০৩ অগাস্ট, ২০১৯ ০৫:৫৪ পিএম

ডেঙ্গু টেস্টের কিট সংকট!

ডেঙ্গু টেস্টের কিট সংকট!

মুন্নাফ রশিদ: দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত কিংবা শহর থেকে গ্রাম বাদ নেই কোথাও। আতঙ্কিত মানুষ, আতঙ্কিত দেশ। ডেঙ্গুর এমন ভয়াবহতা থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।  বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শতভাগ ডেঙ্গু নিশ্চিত হতে রোগীর শরীর থেকে রক্ত নিয়ে এনএস১, আইজিএম ও আইজিজি নামের পরীক্ষাগুলোও সহজে নির্ণয় করা যায়।

কিন্তু সরকার বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ঘোষণা দিলেও সব হাসপাতালে ১৪৫ টাকা মূল্যের টেস্ট কিট দেয়নি। হাসপাতালের উদ্যোগে কিনতে গেলেও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি মেডিকেল ডিভাইস বিক্রয়কারী একটি অসাধু চক্র ১৪৫ টাকার ডিভাইস ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বিক্রি করছে।

এ বিষয়ে রাজধানীর জাতীয় বাতজ্বর ইনস্টিটিউটের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) একেএম আনিসুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, এখানে প্রতিদিন গড়ে ১২০ জনের মত রোগী আসছে। যাদের অর্ধেকই ডেঙ্গু রোগী। কিন্তু ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য বিএমএ ভবনে টেস্ট কিট কিনতে গিয়েও পাওয়া যায়নি। ফলে রোগীদের সিবিসি পরীক্ষা ছাড়া এনএস১, আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার জন্য পার্শ্ববর্তী সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে পাঠানো হচ্ছে।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের ব্লাড ব্যাংকে দায়িত্বরত ডা. হুমায়রা আলিম মেডিভয়েসকে বলেন, তাদের হাসপাতালে রক্তের প্লাজমা ও প্লাটিলেট সেপারেশন ব্যবস্থা আছে। তবে এর জন্য টেকনিশিয়ান নেই। ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হওয়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্তের প্রয়োজনে আসা রিকুইজেশন পেপারে হৌল ব্লাডের চাহিদা বেড়েছে। এমনকি শুধু জুলাই মাসেই ৫০৬ ব্যাগ হৌল ব্লাড দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া হাসপাতাল ল্যাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে। এখন বিষয়টি কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে।

কিডনি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) মো. জাকারিয়া মৃধা মেডিভয়েসকে বলেন, এখানে ৩ জন স্টাফ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। ১ জন স্টাফের মেয়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছে। প্রতিদিন হাসপাতালের আসা রোগীদের মধ্যে ৮ থেকে ১০ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষার প্রয়োজন হচ্ছে। রোগীদের আইজিজি ও আইজিএম এন্টিবডি পরীক্ষায় গতকাল ৫০টি কিট আনা হয়েছে। ১০০টি এনএস ১ এন্টিজেন কিট সংগ্রহের জন্য বিএমএ ভবনের দোকান মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আব্দুর রাজ্জাক মেডিভয়েসকে বলেন, তাদের হাসপাতালের কয়েকজন ফার্মাসিস্টসহ কয়েকজন কর্মচারী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। কিটের জন্য দুই দিন করে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু বাজারে ডিভাইস না পাওয়ায় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা।

পঙ্গু হাসপাতালের প্যাথলজিস্ট কাজল মিয়া মেডিভয়েসকে বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য ওয়ান স্টপ সেন্টার খোলা হবে শুনেছেন তবে এখনো চালু হয়নি। চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক ডা. রুনা রেহানা মেডিভয়েসকে বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য একটি সেল খোলার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ বিষয়ে টেস্ট ডিভাইসের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। 

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার হেলাল উদ্দীন বলেন, ডেঙ্গু বিষয়ে রোগী ও স্বজনেদর সচেতন করতে সপ্তাহে দুইদিন করে সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে। তবে কোন সেল খোলা হয়নি। 

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের সেবায় প্রতিটা ওয়ার্ডে ২টা করে বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউটের একজন চিকিৎসক বলেন, সেল খোলার জন্য নিজেদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আমিনুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি মেডিভয়েসকে বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের পরীক্ষা ও সেবায় বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) মিডফোর্ড হাসপাতালে ১০০ বেড চালু করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিট ও গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে রোগী ভর্তি করা হবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ৩ লাখ ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট আনা হবে। সেখান থেকে বিশেষায়িত হাসপাতালসহ সব সরকারি হাসপাতালে ৫০ হাজার টেস্ট কিট সরবরাহ করা হবে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত