ঢাকা      সোমবার ২৬, অগাস্ট ২০১৯ - ১০, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. ফাহিম উদ্দিন

ইন্টার্ন চিকিৎসক

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


ভাইরাল ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু রোগের কিছু মিল

ভাইরাল ডায়রিয়া (Viral Diarrhea) এবং ডেঙ্গু (Dengue), দুটোর মাঝে কিছু মিল আছে। দুটো কন্ডিশনই ভাইরাস দিয়ে হয়। প্রথমদিকে মানুষ গুরুত্ব দিতে চান না, হালকা ভাবে নেন। সময় গড়িয়ে গেলে এর মৃত্যুঝুঁকি কেমন তা বোঝা যায়। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে যাদের অনেক কো-মরবিডিটি (যেমন: স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, হার্ট ডিজিজ, কিডনী ডিজিজ) থাকে।

ডায়ারিয়াতে শরীর থেকে প্রচুর ফ্লুইড এবং ইলেক্ট্রোলাইট লস হয়। তাও ভালো যে এক্ষেত্রে শরীর থেকে একদম বের হয়ে যায় বলে আমরা বাইরে থেকে ফ্লুইড সাপ্লাই দিয়ে ব্লাড প্রেসার মেইনটেইন করার চেষ্টা করি। তারপরেও যারা হসপিটালে দেরি করে আসেন তারা হাইপোভলিউমিক শকে চলে যান এবং মেজর অরগান (Brain, Heart, Kidney etc) গুলোতে ব্লাড সাপ্লাই (পারফিউসন) কমে যাওয়ায় নানা ধরনের কমপ্লিকেশন দেখা দেয় যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়।

কিন্তু ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা "উভয়সংকট" এর মত! পেশেন্টের রক্ত থেকে প্লাজমা (রক্তের জলীয় অংশ) বের হয়ে সেটা রক্তনালীর আশেপাশের আন্তকোষীয় ফাঁকে জমা হয়ে যায়, কিন্তু ডায়ারিয়ার মত শরীর থেকে একদম বের হয়ে যায় না। যার ফলে পেশেন্টের ব্লাড প্রেশার কমে যায়, ডায়ারিয়ার মত ডেঙ্গুর পেশেন্টও হাইপোভলিউমিক শকে চলে যায়। এক্ষেত্রে ব্লাড প্রেসার মেইনটেইন করার জন্য ফ্লুইড/স্যালাইন দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা তা না হলে, পেশেন্টের মেজর অরগানগুলো তে ব্লাড সাপ্লাই (পারফিউসন) কমে গিয়ে সেগুলো ড্যামেজ হয়ে গিয়ে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাবে।

কিন্তু অন্যদিকে আবার বাইরে থেকে ফ্লুইড/ স্যালাইন দিলে সেটা রক্তনালী থেকে লিক হয়ে রক্তনালীর বাইরে আন্তকোষীয় ফাঁকে চলে যাচ্ছে (ফলে ফুসফুসের চারপাশে, পেটে পানি জমে যাচ্ছে, শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে)। এখন আপনি কোনদিকে যাবেন? অর্থাৎ একটা উভয় সংকটের মধ্যে পড়তে হচ্ছে চিকিৎসককে। বুঝতেই পারছেন এই উভয় সংকট মোকাবেলা করা বেশ কঠিন। আল্লাহ সহায় না হলে সম্ভব নয়!

আর এই ডায়ারিয়া এবং ডেঙ্গুর মধ্যে সবচেয়ে বড় মিল হল, ডায়ারিয়ার "ফ্লুইড+ইলেক্ট্রোলাইট লস" আর ডেঙ্গুর "প্লাজমা লিকেজ" এই দুটো বন্ধ করার মত ইফেক্টিভ কোনো ঔষধ এখনো আবিষ্কার হয়নি। কারো ক্ষেত্রে এই লস/লিকেজ বেশি হয়, কারো ক্ষেত্রে কম। সেই পর্যন্ত আপনার চিকিৎসককে শুধুমাত্র সাপোর্টিভ ম্যানেজমেন্ট দিয়ে ঐ একক/উভয় সংকট মোকাবেলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যেতে হয়। এতে ঐ "লস/লিকেজ" এর কাছে কখনো তারা পরাজিত হন, কখনো বা জয়ী! কিন্তু বাস্তবিক অর্থে ঐ ফ্লুইড লস/প্লাজমা লিকেজ বন্ধ করার জন্য তাদের কিছুই করার নেই। এক্ষেত্রে রোগীর মত চিকিৎসকও অসহায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সারভাইক্যাল ক্যান্সার: কারণ, লক্ষণ ও করণীয় 

সারভাইক্যাল ক্যান্সার: কারণ, লক্ষণ ও করণীয় 

সারভাইক্যাল ক্যান্সার আমাদের দেশে খুব পরিচিত রোগ। তবে বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সচেতনতার…

ভিআইপি রোগী

ভিআইপি রোগী

এমবিবিএস পাস করে কেবল ১৯৮৫ সনের নভেম্বর মাসে ইন-সার্ভিস ট্রেইনিং শুরু করেছি।…

রোগীকে যখন শান্তনা দেয়ার কোন ভাষা থাকে না

রোগীকে যখন শান্তনা দেয়ার কোন ভাষা থাকে না

আমার চেম্বারে একজন ভদ্রমহিলা আসলেন বুকে ব্যাথা নিয়ে। তার প্রেশার আনকন্ট্রোলড। আমি…

একটা দুইটা অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কি হয়?

একটা দুইটা অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কি হয়?

আমাদের শরীরের কিছু কিছু অসুখ আছে যেগুলো জীবাণুর কারণে হয়। বলা হয়…

গর্ভবতী মায়ের সন্তানের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু, করণীয় কী?

গর্ভবতী মায়ের সন্তানের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু, করণীয় কী?

ডেঙ্গু বিষয়ক নানা প্রশ্নের একটি হচ্ছে, গর্ভবতী মায়ের ডেঙ্গু হলে সন্তানেরও তা…

বুদ্ধিজীবী

বুদ্ধিজীবী

আমার সামনে বসা মধ্যবয়সী এক অত্যাধুনিক ভদ্রলোক! ঘাড় পর্যন্ত ঝুলানো লম্বা চুল,…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর