ঢাকা      মঙ্গলবার ১৮, জুন ২০১৯ - ৫, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী

শিশুদের বিরল-রোগ নির্ণয়ে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের বিস্ময়

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুদের রোগ নির্ণয়ে জিনোম সিকোয়েন্সিং বা ডিএনএ-এর ক্রমবিন্যাস এক বিস্ময়কর বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্যামব্রিজের একদল গবেষক। এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল জেনেটিক্স ও নিউরো ডেভেলপমেন্টের অধ্যাপক লুসি রেমন্ড। আগামী বছর থেকে ব্রিটেনে এ বিস্ময়যাত্রা শুরু হবে বলে জানা যায়।

মঙ্গলবার সকালে বিবিসি বাংলার এক সংবাদে এসব তথ্য জানা গেছে। এডেনব্রুক হাসপাতাল ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় একটি প্রকল্পের আওতায় এই কাজটি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক রেমন্ড বলেন, ২০২০ সাল থেকে পুরো ইংল্যান্ডে জেনোমিক মেডিসিন সার্ভিস চালু হবে। অর্থাৎ কোন শিশুর রোগ ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না এমন কোন রোগ নিয়ে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি হলে তার জন্যে জিনোম ক্রমবিন্যাস সেবা পাওয়া যাবে। এটি চালু হলে ইংল্যান্ডই হবে পৃথিবীর প্রথম কোন দেশ যেখানে এমন সেবা পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, আমার চিকিৎসক-জীবনের শুরুতে আমরা একটা সামান্য জিন খুঁজে পেতে বছরের পর বছর লেগে যেতো, অথচ খুবই আশ্চর্যের বিষয় হলো যে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পুরো জিনোম ক্রমবিন্যাস করে এখন একটা অর্থপূর্ণ ফল জানিয়ে দেয়া যায়।

জানা যায়, জিনোম সিকোয়েন্স বা ডিএনএ-এর ক্রমবিন্যাসের মাধ্যমে জন্মগত অস্বাভাবিকতা, স্নায়বিক অসুস্থতা যেমন মৃগীরোগ, হজম সংক্রান্ত সমস্যা ও শরীরের বৃদ্ধি কম হওয়ার মতন রোগীর চিকিৎসা পাওয়া যাবে। ফলে আক্রান্ত শিশুদের বাবা-মাকে রোগ নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন ধরণের বিশেষজ্ঞের কাছে ছোটাছুটি ও একই বর্ণনা বারবার দিতে হবে না। এর ফলে, রোগ নির্ণয়ের জন্য বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে যে খরচ হয় তা কমে আসবে বলে মনে করছেন অধ্যাপক রেমন্ড।

নেক্সট জেনারেশান চিলড্রেন বা পরবর্তী প্রজন্মের শিশু নামের একটি গবেষণা প্রকল্পের আওতায় এডনব্রোক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা প্রায় ৩৫০ জন শিশুর জিনোম ক্রমবিন্যাস করা হয়েছে। এতে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, শিশু মায়ের গর্ভে আসার সময়েই স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জিনগত ত্রুটির বিষয়টি ঘটে গেছে। অর্থাৎ বাবা বা মায়ের এই ত্রুটি থাকার কারণে উত্তরাধিকারসূত্রে শিশুরা জিনগত ত্রুটিটি পায়নি বরং সেটি ছিল একটি স্বয়ংক্রিয় ঘটনা।

এই প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে দেখা যায় যে, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা প্রতি চারজন শিশুর একজন জেনেটিক ডিজ-অর্ডার বা জিনগত-বৈকল্যের শিকার। এ প্রকল্পে কাজ করার সময় গবেষকেরা দুই তিন সপ্তাহের মধ্যেই জিনোম ক্রমবিন্যাস করে দিতে পেরেছেন এবং তার ভিত্তিতে অনেক ক্ষেত্রে পরে শিশুর চিকিৎসায় পরিবর্তনও আনা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ভুটানে সর্বোচ্চ বেতন পাবেন শিক্ষক-চিকিৎসকরা

ভুটানে সর্বোচ্চ বেতন পাবেন শিক্ষক-চিকিৎসকরা

মেডিভয়েস ডেস্ক: চিকিৎসা এবং শিক্ষকতা সবচেয়ে খাঁটুনির কাজ এবং এই দুইটি পদে…

ভারতে চিকিৎসকের উপর হামলার প্রতিবাদে ১২ ঘণ্টার ধর্মঘট

ভারতে চিকিৎসকের উপর হামলার প্রতিবাদে ১২ ঘণ্টার ধর্মঘট

মেডিভয়েস নিউজ: চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগে ভারতে জুনিয়র চিকিৎসকদের উপর হামলা…

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চিকিৎসকদের গণ-পদত্যাগ

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চিকিৎসকদের গণ-পদত্যাগ

মেডিভয়েস ডেস্ক: ‘এসমা’ (Essential Service Maintenance Act) জারির হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে…

এবার ভারত জুড়েই হাসপাতাল ধর্মঘটের ডাক

এবার ভারত জুড়েই হাসপাতাল ধর্মঘটের ডাক

মেডিভয়েস ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসকদের উপর হামলা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনরত…

ভারতে তাপদাহে ৪০ জনের মৃত্যু 

ভারতে তাপদাহে ৪০ জনের মৃত্যু 

মেডিভয়েস ডেস্ক: ভারতে তাপদাহে কমপক্ষে ৪০ জন মারা গেছেন। শনিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর