২৭ জুন, ২০১৯ ০৩:৪০ পিএম

ঢাকার ৯৪ শতাংশ রিকশা চালকই নানা রোগে আক্রান্ত

ঢাকার ৯৪ শতাংশ রিকশা চালকই নানা রোগে আক্রান্ত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা ও এর আশেপাশে এলাকায় প্রায় ১১ লাখ রিকশা চালক রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৯৪ শতাংশ রিকশা চালকই কোন না কোন রোগে আক্রান্ত থাকেন। বিশেষ করে জ্বর-কাশি, ঠাণ্ডা, গায়ে ব্যথা, দুর্বলতা লেগেই থাকে। এছাড়াও এ চালকদের ৩০ শতাংশই জন্ডিসে আক্রান্ত বলে একটি জরিপে উঠে এসেছে।

সম্প্রতি, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার রাইটস (বিলস) নামের একটি শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠানের এক জরিপে এ তথ্য উঠেছে।

সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক কোহিনূর মাহমুদ জানান, একজন রিকশা চালকের পক্ষে প্রতিদিন রিকশা চালানোও সম্ভব হয় না। কেননা এই কাজটি খুবই শ্রমসাধ্য এবং রোদ-বৃষ্টিতে পুড়ে তাদের রিকশা চালাতে হয়। যার একটা বড় ধরণের প্রভাব তাদের স্বাস্থ্যের ওপর পড়ে। বিশেষ করে তাদের বিশ্রাম, খাবার দাবার, বিশুদ্ধ পানি ও টয়লেটের সংকটে ভুগতে হয় প্রকটভাবে।

রাস্তাঘাটে যদি তাদের কথা ভেবে সস্তায় পুষ্টিকর খাবার বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হতো, তাহলে তাদের হয়তো এতোটা ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো না বলে মনে করছে সংস্থাটি। সব মিলিয়ে এই রিকশা চালকরা বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন বলে জানান কোহিনূর মাহমুদ।

বিলসের জরিপ অনুযায়ী, ঢাকার ৯৪% রিকশা চালকই অসুস্থ থাকেন। বিশেষ করে জ্বর-কাশি, ঠাণ্ডা, গায়ে ব্যথা, দুর্বলতা লেগেই থাকে। সেইসঙ্গে ৩০ শতাংশ জন্ডিসে আক্রান্ত বলে ওই জরিপে উঠে এসেছে। তার কারণ তাদের জন্য রাস্তাঘাটে সুপেয় পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। এছাড়া টয়লেটের সংকটের ভুগতে হয়।

এ বিষয়ে এক রিকশা চালক জানান, তাদের বেশিরভাগ সময় ড্রেনে বা গাছপালার আড়ালে টয়লেটের কাজ সারতে হয়। এছাড়া যে কয়টা মোবাইল টয়লেট বা পাবলিক টয়লেট রয়েছে, সেগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ৫ থেকে ১০ টাকা গুনতে হয়। এছাড়াও বেশিরভাগ রিকশাওয়ালা তাদের দিনের খাওয়া সারেন বিভিন্ন টংয়ের দোকানে রুটি, কেক ও চা খেয়ে। যেন তারা ভাত খাওয়ার পয়সা সাশ্রয় করতে পারেন।

মাহমুদ বলেন, যেই চালক লম্বা তাকে রিকশাটা নুয়ে চালাতে হয়। যিনি খাটো, তাদের দাঁড়িয়ে চালাতে হয়। আবার যারা শারীরিক প্রতিবন্ধী, তারাও রিকশা চালান। কিন্তু রিকশাটা তাদের অনুযায়ী আরামদায়ক করে হয় না। যার কারণে তারা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েন। এই বিষয়গুলো সবসময় এড়িয়ে যাওয়া হয়।

এতে করে অনেক শ্রমিকের গায়ে ব্যথা, দুর্বলতা থেকে শুরু করে তাদের কাজ করার ক্ষমতা আগের চাইতে কমে যায় বলে গবেষণায় উঠে আসে। অর্থাৎ বেশিরভাগ শ্রমিক দীর্ঘমেয়াদে কাজ করতে পারে না বলে জানান তিনি।

সূত্র : বিবিসি।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত