২৭ জুলাই, ২০১৯ ০৮:৫৮ পিএম

প্রতি বছর হেপাটাইটিসে মারা যাচ্ছে ২০ হাজার মানুষ

প্রতি বছর হেপাটাইটিসে মারা যাচ্ছে ২০ হাজার মানুষ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত, যাদের মধ্যে প্রায় এক কোটি লোক ক্রনিক হেপাটাইটিস-বিতে আক্রান্ত। হেপাটাইটিস-সি ভাইরাসে আক্রান্ত আরও প্রায় এক কোটি লোক। তাদের মধ্য থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই ভাইরাসজনিত লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে।

আগামীকাল রোববার (২৮ জুলাই) বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। এ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য আসুন খুঁজি লক্ষ অজানা রোগীদের

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে ফোরাম ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার বাংলাদেশ আয়োজিত এক আলোচনা সভার মূল প্রবন্ধে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)।

মূলপ্রবন্ধে ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) বলেন, ১৯৬৫ সালে অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীর রক্তে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস আক্রান্তের পর এখন পর্যন্ত বিশ্বে ৩৫ কোটি মানুষ এতে আক্রান্ত। এছাড় ১৭ থেকে ২০ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস-সিতে আক্রান্ত।

হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ দেশের স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে শুধু হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত ১০ শতাংশ লোকের চিকিৎসার জন্য বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ৭০ শতাংশ লোক অজ্ঞাত কারণে জন্ডিসে আক্রান্ত হচ্ছে। ১০ শতাংশ লোক প্রাপ্তবয়স্ক আর প্রায় ৯০ শতাংশ হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত হন। তাদের লিভারে স্থায়ী সমস্যা তৈরি হয়।

তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ হেপাটাইটিস-বি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিওএইচও) নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করেছে।  পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে হেপাটাইটিস-বি সংক্রমণের হার শতকরা এক ভাগের কম হলে সেই দেশকে হেপাটাইটিস বি নিয়ন্ত্রিত বলে ঘোষণা দেয় ডব্লিওএইচও। সেদিক থেকে বাংলাদেশ সফলতা অর্জন করেছে।

ডা. স্বপ্নীল বলেন, বিশ্ব বাজারে হেপাটাইটিস-বি’র প্রতিরোধক ভ্যাকসিন থাকলেও বাংলাদেশে ছিল না। ফলে বাইরের ভ্যাকসিন বেশি দামে কিনতে হতো। তবে ন্যাসভ্যাক নামে একটি ওষুধ তৈরি হয়েছে, যার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং যেটি অত্যন্ত কার্যকরি।

তিনি বলেন, আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের ১০ শতাংশ মানুষই জানেন না যে তারা হেপাটাইটিস-বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত। ফলে আমাদের অবশ্যই উচিত প্রতি বছর রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এসব ভাইরাসে আছে কি না তা যাচাই করা।

তবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ অনেক পথ এগিয়েছে বলেও জানান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল। এছাড়া এসডিজির পূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিপিএম ডা. শ ম গোলাম কায়সার বলেন, সাস্থ্য সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। হেপাটাইটিস ভাইরাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে ‘বি’ ও ‘সি’। এটা নির্মূলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে সেবা দেয়া হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ মুক্ত দেশ গড়ার জন্য সরকার সব ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এজন্য সবাইকে সচেতনতার সঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুল, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আলী শিকদার, অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের হেপাটাইটিস ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. প্রদীপ ভৌমিক ও সাধারণ সম্পাদক দিবাকর দেবনাথ প্রমুখ।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি