব তো খুব একটা স্প্রেড হয় না!

এখন যদি বলা হয়- এমন রোগী বা রোগীর লোকজন কখনোই এতো ভালো হয় না, তার মানে কি এটাই দাঁড়ায় না- একযোগে দেশের সব মানুষই চরম অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়েছে? আসলেই কি তাই ঘটেছে?

পাঁচ

মাঝে মাঝে কিছু ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পোস্টে দেখি- রোগী সুস্থ হবার পর, বিদায় নেবার জন্যে ইন্টার্নস রুমে দেখা করতে আসে, কখনোবা রোগীর জন্যে আনা আপেল-কমলাও রোগীটি তার সেবায় নিয়োজিত ডাক্তারের হাতে তুলে দেয়, যাবার সময়ে একরাশ দোয়া-আশীর্বাদ রেখে যায় তার জন্যে। মানলাম, এই ঘটনাগুলো সবসময়ই হয় না, কিন্তু কখনো না কখনো হয়-তো, ঘটে-তো। তবে কেন এসব পজিটিভিটির প্রচার নেই?

পজিটিভিটিতে আলাদা একটা ভাইভ থাকে, একজনের সাথে ঘটে যাওয়া এমন কোন পজিটিভ সংবাদই আর দশটা ইন্টার্ন চিকিৎসকের কাজের ক্ষেত্রে ইন্সপিরিশন। কোথাও কারো বেলায় অমন হয়েছে, আমার বেলাতেও নিশ্চয়ই হবে- এই পজিটিভ চিন্তাটুকুই যে ডক্টরস-পেশেন্টস রিলেশনশীপটাকে ড্রামাটিকভাবে বদলে দিতে পারে, তা আমরা কবে বুঝবো?

একজনের নেগেটিভিটি আর দশজনের কাছে শুধু নেগেটিভিটিটুকুই ছড়ায় না, সাথে ছড়িয়ে দেয় একরাশ ক্ষোভ, হিংস্রতা কখনো আবার আস্থাহীনতাও। থাক না... কোথায় কে কী বাজে বকলো, কী বাজে ভাবলো- তার চর্চা না করে, ভালো ধারণাগুলোই হাইলাইটস হোক। বাজে সব মন্তব্য গায়ে মেখে অসহায় সব রোগীদের থেকে অভিমানে মুখ ফিরিয়ে থাকাটা তো ম্যাচুরিটি নাহ... বরঞ্চ, এসবে ড্যাম কেয়ার থেকে, "ভালো-মন্দ" সবার আশ্রয়, ভরসা হতে পারাই যে ম্যাচুরিটি!

Add
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না