১৯ জুলাই, ২০১৯ ০১:০২ পিএম

রোগীকে অতিরিক্ত ওষুধ দেয়া ঠেকাতে আসছে ভ্রাম্যমাণ আদালত

রোগীকে অতিরিক্ত ওষুধ দেয়া ঠেকাতে আসছে ভ্রাম্যমাণ আদালত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রোগীকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ওষুধ দেয়া ও ডাক্তারদের লেখা প্রেসক্রিপশনের অস্পষ্টতা ঠেকাতে কাজ করবে ভ্রাম্যমান আদালত। একই সঙ্গে রোগী এবং চিকিৎসকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অল্প সময়ের মধ্যে তারা একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালযয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, সারাদেশে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তারা সব বিষয়গুলোর তদারকি করা হবে।

বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব বাবলু কুমার সাহা বলেন, রোগীকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ওষুধ দেয়া ও প্রেসক্রিপশনের অস্পষ্টতার বিষয়ে মাননীয় মন্ত্রী সকল জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমেও বিষয়গুলো তদারকি করা হয়।

এসব ব্যাপারে মনিটরিংয়ের কোন ব্যবস্থা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডাক্তারদের এ ধরণের নির্দেশনা আমরা দিয়ে থাকি, যাতে রোগীর ওপর বারডেন বা চাপ না হয়। যে ঔষধটি তাকে দেয়ার কথা, সেটিই যেনো দেয়া হয়। ইভেন অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে একটা কথা হচ্ছে, হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। সে ব্যাপারেও আমরা নির্দেশ দিয়েছি যে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা যাবে না।

বাবলু কুমার সাহা বলেন, স্বাস্থ্য সেবা এবং সুরক্ষা নামের একটি আইন প্রক্রিয়াধীন আছে। এটি আমরা মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে পাঠিছিলাম। তারা কিছু বিষয়ে সংশোধনীর জন্য ফেরত পাঠিয়েছে। আমরা সেগুলো সংশোধন করে এখন দ্রুত আবার ভেটিং এর জন্য পাঠানোর চেষ্টা করছি। এ আইন পাস হলে রোগী এবং চিকিৎসক উভয়েরই নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এসব আইনের খসড়ায় কিছু বিষয়ে চিকিৎসকদের সংগঠনগুলো আপত্তি ছিল এবং সেগুলো নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) একজন কর্মকর্তা ডা. জামালউদ্দিন বলেন, প্রয়োজনের বেশি ঔষধ দেয়ার বিষয় এলে, তখন নৈতিকতার প্রশ্ন আসে। এসব বিষয়ে কোন অভিযোগ না এলে তাদের এসোসিয়শনের কিছুই করার নেই। তিনি বলেন, অনেক সময় ডাক্তার একটা বা দুইটা ওষুধ লিখলে, তাতে রোগীরা সন্তুষ্ট হতে চায় না। তারা মনে করে কি ডাক্তার যে কম ওষুধ দিল। এমন অভিজ্ঞতা আমার আছে। ফলে বেশি ওষুধ লেখা- এটা দুই দিকেই সাইক্লোজিক্যাল একটা বিষয়ও থাকে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক মালিহা রশিদ বলছিলেন, অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগ চিহ্নিত করার পরই সে জন্য সুনির্দিষ্ট ওষধই দিয়ে থাকেন। রোগটা যখন চিহ্নিত করা যায়, তখন ঐ রোগের সুনির্দিষ্টভাবে চিকিৎসা করাটাই আমি ভাল মনে করি।এছাড়া যারা অভিজ্ঞ ডাক্তার, তাদের প্রেসক্রিপশনের সাইজ অত বড় করার কারণ নেই।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রেসক্রিপশনে লেখার অস্পষ্টতার বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। আদালত চিকিৎসকদের স্পষ্ট এবং পড়ার উপযোগী করে প্রেসক্রিপশন বা ব্যবস্থাপত্র লিখতে বলার পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে তা তদারকি করতে বলেছিল।

সূত্র: বিবিসি

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত