ঢাকা বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৪ ঘন্টা আগে
১৫ জুন, ২০১৯ ২০:০৩

ঢামেকহার আধুনিকায়ন-পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু ডিসেম্বরে

ঢামেকহার আধুনিকায়ন-পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু ডিসেম্বরে

মো. মনির উদ্দিন: ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে চলতি বছরের শেষ দিকে। এ লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলেছে। এরই মধ্যে এ প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি সহযোগিতা প্রকল্প প্রস্তাবনার (টিএপিপি) কাজ গতমাসে শেষ হয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে শিগগিরই উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনার (ডিপিপি) কাজ শুরু হবে। নতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬০ ভাগ এলাকা সবুজায়ন হবে বলে জানান তিনি। 

প্রকল্প বাস্তবায়নে গৃহিত পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিনকে মেডিভয়েসকে বলেন, “এটি বিশাল একটি প্রজেক্ট। সাধারণত একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়। যার ওপর ভিত্তি করে প্রকল্পটি এগিয়ে চলে। কিন্তু এ প্রকল্পটি এত বিশাল, যার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডিপিপির আগে কারিগরি সহযোগিতা প্রকল্প প্রস্তাবনার (টিএপিপি) কাজ চলছে।”

প্রকল্প পরিচালক বলেন, “টিএপিপির আওতায় থাকবেন একদল বিশেষজ্ঞ, যাদের প্রত্যেকের অধীনে একদল সুদক্ষ জনবল থাকবে। যেমন: একজন প্রধান আর্কিটেকচারের অধীনে একদল সুদক্ষ জনবল থাকবে। একইভাবে কনস্ট্রাকশন, পরিবেশ, স্বাস্থ্য-শিক্ষা বিষয়ে একদল বিশেষজ্ঞ থাকবেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাদের অধীনের অনেক প্রশিক্ষিত মানুষ কাজ করবেন। এরকম ১৪টি বিশেষজ্ঞ গ্রুপ করা করা হয়েছে—যারা বিশাল হাসপাতাল নির্মাণ, আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত দেবেন। তারা ধারণা দেবেন—বর্তমান অবস্থা থেকে হাসপাতালটি প্রত্যাশিত অবস্থায় রূপান্তরিত করতে আমাদের কী কী কাজ করতে হবে। এগুলো টিএপিপিতে অন্তর্ভুক্ত। পরবর্তীতে এর ওপর ভিত্তি করে ডিপিপি প্রস্তুত হবে। সাধারণ কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে টিএপিপি করতে হয় না।”

গত দেড় বছর ধরে এই টিএপিপির ওপর করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “টিএপিপি গত মাসে প্রণয়ন করা হয়েছে, যা পরিকল্পনা কমিশনের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে। টিএপিপির জন্য প্রায় ৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রস্তাবনা দেওয়া হবে। এর আলোকেই ডিএপিপি দ্রুততম সময়ের মধ্যে হয়ে যাবে।  

পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের পর এ প্রকল্পের জন্য একটি বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছিল। এ বাজেট অনুমোদিত হয়েছে—যা ২০১৯-২০ বাজেটেই চূড়ান্ত হয়েছে। এবং সে অনুযায়ী এই প্রকল্পের কাজ শুরু যাবে। 

প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করতে শিগগিরই একটি আন্তর্জাতিক টেন্ডার ঘোষণা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “কাজটি পেলে আন্তর্জাতিক কোনো কোম্পানি আমাদের চাওয়া অনুযায়ী এটি সম্পন্ন করবে।” 

পুনর্নির্মাণের আওতায় যা থাকবে 

মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের আওতায় কী কী থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মেডিকেল কলেজের মূল ভবনের সম্মুখাংশ অক্ষত রেখে বাকি পুরনো ভবনগুলো পর্যায়ক্রমে ভেঙে ফেলা হবে। পরে সেখানে ১৮তলা বিশিষ্ট পাঁচটি ভবন তৈরি করা হবে। প্রতিটি ভবন হবে প্রায় এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট। তবে পাঁচশ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল-২ থেকে যাবে, যেটি নতুন তৈরি হয়েছে। নতুন ভবনগুলোর সঙ্গে মিল রেখে এটির সংস্কার করা হবে। এছাড়া ২০০১ সালে নির্মিত ইমার্জেন্সি কমপ্লেক্সটিও ভাঙা হবে না। তবে ভবনটিকে ১৮তলায় রূপান্তরিত করা হবে।”

বার্ন ইউনিটের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভবনটি হয়তো নাও থাকতে পারে। সেখানে ইমার্জেন্সি চিকিৎসক—যেমন: ইয়েমো, আরএস, আরপিদের জন্য একটি ডরমেটারি থাকবে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ওয়ার্ড মাস্টার বা টেকনিশিয়ানদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে সপরিবারে থাকবেন তারা।”

“নবনির্মিত এ হাসপাতালে দশতলা বিশিষ্ট একটি পেশেন্ট অটেনডেন্স ডরমেটরি হবে, যেখানে ৪/৫ শ’ রোগীর স্বজনেরা থাকতে পারেন। এজন্য তাদেরকে নামমাত্র একটি ফি প্রদান করতে হবে”, যোগ করেন প্রকল্প পরিচালক। 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৬১টি ভবন আছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ, নার্সিং কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল—এ তিনটি প্রতিষ্ঠান এ প্রজেক্টের অন্তর্ভুক্ত। 

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় মেডিকেল কলেজের জন্য ১২তলা বিশিষ্ট একটি বিশাল একাডেমিক কমপ্লেক্স হবে। পাশাপাশি নার্সিং কলেজের একটি কমপ্লেক্স হবে। নার্সিং কলেজ, মেডিকেল কলেজ ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল—এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা আলাদাভাবে ভবন তৈরি হবে। তবে আগের মতোই একটি প্রতিষ্ঠান আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। শিক্ষার্থীরা আসতে পারে, নার্সরা যেন ওয়ার্ডে ডিউটি করতে পারে—সে ব্যবস্থা থাকবে। 
এ প্রকল্পের আওতায় এখানে একটি মেডিকেল রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন সেন্টার নির্মাণ করা হবে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান এ রিসার্চ সেন্টারে মেডিকেল বিষয়ক বিভিন্ন রিসার্চ হবে। এজন্য আলাদা একটি ভবনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।  

সবুজায়ন হবে ৬০ শতাংশ এলাকা 

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক জানান, “বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ থেকে ১২ শতাংশ সবুজায়ন এলাকা রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ৫৮ থেকে ৬০ শতাংশ এলাকা সবুজায়নের আওতায় আসবে। চারদিকে সবুজময় স্বাস্থ্যকর একটি পরিবেশ নিশ্চিত হবে। মাঝখানে এক পাশে দেখা যাবে উঁচু উুঁচ ভবন।”

গাড়ি চলবে আন্ডারগ্রাউন্ডে

প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরের ওপর দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো গাড়ি চলাচল করবে না জানিয়ে তিনি বলেন, “এই যে এক ডিপার্টমেন্ট থেকে আরেক ডিপার্টমেনে যাওয়া…। সব গাড়ি আন্ডারগ্রাউন্ড দিয়ে চলাচল করবে। গাড়িগুলো বেইসমেন্টে পার্ক করবে। পরে লিফটে সংশ্লিষ্ট বিভাগে চলে যাওয়া যাবে।”

ডাক্তারদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা, নার্সদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। ছাত্র-ছাত্রীদের আলাদা আবাসিক ব্যবস্থা থাকবে। হাসপাতালে ইন্টার্ন ডাক্তার, পোস্টগ্রাজুয়েট চিকিৎসকদের জন্য থাকার ব্যবস্থা থাকবে। 

এছাড়া নতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক একটি কনফারেন্স রুম, জিমনেশিয়াম থাকবে। পাশাপাশি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাও থাকবে। 

এ বছরের শেষ দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুনর্নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রকল্প পরিচালক। জানান, এ লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।  

শিক্ষা-সেবার মানোন্নয়নে আশাবাদী অধ্যক্ষ

এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সেবার মান বাড়বে কি-না, জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ মেডিভয়েসকে বলেন, “বটেই, সেক্ষেত্রে কারা সেবা দিচ্ছে ও যন্ত্রপাতি একটি বিষয়। আমরা আশাবাদী, এটা ভালোর জন্যই করা হচ্ছে। পদ বাড়বে, আরও লোকজন নিয়োগ করা হবে, আরও স্পেশালিটি আসবে।” 

পুনর্নির্মিত মেডিকেল কলেজে শিক্ষারও মানোন্নয়ন ঘটবে জানিয়ে এ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেন, “শিক্ষাকে যদি ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে না নেওয়া যায়, পুরো জাতির জাতির মুখ থুবড়ে পড়বে। সেজন্য শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ নয়, সারা বাংলাদেশকেই দেখতে হবে।”  

চিকিৎসকদের জন্য সুবিধা বাড়বে কিনা, জানতে চাইলে ঢামেক ৩৫তম ব্যাচের এ শিক্ষার্থী বলেন, “আশা করা যায়, নতুন অবকাঠামো বিশেষ মানে তৈরি করা হবে। সে রকমই চিন্তা করা হচ্ছে।”

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত