ঢাকা      মঙ্গলবার ১৭, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ২, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. আহমাদ হাবিবুর রহিম

লেখক, কলামিস্ট

বিসিএস (স্বাস্থ্য), রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ।


অধ্যাপক রেজাউল করিমের বদলি: চমেকের ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের কী হবে?

জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক ও সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা ইস্যুতে ফেসবুকের একটা কমেন্টের জের ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ কে এম রেজাউল করিম স্যারকে সম্প্রতি শোকজ করা হয়। এবার তাঁকে শাস্তিমূলক বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। সংযুক্ত রাখা হয়েছে দুর্গম রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। স্বাভাবিক কারণেই সেখানে হেমাটো অনকোলজি বিভাগ নাই। সুতরাং আপাতত তাঁর অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগানোর সুযোগ বন্ধ। অতএব আপাতত তিনি কাজের চাপ মুক্ত!

তাঁকে যারা ট্রান্সফার করলেন তারা কি জানেন, কতো ভয়াবহ একটি ঘটনা ঘটেছে? চটগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিবছর লক্ষাধিক ক্যান্সার শিশু চিকিৎসা নেয়। প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকে শতাধিক শিশু। হাজারো ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর জীবনের সঙ্গে অনেক বড় একটা অবিচার হয়ে গেলো। স্যার দেশের মাত্র তিনজন পেডিয়াট্রিক হেমাটো অনকোলজির অধ্যাপকের একজন। অথচ এখন তাঁর এই জ্ঞান কাজে লাগানোর রাস্তা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলো। ব্লাড ক্যান্সারসহ অন্যান্য ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুগুলো এখন কোথায় যাবে? কার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেবে? অসহায় পরিবারগুলোর কী অবস্থা হবে, আমরা কি একটু চিন্তা করতে পারছি?

সরকারি দপ্তরের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে অনেক সিদ্ধান্তই নিতে হয়। কিন্তু সেখানে রিস্ক বেনিফিট রেশিওটা কী মাথায় রাখতে হবে না? স্যার কি কোনো দুর্নীতি করেছেন? অন্যায়ভাবে রোগীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন? অফিসে না গিয়ে দিনের পর দিন বেতন তুলেছেন? মোটেও না। সামান্য এক কমেন্টে কী সংসদ সদস্য মাশরাফি সাহেবের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে? কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষতিটা এখন অবশ্যই চোখে পড়ার মতো। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এমপি মাশরাফি সাহেব এ ব্যাপারটা জানেন না। নাহলে তিনি নিজেই এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেলের হাজারো ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর জন্য সমবেদনা। এখানে অধ্যাপক রেজাউল করিম স্যারের কোনো ব্যক্তিগত ক্ষতি নেই। বরং প্রতিদিন শত শত ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার তত্ত্বাবধানের যে কষ্ট আর দুশ্চিন্তা ছিলো তা থেকে তিনি আপাতত মুক্ত। এখন তিনি রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে আগের তুলনায় অনেক কম কাজের চাপেই থাকবেন। কিন্তু ক্ষতিটা হয়ে গেলো আমাদের; অসহায় ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের; এই হতভাগ্য বাংলাদেশের।

এই সিদ্ধান্তটা নিয়ে কী আবার একটু চিন্তা করবেন কর্তা ব্যক্তিরা? আমরা কী দিনশেষ অসংখ্য জীবনের বিপরীতে সামান্য কিছু কথাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করবো? নাকি মানবতার পাল্লাই বেশি ওজন পাওয়ার দাবি রাখে?
 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ডিপ্রেশন থেকে আত্মহত্যা: করণীয় ও চিকিৎসা

ডিপ্রেশন থেকে আত্মহত্যা: করণীয় ও চিকিৎসা

ডিপ্রেশন একটি ভয়াবহ মানসিক ব্যাধি যা একজন মানুষকে সবার অজান্তে তিলে তিলে…













জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর