ডা. তাইফুর রহমান

ডা. তাইফুর রহমান

কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি

জেনারেল হাসপাতাল, কুমিল্লা।


০৫ অগাস্ট, ২০১৯ ১০:৪৭ এএম

ডেঙ্গু কেন বারবার হয়?

ডেঙ্গু কেন বারবার হয়?

"ইয়া আল্লাহ আমার শত্রকেও এমন কষ্ট দিওনা" এক তীব্র আর্তচিৎকারে ফেটে পড়ে ইমতিয়াজ। চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এমনই অনুভূতি ছিল তার। এখনো ভয়ে শিউরে ওঠে, আরেকবার হলে বাঁচবোইনা।

নাহ্। চিকনগুনিয়া একজীবনে একবারই হয়। চিকেন পক্স, মিসেলসও জীবনে একবারই হয়। তাহলে ডেঙ্গু কেন বারবার হয়? কিছু রোগ জীবনে একবার হলে আর কখনো হয়না। কেন?

শরীর এক মহা কম্পিউটার! ভাইরাস শরীরে ঢুকার সাথে সাথে ডিফেন্স সিস্টেম এলার্ট হয়ে যায়। তার জীবন বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত পেট্রিয়ট তথা এন্টিবডি তৈরী করে। সাথে তৈরী করে মেমোরি সেল। এই এন্টিবডি ও ডাইরেক্ট আঘাতকারী সাইটোটক্সিক সেল মিলে অতি দ্রুত সব ভাইরাস মেরে ফেলে। এজন্যই ভাইরাস জ্বরগুলো এমনকি ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়াও নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। শুধু চার/ পাঁচদিন শরীরটাকে একটু সাপোর্ট দিতে হয়।

মেমোরি সেলগুলো বেঁচে থাকে সারাজীবন। মনে রাখতে পারে শত্রু ভাইরাসের চেহারা, সুক্ষভাবে চিহ্নিত করতে পারে শত্রুকে। পরবর্তীতে যখনই এই ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করে তখনই মেমোরি সেলগুলো ডিফেন্স কোরের কাছে দ্রুত পরিচয় করিয়ে দেয়। তাতে শরীরের ক্ষতি করার আগেই শত্রুমুক্ত হয়ে যায়।

সমস্যা হলো, শরীর খুব সুক্ষ্মভাবে সনাক্ত করে প্রতিটা ভাইরাস। এক চেহারার চার জমজ ভাই আদু, বদু, যদু, মধুকে যেমন মা, বউ ছায়া দেখেও সনাক্ত করে ফেলে, শরীরও তেমনি প্রত্যেকটাকে আলাদাভাবে সনাক্ত করে। তাই একজনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা অন্যজনের বিরুদ্ধে অকার্যকর।

চিকনগুনিয়া একধরনেরই হয়, ডেঙ্গু জীবাণু চার ধরনের। তাই একবার ডেঙ্গুর একভাই আক্রমণ করলে দ্বিতীয়বার আরেকভাই আক্রমণ করতে পারে। শরীর সেটা সনাক্ত করতে পারেনা। সেটা হয় ভয়াবহ।

একদিন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা খোঁজ পেয়ে গেল শরীরের এই চমৎকার ক্ষমতার কথা। তারা আবিষ্কার করে ফেললো অনেকগুলো রোগের টীকা। জীবন্ত ভাইরাস, ভাইরাসের অংশবিশেষ, নির্যাস ঢুকিয়ে দেয়া হয় শরীরে। শরীর তৈরী করে ফেলে এই নির্দিষ্ট ভাইরাসের বিরুদ্ধে রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী পেট্রিয়ট।

এভাবেই অনেকগুলো রোগ পৃথিবী থেকে নির্মূল হয়ে গেছে চিরতরে।

এইতো ক'দিন আগেই রাশিয়ার মিউজিয়ামে রাখা গুটিবসন্তের সর্বশেষ জীবানুটা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত