ঢাকা      মঙ্গলবার ২০, অগাস্ট ২০১৯ - ৫, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

সহকারী সার্জন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


সাইমন্ড্স ডিজিজ রোগ ও তার প্রতিকার

আমাদের মাথার ভেতরে পিটুইটারি গ্রন্থির অবস্থান। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নানা রকম হরমোন বের হয়ে বিভিন্ন কাজ করে। এই গ্রন্থির দুইটি অংশ। সামনের ও পেছনের। সাইমন্ড্স ডিজিজে পিটুইটারি গ্রন্থির সামনের অংশ নষ্ট হয়ে যায়। বিভিন্ন কারণে এই অসুখ হয়।

কারণ:

সাধারণত বাচ্চা হবার সময় বা বাচ্চা হবার পর অত্যাধিক রক্তপাতের জন্য সাইমন্ড্স ডিজিজ হয়। রক্তপাতের জন্য পিটুইটারি গ্রন্থির ধমনীর মধ্যে রক্ত জমাট বেধে এই অবস্থা হয়। এছাড়া বিভিন্ন আঘাত, সিফিলিস এবং যক্ষার ফলেও পিটুইটারি গ্রন্থির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ব্রেনের টিউমার বা সিস্ট হলেও মস্তিস্কের ভেতরে পিটুইটারি গ্রন্থি নষ্ট হয়। তবে সাইমন্ড্স ডিজিজের বিভিন্ন কারণ থাকলেও প্রধান কারণ প্রসবের আগে, প্রসবের সময়ে বা প্রসবের পরে অতিরিক্ত রক্ষক্ষরণ।

উপসর্গ:

সাইন্ডস ডিজিজে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যায়। যেমন-

১. রোগী অত্যন্ত দূর্বল হয়ে যায়।

২. কোন কাজে উৎসাহ থাকেনা।

৩. কোন কোন রোগী অনেক কৃশ হয়ে যায়।

৪. ঋতুস্রাব বহুদিন বন্ধ থাকে।

৫. যৌন কেশ এবং বগল অঞ্চলের কেশ উঠে যায়।

৬. যৌন মিলনে অনীহা দেখা দেয়।

৭. সর্ব শরীরে ব্যথা হতে পারে।

৮. হাঁটুর জোড়াতে ব্যথা হয়।

৯. রোগী রক্তাল্পতায় ভোগে এবং প্রস্রাবে সামান্য এলবুমিন থাকতে পারে।

রোগ নির্ণয়:

রোগীর ইতিহাস এবং কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এই অসুখ নির্ণয় করা হয়। রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ে এবং রক্তাল্পতা থাকে। ইসিজিতে কিছু পরিবর্তন পাওয়া যায়। সামনের পিটুইটারি থেকে যেসব হরমোন বের হয় তা নির্ণয় করলে সহজেই অসুখটি ধরা যায়। এনোরেক্সিয়া নার্ভোসা এবং মিক্সিডিমা অসুখের সাথে সাইমন্ডস ডিজিজের মিল আছে। সঠিক ইতিহাস এবং পরীক্ষা করলে নিশ্চিতভাবেই অসুখটি ডায়াগনসিস করা যায়।

চিকিৎসা:

সাইমন্ডস ডিজিজের প্রকৃত চিকিৎসা হচ্ছে সামনের পিটুইটারির যে হরমোন থাকে তা বাইরে থেকে প্রয়োগ করা। কারণে এ অসুখে সামনের পিটুইটারি নষ্ট হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি বেশ কঠিন। বর্তমানে কর্টিসোল, প্রেডনিসোলন ব্যবহার হচ্ছে। এলট্রক্সিন ট্যাবলেট আগে থেকেই চালু আছে। টেসটোসটেরন ব্যবহারে উপসর্গের উন্নতি হয়। এইচসিজি এবং প্রোজেস্টেরন ইনজেকসন সাইমন্ডস ডিজিজে দেওয়া হয়। ব্রেনে বা পিটুইটারিতে টিউমার হলে তার চিকিৎসা করলে সাইমন্ডস ডিজিজ অসুখটি ভাল হয়।

সাইমন্ডস ডিজিজ বিরল হলেও হয়ে থাকে। গর্ভকালীন সময়ে সাবধান থাকতে হবে। প্রসবের সময় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা উচিত। এই অসুখের বর্তমানে খুব ভালো চিকিৎসা নেই। আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে আরো উন্নতমানের চিকিৎসা আসবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতাল নিটোরের গল্প

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতাল নিটোরের গল্প

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিটোর নিয়ে কিছু কথা উঠেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতালটির…

মৃত্যুর আগে কথোপকথন

মৃত্যুর আগে কথোপকথন

হাতির মতন বিশাল মেশিনটি আমার বুকের উপর দিয়ে বার কয়েক চক্কর দিয়ে…

সরকারি হাসপাতালে নানা অনিয়মই যখন নিয়ম!

সরকারি হাসপাতালে নানা অনিয়মই যখন নিয়ম!

একজন কনসালটেন্ট তার মামাতো ভাইকে দেখাতে এসেছে। রোগীর সাথে কথা বলছি, এই…

মানহীন মেডিকেলের প্রাদুর্ভাব বন্ধে মেডিকেলিয় ভূমিকা

মানহীন মেডিকেলের প্রাদুর্ভাব বন্ধে মেডিকেলিয় ভূমিকা

আমরা সবাই জানি এবং প্রতিনিয়ত বলে বেড়াচ্ছি ব্যাঙের ছাতার মতো মানহীন মেডিকেল…

স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা ‘অশনিসংকেত’

স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা ‘অশনিসংকেত’

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সৈন্যের সংখ্যা বিশ্বে তৃতীয়! অথচ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ কোনো…

ভিআইপি রোগী

ভিআইপি রোগী

এমবিবিএস পাস করে কেবল ১৯৮৫ সনের নভেম্বর মাসে ইন-সার্ভিস ট্রেইনিং শুরু করেছি।…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর