ঢাকা      মঙ্গলবার ২০, অগাস্ট ২০১৯ - ৫, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

ডেঙ্গু জ্বরে ব্যয়বহুল প্লাটিলেট নিয়ে শঙ্কিত সাধারণ রোগীরা

মুন্নাফ রশিদ: ডেঙ্গু প্রতিরোধে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ডেঙ্গু ভাইরাস বাহিত এডিস মশা নিধনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনও নিয়েছে নতুন সব উদ্যোগ। এডিস মশা পুরোপুরি নিধন যতটা কষ্টসাধ্য, ঠিক তেমনই সহজ নয় এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া। তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন, ডেঙ্গু রোগের সেবা সাশ্রয়ী এবং সহজ করা দরকার।

সরেজমিনে বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে ও খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ঢাকার সরকারি অথবা বেসরকারি প্রতিটি হাসপাতালেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়েই চলেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। যা ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশেই।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, সেখানে ওয়ার্ড গুলোর মধ্যে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও নির্দিষ্ট কোনও চার্ট নেই হাসপাতালগুলোতে। ফলে যে যার মতো করে ফি নিচ্ছেন। নিম্নবিত্ত লোকদের জন্য যা কষ্টসাধ্য।

রাজধানীর বিভিন্ন হাসাপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীর রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। ফলে ডোনারের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহ করার পর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা থেকে আলাদাভাবে প্লাটিলেট সংগ্রহ করে রোগীকে বাঁচাতে হচ্ছে। তবে মৃতের সংখ্যা কম হলেও ডেঙ্গু আতঙ্ক কাটছেই না।

এছাড়া হেমোরেজিক শকড সিন্ড্রোমের ফলে রক্তনালীগুলোর ছিদ্রোগুলো বড় হয়ে রক্তের জলীয় উপাদান রক্তনালী থেকে বের হয়ে ফুসফুসসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে চলে যাচ্ছে। ফলে ডেঙ্গু রোগীর হাত-পা ফুলে যাচ্ছে। যা মৃত্যু ঘটার অন্যতম কারণ।

রোগীর স্বজনরা বলছেন,প্লাটিলেট সংগ্রহ করতে বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু আক্রান্ত একজন রোগীর স্বজন এস এম মামুন বলছিলেন, প্লাটিলেট যেমন পর্যাপ্ত না তেমনই ব্যয়বহুল। এক ব্যাগ প্লাটিলেট পেতে চার জন রক্তদাতা লাগছে। আর এই এক ব্যাগ প্লাটিলেটের জন্য গুনতে হচ্ছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। আমাদের অনেকের জন্যই যা জোগাড় করা খুবই কষ্টসাধ্য।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু জ্বরের জন্য হাসপাতালে নির্দিষ্ট কোনও কেন্দ্র নেই এবং বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য খরচও বেশি। এটা সহজ হলে ভালো হতো।

ডেঙ্গু থেকে সদ্য পরিত্রাণ পেয়েছেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী শাকিল। তিনি মেডিভয়েসকে বলেন, সবার মতো আমার শরীরেও প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। তবে কেনার প্রয়োজন হয়নি। যখন কমে যাচ্ছিল তখন বেশ চিন্তায় ছিলাম। এতো টাকা দিয়ে কেনার সাধ্য ছিল না। তাই ভাবছিলাম সরকার অথবা অন্য কেউ যদি সহযোগিতা করতো তবে ভালো হতো। তবে সেটার প্রয়োজন হয়নি।

এ ব্যাপারে বিশিষ্ট হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল মেডিভয়েসকে বলেন, ডেঙ্গু সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে, ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু ফিভার এবং ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার। এর মধ্যে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার আবার দুই ধরনের। একটি শকড সিন্ড্রোম আর অন্যটি শকড সিন্ড্রোম ছাড়া। সাধারণত শকড সিন্ড্রোমের কারণে মারা যাওয়ার আশংকা থাকে।

তিনি বলেন, মূলত এর প্রভাবটা পূর্বে যাদের ডেঙ্গু হয়েছিল তাদের ক্ষেত্রে বেশি হয়। কেননা পূর্বের ডেঙ্গুর কারণে সেই অ্যান্টিবডি শরীরে কিছুটা রয়ে যায়। পুনরায় ডেঙ্গু হলে আগের এন্টিবোডির সাথে নতুন এন্টিজেনের সঙ্গে একটি প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। যার ফলে রক্তনালীগুলোর ছিদ্রগুলো বড় হয়ে যায়। তখন রক্তের জলীয় উপাদানটা রক্তনালী থেকে বের হয়ে ফুসফুসসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে অবস্থান করে। হাত-পা ফুলে যেতে থাকে। যা খুবই মারাত্মক।

স্বাভাবিকভাবে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ হয়ে থাকে।তবে রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়াটাকে সহজে নেয়ার কথা বলেন ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল।

তিনি বলেন, এটি বেশি ভয়ঙ্কর না। এর চেয়ে প্লাজমা লিকেজটা বেশি খারাপ। শরীরে প্লাটিলেটের সংখ্যা দশ হাজারের নিচে নামলেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে আমাদের দেশে এটার অপব্যবহার হচ্ছে। যা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।

ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ডেঙ্গু শনাক্তে প্রথমেই এনএস১ পরীক্ষা করতে হয়। যেটা বেসরাকরি হাসপাতালে ন্যুনতম ১ হাজার ২০০ টাকা লাগে। তবে বেশিও নিচ্ছে অনেকে। এই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে যেন কম খরচে এবং ভোগান্তি ছাড়াই করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারে উচিত বিনামূল্যে অথবা এটাকে অত্যন্ত সহজ করে দেয়া।

প্রয়োজনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি হাসপাতালে সরকারের একটি নিজস্ব বুথ রাখার পরামর্শ দিলেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

তিনি আরও বলেন, ওই নিজস্ব বুথে শুধু ডেঙ্গু রোগীদের সার্ভিস দেয়া হবে।স্বাস্থ্যকর্মী বাসায় পাঠিয়ে কোনও লাভ নেই। যেখানে স্পেশালিস্ট চিকিৎসকদেরই বুঝে উঠতে কষ্ট হয়, সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীরা কী করবে?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা মেডিভয়েসকে বলেন,ডেঙ্গু রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষা, নির্দিষ্ট বুথে সেবা প্রদানসহ সাশ্রয়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ভালো উদ্যোগ। এ বিষয়ে আমি অবগত হলাম। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট শাখাকে অবহিত করার কথা বলেন তিনি।

এছাড়া প্লাটিলেটের ক্ষেত্রে যে অপব্যবহার হচ্ছে সেটাও নিয়ন্ত্রণ করা দরকার বলে মনে করেন অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলের ডা. নাঈম আর নেই

ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলের ডা. নাঈম আর নেই

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ফিজিওলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ…

চিকিৎসকদের জন্য বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

চিকিৎসকদের জন্য বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

মেডিভয়েস ডেস্ক: দেশের চিকিৎসা সেবাকে এগিয়ে নিতে সরকার সবধরনের উদ্যোগ নেবে বলে…

ফার্মেসি ব্যবসায়ীর পছন্দের ওষুধ না লেখায় চিকিৎসক লাঞ্ছিত

ফার্মেসি ব্যবসায়ীর পছন্দের ওষুধ না লেখায় চিকিৎসক লাঞ্ছিত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসক লাঞ্ছিত যেন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়তই হামলার…

ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজধানীতে এসে ডেঙ্গুতেই প্রাণ গেল স্বাস্থ্য সহকারীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজধানীতে এসে ডেঙ্গুতেই প্রাণ গেল স্বাস্থ্য সহকারীর

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি আদেশে ঢাকা এসে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন…

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ফিরেছেন লাশ হয়ে

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ফিরেছেন লাশ হয়ে

মেডিভয়েস ডেস্ক: ভারতের কলকাতায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরতে হলো মইনুল…

ডেঙ্গুজ্বরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সহকারী রেজিস্ট্রারপুত্রের মৃত্যু

ডেঙ্গুজ্বরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সহকারী রেজিস্ট্রারপুত্রের মৃত্যু

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর