ডা. তাইফুর রহমান

ডা. তাইফুর রহমান

কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি

জেনারেল হাসপাতাল, কুমিল্লা।


২৬ জুলাই, ২০১৯ ০২:৩৯ পিএম

ডেঙ্গু রোগের কসাই ডাক্তার!

ডেঙ্গু রোগের কসাই ডাক্তার!

ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে সোজা আমার বাসায় এসে উঠেছে মুনির। মামা ডাক্তার, তাই ডেঙ্গু সামলানোর দায়িত্বও তার। অযথা হাসপাতালে থেকে টাকা খরচ আর সবার পেরেশানি করে লাভ কি! শুধু ক্লোজ অবজারভেশন। এটা বাসায়ই সবচেয়ে ভালো হবে। মুনিরের মাও এসে উঠেছে বাসায়।

মুনির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, হলে থাকে। বেশ চটপটে। সারা বিশ্বের সমস্ত জ্ঞান, বিজ্ঞান, সাহিত্য, দর্শন তার নখদর্পনে। ইদানীংকালে তার সবচেয়ে বড় দর্শন হলো ডাক্তাররা কসাই। ইনিয়ে বিনিয়ে সারা পৃথিবীর ডাক্তাররা কত মহৎ সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা করে, তারপর বাংলাদেশের ডাক্তারদের পোস্টমর্টেম করে।

এখন অবশ্য একদম চুপসে গেছে। কিছুটা জ্বরে, কিছুটা ভয়ে। তার অতি প্রিয় ক্রিকেট খেলাটাও এখন দেখছেনা। তার মতে দুনিয়াতে আনন্দ দেয়ার সর্বোত্তম উপলক্ষ হচ্ছে ক্রিকেট খেলা। আনন্দে থাকলে মানুষের রোগ-শোকও কম হয়। তাই ডাক্তারের চাইতে খেলোয়াড়ই বেশি দরকারি।

আমি এখন শ্যাম রাখি না কূল রাখি? ঘর দেখবো নাকি আত্মীয় দেখবো? আমার নিজের চিন্তা বাদই দিলাম। বাচ্চাদের চিন্তা কিভাবে বাদ দেই? মশা দেখবো না মানুষ দেখবো? মশা মারার সমস্ত আয়োজনে ঘর এখন আতুরঘর। তবুও হঠাৎ হঠাৎ কানের কাছে মশার শব্দ পাই। আতঙ্কে চারদিকে তাকাই। কখনো কখনো খুঁজেই পাইনা।

হ্যলোশিনেশন, ইল্যুশন আমার স্বত্বায় ভর করেছে। মশা দেখতে পেলেতো লংকা কান্ড। মারতে পারি আর না পারি মশা যেন অন্তত রোগীর ধারে কাছে যেতে না পারে। ওখানে গেলেই তো এক কামড়ে নিয়ে আসবে মারনাস্ত্র। মনের দুঃখে গান গাই, ঐখানে যেওনাকো মশা, বসোনাকো তার গায়। আর যদি তার গায়ে বসেই যায় সে যেন ফিরে না আসতে পারে কারো কাছে।

শেষমেশ আমার পরিবার পরিজনকে পাঁচ দিনের জন্য পাঠিয়ে দিলাম তাদের বাবা, নানার বাড়ি। এবার আমি নির্ভার। আমার জীবনতো ডাক্তারের জীবন। এ জীবনতো পুরো বিশ্বেই অরক্ষিত। হাসপাতালের প্রতিটা ডেঙ্গু রোগীর শরীরে থাকা মিলিয়ন মিলিয়ন ভাইরাস আমার দিকে তাকিয়ে খিলখিল করে হাসে সারাক্ষণ। আমি ভাবলেশহীন, মৃত্যুর দায়ে মিটাই জীবনের ঋণ।

জানি, তারপরও আমি কসাই! মুনির সুস্থ হয়ে চলে যাওয়ার সময় হয়তো বলে যাবে কসাই মামা আরেকটু যত্ন নিলেও পারতেন।

ইতিমধ্যে চারজন ডাক্তার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, মারা গেছে ডাক্তারের বাচ্চা। 

এদিকে সেমিনার সিম্পোজিয়াম চলছে, আমাদের কিছু অবিভাবক অফিস কামাই দিচ্ছেন, কেউ কেউ মশারী গায়ে অফিস করছেন, ভদ্র পুরুষ মশারা আসছে সূদুর বিলাত থেকে, মশাদের জন্মনিয়ন্ত্রণের রসালো প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হচ্ছে। মশারা মনের আনন্দে উড়ে বেড়াচ্ছে উত্তর থেকে দক্ষিণে, দক্ষিণ থেকে উত্তরে। নন ডাক্তার গবেষক দল ছুটে বেড়ায় দেশ থেকে দেশান্তরে।

আমি ডাক্তার, গালে হাত দিয়ে বসে আছি, মশা মারি, উত্তর আর দক্ষিণের সীমানায়।

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না