ডা. শরীফ উদ্দিন

ডা. শরীফ উদ্দিন

রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ

 

 


২৮ জুন, ২০১৯ ১১:২১ এএম

তিন সাহিত্যিক ডাক্তার ও আমাদের শিক্ষণীয়

তিন সাহিত্যিক ডাক্তার ও আমাদের শিক্ষণীয়

বর্তমান সময়ের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা তিনজন সাহিত্যিকই ডাক্তার। শাহাদুজ্জামান, জাকির তালুকদার, মামুন হুসাইন। বাংলা সাহিত্যে তারা ইতিমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। এদের মধ্যে শাহাদুজ্জামান দীর্ঘদিন তৃনমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেছেন।এখন বিদেশের বড় একটা ভার্সিটিতে পাবলিক হেলথ পড়ান।

মামুন হুসাইন রাজশাহী মেডিকেলের সাইকিয়াট্রির প্রফেসর, বিজি প্র‍্যাকটিশনার। যতদূর জানি জাকির তালুকদারও এখনো ডাক্তারিই করছেন।

ডাক্তারি জীবনের অভিজ্ঞতা এদের সাহিত্যচর্চাকে নিশ্চয়ই সমৃদ্ধ করেছে। কথাসাহিত্যিকরা তো সবসময় গল্পের খোঁজে থাকেন। ডাক্তারদের কাছে এসে মানুষ স্বেচ্ছায় নিজেদের জীবনের গল্প বলে যায়। কিন্তু রোগীরা তো একজন চিকিৎসকের কাছে এজন্য আসেন না যে, চিকিৎসক তার ব্যক্তিগত সমস্যাগুলোকে ছাপার অক্ষরে তুলে দিবেন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রাইভেসি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি লিখতে জানলেই রোগীর সমস্যার ফিরিস্তি, পরিচয়, কথোপকথন সবাইকে জানিয়ে দিতে পারেন না। পারেন না, চিকিৎসা সংক্রান্ত কাল্পনিক গল্প ফাঁদতে।

যে তিনজন শক্তিমান কথাসাহিত্যিকের কথা বললাম, তাদের সাহিত্য এক্ষেত্রে আমাদের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে। রোগীর কোনো রকম প্রাইভেসি নষ্ট না করেও তারা তাদের ডাক্তারি অভিজ্ঞতাকে সাহিত্যে তুলে এনেছেন।

ফেসবুক আমাদেরকে আমাদের লেখালেখির প্রতিভা বিকাশের একটা দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্য খাতের ডাক্তার - রোগীর নানা ধরণের ভুল বোঝাবুঝি কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটা চমৎকার একটা প্ল্যাটফর্ম হতে পারতো। অথচ তা হয়নি।

ফেসবুকের লাইক বাটনের চতুর মোহ তরুণ ডাক্তারদের একটা অংশকে উদ্বুদ্ধ করেছে, রোগীর ব্যক্তিজীবনকে ফেসবুকের টাইমলাইনে তুলে আনতে। এটা একান্তই অনুচিত।

আরেকটা অংশকে দেখি- নিজের ব্যক্তিগত বা শ্রেণিগত বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে রোগীদের নিয়ে মকারি করে স্ট্যাটাস দিতে।

একজন চিকিৎসকের মনে রাখা উচিৎ, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অসৎ হতে পারেন, কিন্তু চিকিৎসক হিসেবে অসৎ হতে পারেন না। যেদিন একজন চিকিৎসক চিকিৎসার ক্ষেত্রে অসততার পরিচয় দেন, সেদিন আসলে তার চিকিৎসক সত্তার মৃত্যু ঘটে।

রোগীর সব ধরনের প্রাইভেসি মেইনটেইন করা চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। লাইকের মোহ কিংবা রাজনৈতিক বা শ্রেণিগত বিদ্বেষ যেন এই ব্যাপারগুলো আমাদের ভুলিয়ে না দেয়।

Add
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত