ঢাকা      বুধবার ২৪, জুলাই ২০১৯ - ৯, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চিকিৎসকদের গণ-পদত্যাগ

মেডিভয়েস ডেস্ক: ‘এসমা’ (Essential Service Maintenance Act) জারির হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গণহারে পদত্যাগ করছেন চিকিৎসকরা।

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ার পর গতকাল সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আট চিকিৎসক ইস্তফা দেন। এরপর থেকেই রাজ্য জুড়ে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের গণ-পদত্যাগ চলছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজের (এনআরএস) পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ, আরজি কর মেডিকেল কলেজ, এসএসকেএম, ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের মতো একাধিক হাসপাতালে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত চার জন অধ্যক্ষ এবং ১৭০ জন চিকিৎসক পদত্যাগ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এজন্য রাজ্য প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রীকেই দায়ী করছেন চিকিৎসকরা। 

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার এনআরএসের প্রিন্সিপাল এবং সুপার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ওই মেডিকেল কলেজের আরও প্রায় ১০০ জন চিকিৎসক পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার দুপুরে গণ-পদত্যাগের চিঠি স্বাস্থ্যভবনে পাঠিয়েছেন তারা। 

বৃহস্পতিবার খবর ছড়িয়ে পড়ে, শুধু সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজে নয়, গোটা রাজ্যেই পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ। শুক্রবার সকাল থেকেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসকরা একে একে পদত্যাগপত্র দিতে শুরু করেন। দুপুর নাগাদ এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭। 

পদত্যাগকারী অধিকাংশ চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রশাসনিক অসহযোগিতার জেরে হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া কার্যত অসম্ভব। মানুষ হাসপাতালে আসছেন, অথচ সেবা পাচ্ছেন না, এটা মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। এ কারণেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের ‘এসমা’ জারির ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজে যোগ না দিলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের ছাত্রাবাস ছাড়তে হবে। পরে তিনি হাসপাতাল ছাড়ার পর জোর করে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা চালুর চেষ্টা করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা আরও কঠোর অবস্থান নেন। এর অংশ হিসেবে এসএসকেএম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৮ জন চিকিৎসক পদত্যাগ করেছেন।

দক্ষিণের পর বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন উত্তরবঙ্গের চিকিৎসকরাও। শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা শুক্রবার প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন। মিছিল শেষ হওয়ার পরই পদত্যাগ করেন মনোরোগ বিভাগের প্রধান নির্মল বেরা। পরে ওই বিভাগের আরও ৫ জন চিকিৎসক পদত্যাগপত্র জমা দেন। এ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের মোট ৮ জন চিকিৎসক পদত্যাগ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে। প্রশাসনিক অসহযোগিতার কারণে এছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। 

এছাড়া চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিকেলসহ প্রায় সব হাসপাতালেই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। পদত্যাগকারী চিকিৎসকের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সিউড়ি হাসপাতালের সুপার শোভন দে বলেন, ‘‘চিকিৎসকরা ইস্তফা দেবেন বলে শুনেছি। কিন্তু এখনও আমার কাছে কারও কোনও ইস্তফার চিঠি আসেনি।’’ পাশাপাশি কলকাতা পৌরসভার চিকিৎসকরা রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তার সঙ্গে দেখা করে এনআরএসের আন্দোলনের পাশে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। 

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে চিকিৎসা সেবা এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন। হাসপাতালে আসা মুমূর্ষ রোগীদেরও ভর্তি করা হয়নি। আর জি কর, মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে এসেও রোগীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন স্বজনেরা। ভর্তি না করায় রোগীদেরকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

১০০ চিকিৎসকের রুদ্ধশ্বাস অস্ত্রোপচার: আলাদা হলো জমজ মাথা

১০০ চিকিৎসকের রুদ্ধশ্বাস অস্ত্রোপচার: আলাদা হলো জমজ মাথা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দুই বোনের দেহ দু’দিকে, তবে মাথা জোড়া লাগানো। পৃথীবিতে আসার…

ডিম্বাশয় ক্যান্সার প্রতিরোধক আবিষ্কার

ডিম্বাশয় ক্যান্সার প্রতিরোধক আবিষ্কার

মেডিভয়েস ডেস্ক: উচ্চ ক্ষমতার ডিম্বাশয় ক্যান্সার নারীদের জন্য একটি সাধারণ বিষয়। বেশিরভাগ মানুষের…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর