চিকিৎসক ও নার্সের জামিন আবেদন বাতিল: কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ


মেডিভয়েস রিপোর্ট: গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে নার্সের ভুল ইনজেকশন পুশ করার অভিযোগে ডাক্তার ও নার্সের জামিন আবেদন বাতিল করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের জন্য জামিন নেন তারা। জামিনের সময় শেষ হওয়ায় নিম্ন আদালতে হাজির হলে তাদের জামিন বাতিল করা হয়।

গতকাল (রোববার) অভিযুক্ত ডাক্তার তপন কুমার মন্ডল ও নার্স কুহেলিকা গোপালগঞ্জ সদর আমলী আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. হুমায়ুন কবীরের আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তাদের জামিন আবেদন বাতিল করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জানা যায়, মরিয়ম সুলতানা মুন্নি পিত্তথলিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আব্দুল মতিনের তত্ত্বাবধানে একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. তপন মন্ডলের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মুন্নি। গত ২০ মে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পিত্তথলির পাথর অপারেশন করার আগে ফিমেল ওয়ার্ডের কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ গ্যাসের ইনজেকশনের পরিবর্তে ভুল করে অতিরিক্ত মাত্রায় অজ্ঞান হবার ইনজেকশন পুষ করেন। আর এই ভুল চিকিৎসায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন ওই ছাত্রী। সেই থেকে মুন্নী অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, কি করে একজন সিনিয়র নার্স ভূল ইনজেকশন পুশ করলেন এটা বোধগম্য নয়। রোগীটি যেন ভাল চিকিৎসা পায় সেজন্য তাকে প্রথমে খুলনার আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে বুধবার রাতে উন্নত চিকিসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ ও কুহেলিকার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে কমিটি।

এছাড়া মরিয়ম সুলতানা মুন্নির চিকিৎসক ও সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তপন কুমার মন্ডলকে ভবিষ্যতে আরও পেশাদারিত্ব ও সতর্কতার সঙ্গে কর্তব্য পালনের সুপারিশ করা হয়েছে। সোমবার তদন্ত রিপোর্ট সেবা পরিদফতরের মহাপরিচালকের বরাবরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে।

এদিকে, ভুল ইনজেকশন পুশের কারণে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওই ছাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। হাসপাতালে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানোর জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।