ডা. মাহবুব হোসেন,

ডা. মাহবুব হোসেন,

জনস্বাস্থ্য গবেষক, 
স্কুল অব পাবলিক হেলথ, 
টেক্সাস এএন্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র। 

এবং 
আজীবন সদস্য, 
বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন।


০৬ অগাস্ট, ২০১৯ ০১:৫২ পিএম

ডেঙ্গুতে পেঁপে পাতার রস ক্ষতিকর নয়, উপকারী

  • ডেঙ্গুতে পেঁপে পাতার রস ক্ষতিকর নয়, উপকারী
  • ডেঙ্গুতে পেঁপে পাতার রস ক্ষতিকর নয়, উপকারী
  • ডেঙ্গুতে পেঁপে পাতার রস ক্ষতিকর নয়, উপকারী
  • ডেঙ্গুতে পেঁপে পাতার রস ক্ষতিকর নয়, উপকারী

সারাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিদিন রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রেকর্ড সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে। এতে ওষুধসহ অন্য সব সামগ্রী বিনামূল্যে সরবরাহ করতে গিয়ে হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে। 

চিকিৎসকরা জাতীয় গাইড অনুযায়ী নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ডেঙ্গু আকান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই ডাক্তার, নার্স ও হাসপাতালের কর্মীরা সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। 

এক্ষেত্রে ‘ডেঙ্গুতে পেঁপে পাতার রস কাজ করে না, কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নাই’ এরকম কথাবার্তা অনেক চিকিৎসক বলছেন। তাঁদের অনেকেই অত্যন্ত প্রবীণ ও আমার পরম শ্রদ্ধেয় মানুষ। তাঁদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বিষয়ে লিখছি।  

গতকাল শনিবার (৩ আগস্ট) বিকেল পর্যন্ত বিশ্বের ছয়টি বৃহৎ চিকিৎসা ডেটাবেইজ থেকে সংগৃহীত মোট ৬৮২টি গবেষণা প্রবন্ধ পড়ে এ বিষয়ক ২১টি নিরীক্ষামূলক প্রবন্ধ পেলাম। তার মধ্যে নয়টি মানুষের ক্ষেত্রে এবং ১২টি এনিম্যাল মডেলে ডেঙ্গিতে পেঁপে পাতার রসের প্রভাব প্রকাশ করেছে। এনিম্যাল মডেলের ফলাফল সবগুলোতেই ভালো। পেঁপের রসে একাধিক ঔষধি উপাদান পাওয়া গেছে—যা ডেঙ্গিতে প্লেইটলেট (প্লাটিলেট বা প্লেটলেট না) বাড়ায়। 

এবার আসা যাক মানুষের প্রসঙ্গে। নতুন চিকিৎসার কার্যকারিতা প্রমাণে বহুল প্রচলিত পদ্ধতি হচ্ছে ‘Randomized controlled trials (RCT)’—যেখানে বিজ্ঞানীরা একদল রোগীকে সাধারণ চিকিৎসা দিয়ে থাকেন (কখনো কখনো কিছুই দেন না)।  আরেক দল রোগীকে নতুন চিকিৎসা (ট্যাবলেট, সিরাপ, নতুন অপারেশন/পদ্ধতি) প্রয়োগ করে থাকেন। তারপর দুই গ্রুপের মধ্যে চিকিৎসার ফলাফল দেখেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ রকম অনেক গবেষণার ফসল একত্র করে মেটা-এনালিসিস করা সম্ভব, যা চিকিৎসার নীতি প্রণয়নে সাহায্য করে। বলার অপেক্ষা রাখে না আজকের যুগে আমরা যেসব ওষুধ ব্যবহার করি, তার প্রত্যেকটি এসব ধাপ পার হয়ে বাজারে এসেছে।

মানুষের ক্ষেত্রে যে নয়টি RCT পেয়েছি, তার মধ্যে অধিকাংশে (সাতটি) বলা হয়েছে, নিয়মিত (দিনে দুই থেকে তিনবার) পেঁপে পাতার রস ডেঙ্গুতে প্লেইটলেটের পরিমাণ চতুর্থ থেকে সপ্তম দিনের মধ্যে বাড়ায়। অন্যদিকে যে দুইটি স্টাডি বলছে, প্লেইটলেট অপরিবর্তিত থাকে—তারা জানাচ্ছে, প্লেইটলেটের পরিমাণে প্রভাব না রাখলেও যারা পেঁপে পাতার রস খেয়েছেন, তাদের মধ্যে হাসপাতালে অবস্থানের সময়কাল তুলনামূলক কম। 

সবগুলো (৯টি) গবেষণাপত্র বলছে, পেঁপের রসে বিশেষ কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। পেট-ফাঁপা, বমিভাব, বদহজম জাতীয় যেসব লক্ষণ—সেটা পেঁপে পাতার রস খাওয়া আর না-খাওয়া রোগীদের মধ্যে একই রকম দেখা গেছে। 

মজার বিষয় হচ্ছে, ডেঙ্গুর চিকিৎসায় পেঁপের রস সবগুলো স্টাডিতেই স্বাভাবিক চিকিৎসার পাশাপাশি দেয়া হয়েছে, বিকল্প হিসেবে নয়। কাজেই ডেঙ্গুতে পেঁপে পাতার রস আর যাই হোক ক্ষতিকর নয়, বরং কিছুটা উপকারী বলা চলে। 

অতএব মূল চিকিৎসার পাশাপাশি পেঁপে পাতার রস দেয়া যায়—সে বিষয়ক বৈজ্ঞানিক গবেষণার সামান্য ফলাফল বাংলার ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষের সেবায় নিয়োজিত সম্মানিত চিকিৎসকদের সদয় অবগতির জন্য জানিয়ে রাখলাম।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত