ঢাকা      বৃহস্পতিবার ২২, অগাস্ট ২০১৯ - ৭, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

সামরিক বাহিনী পরিচালিত বাংলাদেশের অন্যতম মেডিকেল কলেজ

আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ

মেডিভয়েস ডেস্কঃ বিশব্যাপী চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশের চিকিৎসা শিক্ষাও এগিয়ে চলেছে। একঝাঁক সুশৃঙ্খল, কর্মচঞ্চল ও ত্যাগী মনোভাব সম্পন্ন চিকিৎসক তৈরীর লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ। সমর এবং শান্তিতে আর্মি মেডিকেল কর্পস বা সেনা চিকিৎসা দলের প্রয়োজনীয়তাবোধ থেকেই মূলত উক্ত মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনী এলাকায় হোটেল রেডিসন ব্লূ ওয়াটার গার্ডেনের মুখোমুখি, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পাশে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি। এটি ‘‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস” এর সাথে সংযুক্ত। মেডিকেল কলেজ হিসেবে এটি তিনটি হাসপাতালের সাথে যুক্ত। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (CMH), আর্মড ফোর্সেস ইনষ্টিটিউট অব প্যাথলজি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট (AFIP)  এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। 
মেডিকেল জীবনের একটা প্রধান বৈশিষ্ট্য হল শৃংখলা। আর সেই শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার একটি সুন্দর মেলবন্ধন ঘটেছে দেশের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত প্রথম মেডিকেল কলেজ, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজে। কলেজটি সবেমাত্র কৈশোরে পদার্পণ করেছে। তবে এর মধ্যেই অসাধারণ দক্ষতার সাথে বেশকিছু যোগ্য, দক্ষ এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠাবান ডাক্তার তৈরীতে সফল হয়েছে এটি। এখান থেকে পাশ করার পর অনেকেই উচ্চশিক্ষার্থে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছেন। যারা আর্মি মেডিকেল কোরের সদস্য তারা সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছেন। কলেজটির অধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল নাসির উদ্দিন।

কলেজে ভর্তি পদ্ধতিঃ
 এখানে দু ধরনের ক্যাডেট রয়েছে-AMCএবং AFMC ক্যাডেট।AMC ক্যডেটদেরকে ISSB পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হতে হয় এবং তাদের জন্য আর্মিতে যোগদান করা বাধ্যতামূলক। তবে AFMC’র ক্ষেত্রে এ ধরণের বাধ্যবাধ্যকতা নেই। দু ধরনের ক্যাডেটদেরই ডরমেটরীতে থাকা বাধ্যতামূলক। কলেজে সব রকম আধুনিক সুযোগ-সুবিধাই রয়েছে। 
এ কলেজটির শিক্ষাক্রম অন্যান্য সরকারী মেডিকেল কলেজের মতই। তবে এর পরীক্ষা আলাদাভাবে ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস’ এর অধীনে সম্পন্ন হয়। ১৯৯৯ সালে প্রথম ব্যাচে ৫৬ জন ছাত্র ভর্তির মাধ্যমে শুরু হয়ে এ যাবৎ ১৫ ব্যাচে ৯৯৬ জন ছাত্রছাত্রী শিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছে যার মধ্যে ১০ টি ব্যাচ ব্যাচেলর ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে। সম্পূর্ণ সামরিক আদলে গড়া মেডিকেল কলেজটির সপ্তাহ শুরু হয় রবিবার সকালে Drill এর মাধ্যমে (সকাল ৭.৩০) এরপর ক্লাস চলে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত। সন্ধ্যায় থাকে Ward.
বাকি দিনগুলো অন্যান্য মেডিকেলের মতই শুধু মঙ্গলবার বিকেলে Games এবং বৃহস্পতিবার সকালে PT থাকে। মেডিকেলের একঘেঁয়ে জীবনের মাঝেও মাঝে মাঝেই বিভিন্ন উৎসবের উপলক্ষ স্বাদের ভিন্নতা এনে দেয়। নানামুখি সহপাঠ্যক্রম কর্মসূচিতেও প্রতিষ্ঠানটি যথেষ্ট অগ্রসর। 
কলেজটিতে বর্তমানে আসন সংখ্যা ১২৫টি। AMC ক্যাডেট প্রতি ব্যাচে ৪০ জন বাকী ৮৫ জন AFMC ক্যাডেট। সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীর সদস্যদের পোষ্যদের জন্য কোটা রয়েছে। এর বাইরে যে কেউ ভর্তি হতে পারে।  সামরিক খাতে ক্যারিয়ার করতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য AFMC হতে পারে সুন্দর একটি সুযোগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


ক্যাম্পাস বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

চলে গেলেন ডা. আবু তারেক বাবু

চলে গেলেন ডা. আবু তারেক বাবু

মেডিভয়েস রিপোর্ট: গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা.…

এবার ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসক লাঞ্ছিত 

এবার ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসক লাঞ্ছিত 

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডেটল পয়জনিংয়ের এক শিশুকে ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলায়…

বিসিপিএসের অনারারি চিকিৎসকদের ভাতা প্রদানে বরাদ্দ ১ কোটি টাকা

বিসিপিএসের অনারারি চিকিৎসকদের ভাতা প্রদানে বরাদ্দ ১ কোটি টাকা

মো. মনির উদ্দিন: বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা…

ঢাকা মেডিকেলে দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ২০

ঢাকা মেডিকেলে দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ২০

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রিপোর্ট নেয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দুপক্ষের…

বিএসএমএমইউতে ঈদ পুনর্মিলনী

বিএসএমএমইউতে ঈদ পুনর্মিলনী

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)।…

চিকিৎসকদের ঝুঁকি ভাতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া দরকার

চিকিৎসকদের ঝুঁকি ভাতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া দরকার

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে একুশে পদক বা স্বাধীনতা পদকে ভূষিত…

আরো সংবাদ
























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর