ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৩ ঘন্টা আগে
০৪ অগাস্ট, ২০১৯ ১৯:২৭

বিএসএমএমইউর তিন সহকারী প্রক্টরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি 

বিএসএমএমইউর তিন সহকারী প্রক্টরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি 

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) তিন অধ্যাপককে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (৩ আগস্ট) পিয়ন মারফত তাদের কক্ষে অব্যাহতিপত্র পাঠানো হয়।

অব্যাহতিপ্রাপ্ত তিনজন হলেন: কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এস. এম. মোস্তফা জামান, অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. নাজির মোল্লা ও নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আহসান হাবিব (হেলাল)।

তবে তাঁদের মধ্যে দুইজন অব্যাহতিপত্র পেলেও ডা. আহসান হাবিব হজ পালনে সৌদি আরব থাকায় তিনি সেখান থেকে অব্যাহতির খবর শুনেছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে অধ্যাপক পদমর্যদার তিনজন শিক্ষককে সহকারী প্রক্টরের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির চিঠি পিয়ন মারফত পাঠানো ‘অত্যন্ত অসম্মানজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। এ ঘটনায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অব্যাহতিপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, যখন তাদের সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তখন ভিসির কক্ষে ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। এভাবে পিয়নের হাতে চিঠি পাঠানো রীতিমতো অসম্মানজনক।

এ অব্যাহতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ডা. মো. নাজির উদ্দিন মোল্লা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘তাঁর এ সিদ্ধান্তে আমরা ক্ষুব্ধ। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দু্ই শতাধিক মেডিকেল অফিসার নিয়োগে অনিয়ম ও নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরতদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদ করাই ছিল আমাদের একমাত্র দোষ। এ কারণে ব্যক্তিগত রোষানলের শিকার হয়েছি আমরা।’

অব্যাহতিপ্রাপ্ত তিন অধ্যাপকের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থানায় মামলা করেছে বলেও জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে মোট পাঁচজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে তিনজনকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও নিউরোসার্জারির সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজাউল আমিন টিটু ও সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আবু তাহেরকে অব্যাহতিপত্র দেওয়া হয়নি।

মেয়াদকাল পূর্ণ হওয়ায় তাদের অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার এমন বক্তব্যের জবাবে অধ্যাপক নাজির উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘আমার এখনো তিন বছর পূর্ণ হয়নি। তিনি এ নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন। আর তিন বছর দায়িত্ব পালন করার বিষয়ে ধরা-বাধা কোনো নিয়ম নেই। বাকি যে চারজন আছেন—তাদের কেউ কেউ ৪/৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া বাকি দুই সহকারী প্রক্টরকেও অব্যাহতি প্রদান করা হবে না।’

সহকারী প্রক্টর পদ থেকে তিনজনকে আকস্মিক অব্যাহতি প্রদান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া মেডিভয়েসকে বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে মানুষ দায়িত্বে থাকে নাকি? অন্যদেরকে এ সুযোগ দিতে হবে না? দায়িত্বে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সকল পদে পরিবর্তন আনার কথা ছিল, আমি তা করিনি। আমার দায়িত্বের এক বছর পাঁচ মাস হয়ে গেছে। উপর থেকে বারবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছে—সব পদে পরিবর্তন করেছি কিনা। তখন তো আমি কোনো পরিবর্তন করিনি। আমার আর দেড় বছর বাকি আছে। অন্যদেরকেও সুযোগ দিতে হবে।’

তিনি বলেন, সাধারণত তিন বছরের জন্য সহকারী প্রক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়। যে তিনজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তাদের দায়িত্ব পালনের মেয়াদকাল অনেক আগেই শেষ হয়েছে। নিয়ম মেনেই তাদের অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

পিয়নদের মাধ্যমে অব্যাহতিপত্র পাঠানোর বিষয়কে অসম্মানজনক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। 

ইতিপূর্বে এ দায়িত্ব থেকে যাদের অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে—তাদের প্রক্রিয়াটা কেমন ছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ‘আমি ডিন হিসেবে যদি চিঠি পাই। আমি ডিন ছিলাম, চেয়ারম্যান ছিলাম, অধ্যাপক ছিলাম। আমার রেজিস্ট্রার্ড অফিস থেকে যদি চিঠি পাঠানো হয়, তাহলে এটা অসম্মানজনক কিভাবে? বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত রীতি অনুসারে যেভাবে ডেসপাস সেকশনের মাধ্যমে সকল শিক্ষকরা চিঠি পেয়ে থাকেন, সেই প্রক্রিয়ায় তাদেরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কাউকে অসম্মান করার প্রশ্নই ওঠে না। কারও বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলকভাবে কিছু করা হয়নি। বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের সময় এই প্রক্রিয়ায় আমার কাছেও ডেসপাস থেকে চিঠি এসেছে—আমি গ্রহণ করেছি।’ 

বাকি দুজন সহকারী প্রক্টরকেও অব্যাহতি প্রদান করার পরিকল্পনা আছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি এখনও ঠিক হয়নি। এ ব্যাপারে সময় মতো সিদ্ধান্ত হবে।’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত