ঢাকা শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৩ ঘন্টা আগে
০৭ জুলাই, ২০১৯ ১৯:৩৮

নিরাপত্তাহীনতায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের বিডিএস শিক্ষার্থীরা 

নিরাপত্তাহীনতায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের বিডিএস শিক্ষার্থীরা 

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের বিডিএস শিক্ষার্থীদের জন্য আট বছরেও তৈরি করা হয়নি আলাদা কোনো ছাত্রাবাস। হাসপাতালের ছাদের উপর ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্যই থাকার জায়গা রয়েছে। তবে সেখানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের ২০১৩-১৪ সেশনের এক শিক্ষার্থী মেডিভয়েসকে জানিয়েছেন, হাসপাতাল বিল্ডিংয়ের ছাদের উপরের চারপাশে কিছু গণরুমে এই কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের শিক্ষার্থীরা থাকে। চাইলেই ছাদ টপকিয়ে চলে আসা যায় এখানে। দিনের বেলা মানুষ ভুল করেই হাসপাতালের সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসে। পাশের ভবনের নির্মাণকাজের সময় অনায়াসে এই ছাদে চলে আসা যায়। মাঝে মাঝেই বহিরাগতরা ছাদের ওপর এসে দেদারসে ধূমপান করেন। অনেক সময় জানালার পাশে অপরিচিত মানুষজন এসে কথা বলতে থাকে। এতে তাদের বিশ্রাম ও পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে।   

ছাত্রাবাসের নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেয়েরা হলে প্রবেশের পর রাতে কলাপসিবল গেটে তালা দিয়ে দেওয়া হয়। অথচ ফোন চুরি হয়ে যায়। তাহলে কে নিল? দরজা বন্ধ, কলাপসিবল গেট বন্ধ। নিচের গেট বন্ধ। 

ছাত্রাবাসের জন্য নির্ধারিত কোনো সিকিউরিটি গার্ড না থাকায় এ রকম চুরির ঘটনা ঘটছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “ভোর সারে চারটা। কেউ একজন মশারী কাটছে, চিৎকার দিতেই শিক্ষার্থীর গলা চেপে ধরলো। বাঁচার চেষ্টা করতেই চোর দৌঁড়ে পালালো, যেখান দিয়ে এসেছে ঠিক সেখান দিয়েই।”

এ অবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডেন্টাল ইউনিটের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা হোস্টেলের দাবি জানিয়েছেন তারা। 

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের ডেন্টাল ইউনিটের শিক্ষার্থীদের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরেন রাজশহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেন্টাল সার্জন ডা. মাহফুজুর রহমান রাজ। এ প্রসঙ্গে মেডিভয়েসকে তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ দেশের স্বনামধন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এখানে অষ্টমতম ব্যাচ চলছে। এই মেডিকেলে এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত হোস্টেল থাকলেও বিডিএসের জন্য কোনো হোস্টেল নাই। সম্প্রতি এই কলেজের বিডিএসের শিক্ষার্থীদের থাকার জায়গায় একের পর এক ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “এই ইউনিট যদি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হয় তাহলে বিডিএসে পড়া শিক্ষার্থীরাও এইখানকার অন্তর্ভুক্ত। অথচ আট বছরেও এখানে বিডিএসের কোনো হোস্টেল হয়নি। এখন শুধু কলেজ প্রশাসনের আশ্বাসের উপরই রয়েছে এই মেডিকেল কলেজ হাসপালের ছাদের উপর নির্মিত বিডিএসের শিক্ষার্থীরা।”

এ প্রসঙ্গে মেডিকেল কলেজের ডেন্ডাল ইউনিটের প্রধান ডা. শহীদুল ইসলাম লিমন মেডিভয়েসকে বলেন, “এখানে পাঁচটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আছে। প্রতি ব্যাচে ৫৬ জন করে। তারা একটু কষ্ট করেই আছে। …চেষ্টা করা হচ্ছে।”

ডেন্টালের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা হোস্টেলের কোনো পরিকল্পনা আছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “চেষ্টা করা হচ্ছে, মন্ত্রণালয়ে ফাইল গেছে। সেখানে এখনো পাস হয়নি। এটি প্রজেক্ট আকারে তৈরি হচ্ছে, আরও কয়েকটি মেডিকেল একসঙ্গে আছে।”  

তবে কবে নাগাদ এ ছাত্রাবাস হবে—এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো সময়-ক্ষণ জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন ডা. শহীদুল ইসলাম।   

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে তিনি জানান, দেওয়াল করে দেওয়ায় পাশের ছাদ থেকে কোনো বহিরাগত এখন আর ছাত্রাবাসে ঢুকতে পারছে না।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত