ডা. সাঈদা ইসলাম

ডা. সাঈদা ইসলাম

চিকিৎসক ও লেখক    


২৫ জুলাই, ২০১৯ ১২:২৬ পিএম

ব্যবস্থাপত্রের ব্যবস্থাপনা

ব্যবস্থাপত্রের ব্যবস্থাপনা

কেন ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশনের ওষুধ রোগীদের বুঝিয়ে দেন না -এই নিয়ে রোগীদের মধ্যে যেমন বিস্তর অভিযোগ, তেমনি ডাক্তাররা নিজেরাও একে অপরের দিকে আয়েশ করেই আঙ্গুল তুলেন। নিজেদের অবস্থানটা তুলে ধরার আগে ছোট্ট করে যেই বিদেশ বিদেশের ফেনা মুখে তুলেন তার একটা চিত্র দেখাই।

শুধু ওষুধ প্রেসক্রাইব আর বিতরণে হাত লাগে তিনজনের। প্রথম হলো ডাক্তার, যিনি ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন আর আমাদের ডাক্তারদের মতোই অল্প-বিস্তর বুঝিয়ে দেন। বুঝানোর সুযোগ সময় সব কিন্তু নিয়ম মাফিকই বেশী হয়েছে। কিভাবে হয়েছে একটু পরে বলছি।

এরপর ওষুধ কিনতে হলে সেই প্রেসক্রিপশন যায় একজন ফার্মাসী টেকনিশিয়ানের কাছে। এই পদ কমিউনিটি হাসপাতালেও আছে। উনারও গর্ভমেন্ট লাইসেন্স লাগে, লাইসেন্স ছাড়া উনি যত বড় বিদ্বানই হন না কেন অচল। একজন ফার্মাসী টেকনিশিয়ান ফার্মাকলজিও খানিকটা পড়েন, এরপর রোগী ড্রাগ কতটুকু পাবে সে হিসাবও অল্প-অল্প শেখা লাগে, কোন ঔষধ "ওভার দ্যা কাউন্টার ড্রাগ" মানে প্রেসক্রিপশন ছাড়া দিতে পারবেন কোন ঔষধ পারবেন না, ডিসপেনসারিটা কিভাবে সাজবেন, কোন ঔষধ কোন সিস্টেমের উপর কাজ করে, কোন প্রেসক্রাইব মেডিসিন কিংবা এর ডোজ নিয়ে সন্দেহ হলে কি করবেনসহ অনেক কিছু পড়েই একটা এসোসিয়েট সমমানের ডিগ্রী অর্জন করতে হয়।

তৃতীয় হলো ফার্মাসিস্ট। ব্যাচলর ডিগ্রী মাস্ট কমপ্লিট করা লাগে। ফার্মাসী টেকনিশিয়ান তার কাজ করার পর ফার্মাসিস্টের প্রধান দায়িত্ব হলো উনার সবকিছু রিচেক করা, কোন বিষয়ে সন্দেহ হলে ডাক্তারের সাথে কনসাল্ট করা, ঔষধ সম্পর্কে রোগীকে যাবতীয় দিক নির্দেশনা দেওয়া-ডোজ, পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া, সতর্কতা ইত্যাদি। এটা বিদেশে আমার দেখা ওষুধ বিতরণের একেবারে সংক্ষিপ্ত অর্গানোগ্রাম।

এতো চালুনী দিয়ে চাললে এক দুইটা ময়লা থাকলে আটকা পড়াটাই স্বাভাবিক নয় কি? এক ভুল তো আর তিনজনই করবেন না।

এবার আসি নিজের দেশের কথায়। নিজের দেশে ডাক্তার বানের পানির মতো সহজলভ্য, যখন ইচ্ছা দেখালেন যেদিন ইচ্ছা দেখালেন; বিদেশে খালি এই দেখাদেখি পর্বের ডেইট ফিক্সড করতে খবর হয়ে যায়। এতো সহজলভ্যতা আর রেফারেল সিস্টেম না থাকার কারণে কেউ কেউ রাত দুটা তিনটা পর্যন্ত রোগী দেখেন। এই দোষ যেমন আমার কিংবা আমার স্বজাতীর তেমনি আপনারও।

মুখে একটা ব্রুণ উঠছে প্রফেসার ছাড়া আপনার যেমন মন খোশ হয় না, আরেকজনেরও তাই। তাহলে ঐ প্রফেসার যদি আপনারে ঔষধ বুঝানো শুরু করেন, অর্ধেক কেন সমস্ত রাতেও রোগী দেখা শেষ হবে না। আর আমার স্ব-জাতীর দোষ হলো, তাদের কাউকে এ পর্যন্ত বলতে শুনি নাই- "আপনাকে আমি দেখবো না, আপনি আগে ছোট ডাক্তার দেখিয়ে আসেন, দরকার বোধে সেই আপনাকে আমার কাছে পাঠাবে।"

এই রেফারেল সিস্টেম যে রোগীকে ঔষধ বুঝানোর ক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্ট, তা আপনি ছোট ডাক্তারদের চেম্বারে গেলেই বুঝবেন। রোগী কম, সময় অফুরন্ত ঔষধপত্র বুঝিয়ে দিয়ে খোশগল্পও করেন তারা। হিসাব সহজ, মেহমান যত ইমপোর্টেন্টই হোক না কেন, সংখ্যায় বেশী হলে আপ্যায়নে ঘাটতি থাকবেই। (সব বড় ডাক্তার কিন্তু এক কাতারের নন, কিন্তু বেশীরভাগই এমন)।

আমার দেশে রোগী দেখার সংখ্যা লিমিট করা, লম্বা গ্যাপে এপোয়মেন্ট নিয়ে রোগী দেখানো, রেফারেল সিস্টেম ডেভেলপ করতে হলে কয় যুগ লাগবে সেটা ভাবতেও অবসাদ লাগে। (দুই এক জায়গায় হয়তো আছে, বাট পুরো দেশ এখনো গতানুগতিক)। আর মেডিকেল কলেজ আউটডোর গুলোতে কিংবা উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স গুলোতে রোগীর যে প্রেসার থাকে সেখানে ঔষধ বুঝাতে গেলে বাইরের গ্যান্জাম এই জীবনে শেষ হবে না। আর এমএলএসএস আপনারে যেই তাড়া দিবে মনে মনে নিজেরেই অদক্ষ আর অকর্মাণ্য মনে হবে।

এবার আসেন ফার্মাসিস্ট এর ব্যাপারটায়। উনারা তো আরও মস্ত বড় ডাক্তার! প্রেসক্রিপশনে কোন একটা অক্ষর এদিক সেদিক হলেই ডাক্তারের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করে নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে ঔষধ দিয়ে দেন। হয়তো দেয়া আছে পেট খারাপের ওষুধ, দিয়ে দেয় মাথাব্যাথার ওষুধ। মেডিসিন বিষয়ে শিক্ষার তো আর বলি হারি। একমাত্র এন্টিবায়োটিক দেয়ার ব্যাপারে এরা নিজস্ব একটা গাইডলাইন তৈরী করে রেখেছে। কি ওষুধে কি হয় না হয় এসব জানার দরকার আছে নাকি! এসব ডাক্তারের কাজ, পড়াশুনা করা। উনি যে দয়ার শরীর নিয়ে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন দেখে ঔষধ প্যাকেট করে দিচ্ছেন এই তো বেশ। কোথায় কোন ঔষধ রাখবে, কোন ঔষধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া দেয়া যাবে না আদালতে গিয়েই এসবের সমাধান হয় না আর এমনি, তাহলে তো আর হইছিলোই!

এ দেশের বেশীর ভাগ ফার্মাসী চলে -কোন ফার্মাসীতে এক-দেড় বছর কাজ করছে, এমন লোক নিজেরা নতুন ফার্মেসী খুলে মালিক হইছে তাদের দিয়ে। এরা ওষুধের নাম চিনেই নামের আগে ডাক্তার লাগিয়ে ডাক্তার হয়ে বসে আছে। এদের কাছে পাবেন ড্রাগের কাউন্সিলিং! আমি আসলে জানি না আমার সোনার বাংলায় একটা ফার্মাসী চালু করা কিংবা তা মেইনটেইন করার কোন প্রটোকল আছে কিনা? যদি থেকেই থাকে তবে এই ফার্মেসীগুলো কি সত্যিই ফার্মেসীর ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল করে চলছে, না বহাল তবিয়তের পেছনে অন্য কোন কলকাঠি?

ঔষধের কাউন্সিলিং এখন পর্যন্ত রোগী যা পায় এর চেয়ে বেশী পেতে হলে আসলে পানিটা গোঁড়াতে ঢালা লাগবে আগায় না।উপরে যা যা বললাম সব আস্তে আস্তে ঠিক না করলে রোগীকে প্রেসক্রিপশনের ঔষধ বুঝানো পড়ানোর দায়টা আসলে দায়সারাভাবেই সারতে হবে আর নীতিকথা মুখ থুবড়েই পরে থাকবে।

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না