১৬ জুলাই, ২০১৯ ১২:০২ পিএম

বন্যা কবলিত এলাকায় রোগের প্রকোপ: ১০ শিশুসহ ২২ জনের মৃত্যু

বন্যা কবলিত এলাকায় রোগের প্রকোপ: ১০ শিশুসহ ২২ জনের মৃত্যু

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যা কবলিত এলাকায় শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ (আরটিআই), চোখের প্রদাহ ও চর্মরোগসহ নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। সোমবার কুড়িগ্রাম, জামালপুর ও শেরপুরে পানিতে ডুবে ১০ শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ৭ দিনে বিভিন্ন রোগবালাই ও পানিতে ডুবে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরে হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, (১০ জুলাই) থেকে আজ মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) পর্যন্ত বন্যা কবলিত এলাকায় পানিতে ডুবে, বজ্রপাতে ও ও সাপের কামড়ে মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগব্যাধিতে মোট এক হাজার ২২৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন রোগে ৬৭২ জন আক্রান্ত ও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব এলাকায় টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। ফলে ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগবালাই ছাড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, বর্তমানে দেশের নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, বগুড়া, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও জামালপুরে বন্যা দেখা দিয়েছে। গত ১০ জুলাই থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতর এই ১৬ জেলার রোগব্যাধি সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে।

তিনি আরও জানান, এই ১৬ জেলার ৫৩টি উপজেলার ২০৯টি ইউনিয়ন বন্যায় আক্রান্ত। এসব এলাকায় মোট আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা এক হাজার ২৬৯টি। বর্তমানে ১৬ জেলায় এক হাজার ৫৪৩টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। গত ছয় দিনে আক্রান্ত জেলাগুলোতে ৪২৮ জন ডায়রিয়া, ১৮৯ জন আরটিআই, ৭ জন বজ্রপাতে, ১০ জন সাপের কামড়ে, ৪ জন পানিতে পড়ে, ১১৪ জন চর্মরোগে, ৪৯ জন চোখের প্রদাহ, ১৫ জন আঘাতপ্রাপ্ত ও অন্যান্য রোগে ৪১২ জন আক্রান্ত হন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

এদিকে, সোমবার পৃথক এক আদেশে বন্যার্তদের জন্য বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় কেন্দ্র খুলতে নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওইসব আশ্রয় কেন্দ্রে একটি করে সেল স্থাপন করে প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে সার্বক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতেও বলা হয়েছে।

সোমবার পর্যন্ত বন্যায় আক্রান্ত জেলাগুলোর মধ্যে আছে- লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, নেত্রকোনা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, জামালপুর, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও টাঙ্গাইল। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে। নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও সিলেটে স্থিতিশীল থাকবে। লালমনিরহাট, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকবে। তবে উজান থেকে বানের পানি নামতে থাকায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে বন্যা বিস্তৃত হতে পারে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত