০২ অগাস্ট, ২০১৯ ১২:৩৬ পিএম

আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্ক নিয়ে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সরা

আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্ক নিয়ে কাজ করছেন চিকিৎসক-নার্সরা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সারাদেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু রোগ। সেইসঙ্গে আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। এ অবস্থায় সামান্য জ্বর হলেই হাসপাতালগুলোতে ছুটছেন শতশত মানুষ। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রোগী হিসেবে ভর্তি হতে, আবার কেউবা ডেঙ্গু রোগ হয়েছে কিনা পরীক্ষা করাতে। পরিস্থিতির ব্যাপকতা বোঝা যায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন দেখে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য মতে, বুধবার (৩১ জুলাই) সকাল ৮ থেকে বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৭১২ জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি হন ২২২ জন। এসব রোগীদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১৫০ জন ডেঙ্গু রোগী। এছাড়া ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভর্তি হয়েছেন ৫৬২ জন।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হবার ভয় এখন শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে হাসপাতালের ডাক্তার আর নার্সদের মধ্যেও। একরকম আতঙ্ক নিয়েই কাজ করছেন বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা। তাদের আশঙ্কা, কখন জানি নিজেই আক্রান্ত হয়ে যান মহামারি রূপধারী ডেঙ্গুতে। সম্প্রতি বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ চিত্র ফুটে উঠেছে। 

সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার এবং নার্সরা এখন বিপুল সংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রতি মুহূর্তেই রোগী আসছেন এসব হাসপাতালে। চোখে-মুখে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্ক নিয়ে কাজ করা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্স মনি আক্তার বলেন, আমরা নিজেরাও তো ভয়ে আছি। যেমন এই পেশেন্ট মশারি টানালো না। তাহলে কী হবে? মশা কামড় দিবে। তখন পাশের আরেকটি ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারে। এই যে আমরা কাজ করতেছি, সেজন্য আমরাও তো সেফ না।

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর পাঁচ চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনায় ভাবিয়ে তুলছে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের। সব হাসপাতালে রোগী ভর্তি হলেও সবচেয়ে বেশী রোগী ছুটছেন সরকারী হাসপাতালগুলোতে। এসব হাসপাতালে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। হাসপাতালের বারান্দায়ও রোগীদের ঠাই হওয়া মুশকিল।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের চিকিৎসক আইরিন নবী বলেন, সাধারণ আমরা একদিনে যত সংখ্যক রোগী দেখি, এখন তার তিনগুণ বেশী রোগী দেখতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা নিয়ে আমি নিজেও উদ্বিগ্ন। এখন আপনারাই জাস্টিফাই করবেন যে ডাক্তাররা আসলে কাজ করেন নাকি করেন না?

শুধু সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল নয়, তার কাছেই ঢাকা শিশু হাসপাতালেও একই চিত্র। এই হাসপাতালে ওয়ান-স্টপ সেন্টারের সাথে কথা বলে জানা গেল, প্রতিদিন প্রায় দেড়শোর মতো শিশুকে আনা হচ্ছে। তাদের বাবা-মা শিশুর শারীরিক অবস্থা বর্ণনা করে জানতে চান, শিশুটি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে কিনা?

শিশু হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, বিষয়টা যদিও আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর, তারপরেও তো আমাদের কাজ করতে হচ্ছে।

শিশু হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ সেন্টার থেকে জানানো হয়, প্রতিদিন যত শিশু আসছে তাদের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০টি শিশুর রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এই সন্দেহে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন শতশত মানুষ আসছেন ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে। ফলে রক্ত পরীক্ষার জন্য চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও স্টোর) ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, ডেঙ্গু রোগ নিয়ে পেনিক তৈরি হয়েছে। যে কারণে ডেঙ্গুর আতঙ্ক নিয়ে হাসপাতালে আসছে সুস্থ মানুষও।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, গতকাল ৪৬৫ জনের রক্ত নিয়ে এনএস-১ পরীক্ষা করার পর মাত্র ১৬ জনের ডেঙ্গু রোগের নমুনা পাওয়া গেছে। তাহলে এখানেই স্পষ্ট যে, ডেঙ্গু আক্রান্তের চেয়ে আতঙ্কই বেশি। পেনিকের কারণে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে মানুষ হাসপাতালে আসছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সামগ্রিক সুন্দর ব্যবস্থাপনায় ডেঙ্গুর রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে। আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানান তিনি।

ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, আমাদের ডেঙ্গু রোগ পরীক্ষায় কিট পর্যাপ্ত রয়েছে। ডেঙ্গু রোগী আসার যে রেশিও তা যদি চলতে থাকে তাহলে আমরা আরও দু-তিন মাস ডেঙ্গু রোগ পরীক্ষা কার্যক্রম সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারব।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত