ঢাকা      শনিবার ১৭, অগাস্ট ২০১৯ - ২, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

মুভি রিভিউ

হাসি যখন মহৌষধ

প্যাচ অ্যাডামস (Patch Adams)
মুক্তিকালঃ ২৫ ডিসেম্বর, ১৯৯৮
পরিচালকঃ টম শেডিয়াক

Laughter is the best medicine-  এই মুলমন্ত্র কে কেন্দ্র করে তৈরি কমেডি ড্রামা ধাঁচের কিছুটা ব্যাতিক্রী একটি মুভি ‘প্যাচ অ্যাডামস’। মুভির মুল কাহিনী হান্টার ডোহারটি অ্যাডামস নামক একজন চিকিৎসক এর জীবনী এবং তাঁর লেখা বই এবং Sundheit: Good Health Is A Laughing Matter  থেকে নেয়া। মুভির প্রধান চরিত্র হান্টার ‘প্যাচ’ অ্যাডামস। মানসিক চিকিৎসার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া অ্যাডামস একদিন খেয়াল করে যে, শুধু চিকিৎসা দিয়ে রোগ ভাল করলেই মানুষ সুস্থ হয় না। এর সাথে আরো কিছু দরকার। তার এই উপলব্ধি আরও জোরদার হয় যখন তার সামান্য কৌতুক, হাস্যরসিকতা তার সাথেরই একজন রোগীকে সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করে। 

একসময়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া অ্যাডামস এর জীবনে তখন নতুন লক্ষ্য স্থির হয়- চিকিৎসক হও, মানুষের সেবা কর। শুরু হল অ্যাডামস এর জীবনের নতুন অধ্যায়। চিকিৎসক হতে এসে অ্যাডামস দেখল গতানুগতিক চিকিৎসা ব্যবস্থার যান্ত্রিকতা। অসুস্থ একজন মানুষকে যেখানে নিছকই একজন রোগী হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার বিষয়টি এখানে বরাবরই উপেক্ষিত। গৎবাঁধা, রসকষহীন এই ব্যবস্থায় অ্যাডামস সুচনা করল ভিন্ন একটি ধারা। তার লক্ষ্য শুধু রোগীর মৃত্যু ঠেকানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, রোগীর মানসিক সুস্থতাও তার কাছে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নানা ধরনের রসিকতা আর কৌতুক করে সে রোগীর মনে আনন্দ দেয়। উদ্দেশ্য- রোগীকে মানসিক ভাবে সুস্থ করে তোলা। 

যে কোন পদ্ধতির চেয়ে তার পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকরও হয়। কিন্তু একাজ করতে গিয়েই আসে নানান বাঁধা বিপত্তি। মেডিক্যাল কম্যুনিটি তার চিকিৎসা পদ্ধতিকে অনুমোদন করে না। গতানুগতিক ধারার বাইরে হওয়ায় তারা একে বেআইনি বলে গণ্য করে। অ্যাডামস তার মেডিক্যাল একাডেমী থেকে বহিষ্কৃত হয়। কিন্তু তারপরও থেমে থাকেনা অ্যাডামস এর পথচলা। এক পর্যায়ে সে কম্যুনিটিকে তার চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা বোঝাতে সক্ষম হয়। এরকম নানা উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে মুভির ঘটনা। কেন্দ্রীয় চরিত্র হান্টার ‘প্যাচ’ অ্যাডামস এর ভুমিকায় অভিনয় করেছেন ‘গুড উইল হান্টিং’ খ্যাত প্রয়াত অভিনেতা রবিন উইলিয়ামস। তাঁর পেশাদার কৌতুক প্রতিভা মুভিতে এনে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। এছাড়াও আরো অভিনয় করেছেন মনিকা পটার, ফিলিপ হফম্যান প্রমুখ।

মোটকথা, চিকিৎসক রোগী সম্পর্ক কোন কঠিন সম্পর্ক নয়; বরং হাশিখুশি, কোমল সম্পর্ক যা একজন রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে। মুভিতে দর্শকের সত্তাকে নাড়া দিয়ে সঠিক পথে পরিচালিত করার মত যথেষ্ট উপাদান রয়েছে। মুভি পাগল তো বটেই, সাধারণ দর্শক ও মুভিটি দেখে বিনোদিত এবং অনুপ্রাণিত হবেন বলে আশা করা যায়।
 

লেখক : মোহাম্মদ জোবায়ের, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ

(প্রকাশিত : মেডিভয়েস: সংখ্যা : ৪; বর্ষ ২; জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী ২০১৫)

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর