১৮ জুলাই, ২০১৯ ০৬:৩৮ পিএম

‘লিভার দানে মা আমাকে নতুন জীবন দিয়েছেন’

‘লিভার দানে মা আমাকে নতুন জীবন দিয়েছেন’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডা. মিল্টন মিলনায়তনে সবার দৃষ্টি ২০ বছর বয়সী সিরাতুল ইসলাম শুভর দিকে। কিন্তু তিনি কথা বলতে পারছেন না। কান্নায় সিরাতুলের কণ্ঠ ভারি হয়ে গেছে। কাঁদছেন ছেলে, কাঁদছেন মা। এ কান্না কষ্টের বিপরীতে নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার আনন্দে।

লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত ২০ বছর বয়সী সিরাতুল ইসলাম শুভকে লিভারের একাংশ দান করেন গর্ভধারিণী মা। সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠেছেন সিরাতুল। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএসএমএমইউ ডা. মিল্টন মিলনায়তনে সেই অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন সিরাতুল।

এ সময় বাবা, ভাই-বোনসহ পরিবারের সকলকে ধন্যবাদ জানায় সিরাতুল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার আরও চার ভাইবোন রয়েছেন। আমার এক বোন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। আমাকে লিভার দানের জন্য সেও প্রস্তুত ছিল।’

চোখ মুছতে মুছতে কিশোগঞ্জ জেলার ভৈরবের সিরাতুল ইসলাম শুভ ভারি কণ্ঠে বলছিল, ‘পরিবারের কেউ মাকে লিভার দানে বাধা দেয়নি। তারা তো ইচ্ছে করলে মাকে নিষেধ করতে পারতেন। মা যে আমাকে লিভার দিবে এতে তারা কেউই কোনো ধরনের সমস্যা করেনি।’

বলেন, ‘লিভার দিয়ে মা আমাকে নতুন জীবন দান করেছেন। তার জন্য আমি জীবন ফিরে পেয়েছি। আর চিকিৎসকরা খুব বিনয়ের সাথে আমার চিকিৎসা করেছেন। 

নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার আনন্দে সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বিএসএমএমইউ ভিসি, লিভার প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেয়া হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার রহমান খানসহ সব চিকিৎসকের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

কিন্তু এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি যা নাম স্মরণ করছিলেন তিনি হলেন ডা. সাঈদ। তিনিই মূলত সিরাতুলকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি ও অস্ত্রোপচারের সুযোগ করে দেন।

এ সময় সিরাতুলের মা রোকসানা বেগমও অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। এই রোগের চিকিৎসার আভাবে আর যেন কেউ মারা না যায়, সে জন্য অনুরোধ করেন মা রোকসানা বেগম।

একই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএসএমএমইউর নার্সসহ চিকিৎসক দলের প্রতি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি। বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান ডা. সাঈদের প্রতি।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়। ওইদিন, ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত লিভার প্রতিস্থাপনের কার্যক্রম চলে। বিএসএমএমইউর হেপাটোবিলিয়ারি ও প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার রহমান খানের নেতৃত্বে বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ডবয়সহ প্রায় ৬০ জনের একটি দল এই কার্যক্রমে সেদিন অংশ নেয়।

এই চিকিৎসক টিমকে সহায়তা করেন ভারতের অভিজ্ঞ লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ডা. পি বালাচন্দ্র মেনন ও তার চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ টিম।

অধ্যাপক জুলফিকার রহমান খান বলেন, বিএসএমএমইউতে এটি প্রথমবারের মতো লিভার ট্রান্সপ্লান্ট, যা আমরা সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি প্রথম লিভার প্রতিস্থাপন হলেও দেশের ইতিহাসে এটি পঞ্চম। এর আগে ল্যাবএইড ও বারডেম হাসপাতালে চারজন রোগীর লিভার প্রতিস্থাপন করেছিলেন চিকিৎসকরা।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত