ঢাকা      শুক্রবার ১৯, জুলাই ২০১৯ - ৩, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী



ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাছির উদ্দিন আহমেদ

পরিচালক 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


সিনিয়র ডাক্তারদের রেফারেল ছাড়া রোগী দেখা উচিৎ নয়

পূর্বসূত্র: চট্টগ্রামে ১৯৯৭ সালের দিকে ঘটনা। এক ডাক্তার ভদ্র লোক স্ত্রীকে নিয়ে নাম করা গাইনি প্রফেসর নিকট গেলেন। প্রফেসর সাহেব দেখলেন। ২/৪ টা ব্লাড টেস্ট দিলেন রিপোর্ট আসার পর উনাকে দেখানো হলো। উনি ভদ্রলোকের স্ত্রীর কোরিওকারসিনোমা ডায়াগনোসিস করে রেফার করলেন অনকলোজিস্টকে। অনকোলজিস্ট ডাক্তার সাহেবের সাথে রোগীনির স্বামী ডাক্তার ভদ্রলোকের ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেক ভাল ছিল। উনি রেফারেল দেখে ভদ্রলোককে বললেন ওই ডাক্তারের কথায় আমি কেমো বা রেডিও দেব না। তুমি প্রফেসর টিএ এ চৌধুরীকে দেখাও। ফোনে জানলাম উনি দেশে নেই। 

বর্তমান:

এবার ৬ মাস অপেক্ষায় থাকা রোগীর কথায় আসি, লম্বা সিরিয়াল কি জিনিস তা বুঝানোর জন্য এ গল্পের অবতারনা।

কোরিয়কার্সিনোমা ডায়গনোসিস হওয়া ডাক্তার ভদ্রলোক গেলেন তার স্ত্রীকে নিয়ে কলিকাতা উদ্দেশ্য, সল্টলেকের ডা. বৈদ্যনাথকে দেখাবেন বলে। ক্লিনিকের সামনে এলাহীর কারখানা। নিজে ডাক্তার পরিচয় দিলেন, পাসপোর্ট দেখালেন, সিরিয়াল ৮ মাস পরে। দুইদিন ঘুরাঘুরি করে সিদ্ধান্ত নিলেন শেষ চেষ্টা করে অন্য ডাক্তার দেখাবেন।

সকাল ৭টায় উনি বৈদ্যনাথ বাবু চেম্বারে আসেন। তাই সকাল থেকেই বাইরে অপেক্ষা। গাড়ি থেকে নামা মাত্রই চট্টগ্রামের ডাক্তার ভদ্রলোক নিজের পরিচয় দিয়ে ভদ্রলোকের স্ত্রীর কোরিওকারসিনোমা ডায়গনোসিসের কথা কলকাতার ডাক্তার বাবুকে জানালেন।

কলকাতার ডাক্তার বেদ্যনাথ বাবু উনার জুনিয়রকে বললেন ভদ্রলোকের সাথে কথা বলতে। বউকে হোটেল থেকে নিয়ে আসা হলো। জুনিয়র একজন এমআরসিওজি করা ডাক্তার সে সব দেখল, স্যারকে ইন্টারকমে বললেন, ডা. বৈদ্যনাথ ৩৫/৪০ মিনিট কথা বললেন, অনেক কিছু জিজ্ঞেস করলেন। পি বি করলেন। তারপর বললেন ডাক্তার সাহেব আপনার স্ত্রীকে আগামীকাল সকাল ৭টায় ভাল করে দেব।

ভদ্রলোক হা করে তাকিয়ে আছেন! দেখলেন বৈদ্যনাথ বাবু বললেন ক্রোনিক এক্টোপিক প্রেগনেনসি। অপারেশন হল ২ দিন ক্লিনিকে ছিল। আসার দিন বিল জানতে চাওয়ার পর শুনলেন ডাক্তার বাবু টাকা নিতে না করেছেন।

তারপরও জানতে চাইলেন বিল কত হয়েছে, সে বলল ১৪ হাজার রুপি। উনি স্যারের সাথে দেখা করে উনার অনুমতি নিয়ে ওটি, এবং নার্সদের খরচ বাবদ ছয় হাজার রুপি দিয়ে চট্টাগামের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।

উপসংহার:

উনাদের সিরিয়াল লম্বা হয়। কারণ, সে সারাদিনে ৪/৫ টা রোগী দেখে, ২/৩ জটিল অপারেশন করে। কিন্তু তারা সময় নেয়-ডায়গনোসিস করে রোগী ভাল করে। উনি ওই সময়ের জন্য বিখ্যাত ডাক্তার, কিন্তু উনার ধনসম্পদ তেমন নেই।

করণীয়:

১. বেশি আয় করতে (মাসে ১০ লক্ষ টাকার অধিক) চাইলে ডাক্তারি পেশায় রোগীকে সময় সঠিকভাবে দেয়া সম্ভব নয়।

২. যারা বড় প্রফেসর, নামী দামী তারা ৫ হাজার টাকা ভিজিট নিয়ে দৈনিক ১০টা রোগী দেখুন।

৩. রোগীদের উচিত যে ডাক্তার সময় দেয়, যত্ন নিয়ে দেখে, ভালভাবে কথা বলে তার কাছে যাওয়া।

৪. নিজের অসুস্থতার জন্য ব্যয় করতে কৃপনতা করা কোন মানুষের উচিৎ না যদি সামর্থ্য থাকে।

৫. সিনিয়র ডাক্তারদের রেফারেল ছাড়া রোগী না দেখাই উচিৎ।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে

হাসপাতালের সকলে মিলে সমাজকে অনেক কিছুই দিতে পারে। সাধারণত যে মানুষ যেভাবে…

মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় ইরানের এগিয়ে চলার গল্প 

মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় ইরানের এগিয়ে চলার গল্প 

যতদিন যাচ্ছে ইরানের মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় যুক্ত হচ্ছে অভূতপূর্ব সব অবিষ্কার। বিশ্ব…

বিদেশে চিকিৎসা: শোনা কথায় কান দিবেন না

বিদেশে চিকিৎসা: শোনা কথায় কান দিবেন না

যখন গাইনী আউটডোরে চাকরি করি তখন এক জুনিয়র এসে বলল "আপু তোমরা abnormal…

সাইমন্ড্স ডিজিজ রোগ ও তার প্রতিকার

সাইমন্ড্স ডিজিজ রোগ ও তার প্রতিকার

আমাদের মাথার ভেতরে পিটুইটারি গ্রন্থির অবস্থান। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নানা রকম হরমোন…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর