ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৩ ঘন্টা আগে
০৪ জুলাই, ২০১৯ ১৩:২২

রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ: চিকিৎসকসহ ৩ জনের মৃত্যু

রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ: চিকিৎসকসহ ৩ জনের মৃত্যু

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীতে বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ। প্রতি ঘণ্টায় তিনজনের বেশি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৩ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন। এবছরে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২২৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসকসহ তিন জন মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চলতি জুলাই মাসেই গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৮৪ জন করে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন জুন মাসে ১৬৯৯ জন ডেঙ্গু জ্বরের রোগী চিহ্নিত হয়েছেন। এদের মধ্যে এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৬২ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ১৩ জন। এছাড়াও গত জানুয়ারিতে ৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে এই সংখ্যা ছিল ১৮ জন, মার্চে ১৭ জন, এপ্রিলে ৫৮ জন, মে মাসে ১৯৩ জন, জুন মাসে ১৬৯৯ জন এবং জুলাই মাসে এ পর্যন্ত ২৫৪ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে ২৬২ জন ছাড়া অন্য রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেছেন। 

এদিকে, গতকাল রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ডা. নিগার নাহিদ দিপু নামে এক নারী চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ৩২ ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন ডা. নিগার। সর্বশেষ তিনি কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দু্ল্লাহ মেডিভয়েসকে বলেন, মে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বর হয়ে থাকে। শীতের সময়ে কমে আসবে। এই সময়ে জ্বর বা গায়ে ব্যথা হলে ডেঙ্গুর কথা মাথায় রাখতে হবে। সাধারণ ডেঙ্গু জ্বর তেমন মারাত্মক রোগ নয়। ডেঙ্গু জ্বরের রোগীর যখন বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের প্রমাণ মেলে (যেমন মাড়ি বা নাক থেকে রক্তক্ষরণ, মলের সঙ্গে রক্তক্ষরণ ইত্যাদি) তখন একে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বলা হয়।

তিনি বলেন, অধিক রক্তক্ষরণের ফলে শরীরের জলীয় উপাদান কমে যায়। ডেঙ্গু জ্বর হলে প্রচুর পানি পান করতে হবে ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। জ্বর বাড়লে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ অথবা আরো বেশি জ্বর হলে তা কমিয়ে রাখার জন্য সাপোজিটরি ব্যবহার করতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতালে প্রচুর ডেঙ্গু রোগী আসছেন। রাজধানীর ধানমন্ডি সেন্টাল হাসপাতালে ৫২ জন, ইবনে সিনা হাসপাতালে ১৯ জন, বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে ১১ জন, স্কয়ার হাসপাতালে ২০ জন, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৪ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ২৮ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১৯ জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ২৫ জন, বিজিবি হাসপাতালে ২৭ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। 

খেয়াল রাখতে হবে:

জ্বর হলেই ডেঙ্গু হয়েছে ধরে নিয়ে শুরুতেই কোন এন্টিবায়োটিক খাবেন না। রক্ত পরীক্ষা করান আগে। পর্যাপ্ত তরল খাবার খান। মনে রাখতে হবে, জ্বরের থেকেও জ্বর নেমে যাওয়ার পরেই বিপদটা আসে। জ্বর কমে এলেও তরল খাবার খাওয়া কমিয়ে দেয়া যাবেনা এবং নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করতে হবে।

সতর্কতা: 

১. এসির পানি কোথাও আটকে আছে কিনা দেখুন। ছাদে, বারান্দায়, কোথাও কোন বালতিতে, জারে, বোতলে, ভাঙ্গা টবে, পানি জমে থাকছে কিনা নজর রাখুন। এডিস মশা কিন্তু পরিষ্কার পানিতেই জন্মায়।

২. আপনার প্রতিবেশীর গাছের গোড়ায় পানি আছে কিনা সতর্ক করুন। আশেপাশের ঝোপ-ঝাড় পরিষ্কার করুন। ময়লা আবর্জনার স্তুপ জমতে দেয়া যাবে না।

৩. ঘুমানোর সময় তো বটেই, দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার করুন প্রয়োজনে। প্রয়োজনে কয়েল, এরোসল, স্প্রে, ইলেকট্রিক রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন।

৪. ব্যক্তিগত প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে হালকা রঙের ফুল হাতা/ হাত -পা ঢাকা পোশাক পরিধান করার চেষ্টা করা যেতে পারে (মশা উজ্জ্বল রঙের প্রতি সহজে আকৃষ্ট হয়)।

৫. ঘরের জানালায়, ভেন্টিলেটরের ফোকরে মশা প্রতিরোধী নেট লাগানো যেতে পারে।

৬. ডেঙ্গুবাহী মশা সারাদিন রাতের যে কোন সময়েই কামড়াতে পারে, তবে বেশি কামড়ায় ভোর বেলায় এবং সন্ধ্যার আগে আগে (গোধুলির সময়)। এই দুই সময়ে বাড়তি সতর্ক থাকুন যাতে মশা না কামড়াতে পারে।

চিকিৎসা:

- পূর্ণ বিশ্রাম।

- জ্বরের জন্য শুধুমাত্র paracetamol. শরীর মুছে ঠান্ডা করবেন। (জ্বর কমাতে কোন aspirin জাতীয় ওষুধ কখনই দেওয়া যাবে না, দিলে platelet আরো কমে যাবে, বাচ্চাদের ক্ষেত্রে aspirin দিলে Reyes syndrome ডেভেলপ করতে পারে।

- জ্বরের কারণে রোগীর dehydration থাকে, তাই প্রচুর তরল খাবার খাওয়াবেন। আর রোগীর hypovolumia বা শকের কোন ফিচার ডেপেলপ করলে আইভি ফ্লুইড (normal saline) দিতে হবে হসপিটালাইজ করে।

- যেহেতু platelet count কমে যায়, তাই platelet transfusion করতে হবে৷

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত