৩১ জুলাই, ২০১৯ ০২:২০ পিএম

ডেঙ্গু শনাক্তকরণের রিয়েজেন্ট সংকট: আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ

ডেঙ্গু শনাক্তকরণের রিয়েজেন্ট সংকট: আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। দেখতে দেখতে প্রায় মহামারির রূপ নিয়েছে ডেঙ্গুজ্বর। শুরুতে রাজধানীকেন্দ্রিক হলেও ধাপে ধাপে বিস্তার ঘটিয়ে ডেঙ্গু এখন দেশে ৫০ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কিছুদিনের মধ্যে ডেঙ্গু শনাক্তকরণে এনএস১ পরীক্ষার রিয়েজেন্ট সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্খা করছে সংশ্লিষ্টরা। তবে সংকট মোকাবেলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ডা. সানিয়া তাহমিনা জানান, ডেঙ্গুর এনএস১ পরীক্ষার রিয়েজেন্ট সংকট কিছুদিনের মধ্যে দেখা দিতে পারে। তবে এ সংকট মোকাবেলার জন্য ইতিমধ্যে রিয়েজেন্ট আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে তা দেশে পৌঁছাতে পারে।

বুধবার সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির সর্বশেষ আপডেট জানাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য গতবছর ১০ হাজার কীট আনা হয়েছিল। এ বছর পূর্ব প্রস্তুতি হিসাবে ৪০ হাজার আনা হয়েছিল। কিন্তু সেটারও সংকট দেখা দিতে পারে এমন আশঙ্খায় আরও ৫০ হাজার কীট আনার জন্য ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে সেটা আসতে আসতে সপ্তাহ খানেক সময় লাগবে।

তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্তিম ভাবে রিয়েজেন্ট সংকট তৈরি করার জন্য পায়াতারা করছে, এমন তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মিলে যেকোন ভাবে এটা সামাল দেয়া হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, ডেঙ্গু শনাক্তকরণের কীট আমদানির বিষয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে ডায়াগনস্টিক রিয়েজেন্ট আন্ড ইক্যুয়েপমেন্ট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতারা জরুরি সভা করেছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালীর ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনটির নেতারা বর্তমানে বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবং ডেঙ্গু শনাক্তকরণের কীট আমদানির ওপর আরোপিত ট্যাক্স ও ভ্যাট মওকুফের অনুরোধ করেন। সেই সঙ্গে দুর্যোগকালীন সরাসরি কীট আমদানির সুবিধা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে অনুরোধ জানান।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, ডেঙ্গু কীট আমদানির জন্য ব্যাংক থেকে এলসি করলে বিদেশি ব্যাংক কর্তৃক গ্রহণ করতে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ সময় লেগে যায়। ফলে এ পদ্ধতিতে শিপমেন্ট পেতে ছয় সপ্তাহেরও বেশ সময় লাগে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের কীট আমদানির জন্য এতো বেশি সময় লাগলে, এর অভাবে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হবে। স্বল্প সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু কীট আমদানি করে সেগুলো বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরাসরি আমদানির সুবিধা প্রদানের অনুরোধ জানায় সংগঠনটি।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত