ঢাকা      শুক্রবার ২৩, অগাস্ট ২০১৯ - ৮, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. নুসরাত জাহান

অ্যাসোসিয়েট কনসালটেন্ট (অবস-গাইনি),

ইম্পেরিয়াল হসপিটাল লিমিটেড, চট্টগ্রাম।


ফাংশনাল ওভারিয়ান সিস্ট: করণীয় কি?

ওভারিয়ান সিস্ট এবং টিউমার দুটি আলাদা বিষয় হলেও অনেক সময় এ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। ফলে ওভারিতে ফাংশনাল/ফিজিওলজিক্যাল সিস্ট থাকলেও সঠিকভাবে বুঝতে না পেরে রোগীরা দুশ্চিন্তায় ভোগেন। যদিও এই ধরনের সিস্টগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আপনা-আপনি মিলিয়ে যায়।  অনেক সময় গ্রামে-গঞ্জে কিছু অসাধু ক্লিনিক ব্যবসায়ী এমন রোগীর অপারেশন করিয়ে তাদের প্রতারিত করে থাকেন।

ওভারিতে ফাংশনাল সিস্ট তৈরির কারণ: 
শরীরে কোনো কারণে হরমোনের তারতম্য হলে ফাংশনাল বা ফিজিওলজিক্যাল সিস্ট তৈরি হতে পারে। এমন কিছু সিস্ট হচ্ছে ফলিকুলার এবং কর্পাস লুটিয়াম সিস্ট। শরীরে হরমোনাল ভারসাম্যহীন হলে ওভুলেশন বা ডিম্বস্ফুটন ব্যাহত হয়। নিয়মিতভাবে ডিম্বস্ফোটন না হলে ডিমের এই আবরণীর মধ্যে পানি জমে পরবর্তীতে ফলিকুলার সিস্টে পরিণত হয়।

লক্ষণ:
১. সাধারণত এরা Asymptomatic (অ্যাসিম্পটোমেটিক) হয়ে থাকে, অর্থাৎ কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না। তবে কিছু ক্ষেত্রে তলপেটে ব্যথা হতে পারে।
২. বিভিন্ন রকম ওভারিয়ান সিস্টের মধ্যে ফলিকুলার সিস্ট সব চেয়ে কমন, যা পলিসিস্টিক ওভারিতে হয়ে থাকে। এই ধরনের রোগীরা অনিয়মিত মাসিক এবং বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যায় ভুগে থাকেন। এছাড়া এই সিস্টের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য যে সমস্যাগুলো থাকতে পারে তা হচ্ছে—অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি, শরীরে অবাঞ্চিত লোম, রক্তের ব্লাড সুগার বা কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।
 

ডায়াগনোসিস:
ফাংশনাল সিস্টের সাইজ সাধারণত ৫-৭ সেমি হয়ে থাকে, ভিতরে ক্লিয়ার ফ্লুয়িড/পানি থাকে—আল্ট্রাসাউন্ড (Lower abdomen/TVS) এর মাধ্যমে ডায়াগনোসিস হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিউমার মার্কার, যেমন: CA-125, MRI, CT scan দিয়ে এর প্রকৃতি (benign or malignant) সম্পর্কে ধারণা করা হয়।
 

চিকিৎসা:
অন্যান্য ওভারিয়ান টিউমারের চিকিৎসা অপারেশন হলেও ওভারিয়ান সিস্টের চিকিৎসায় অপারেশন দরকার হয় না, হরমোনাল ওষুধ দেয়া যেতে পারে। সাধারণত ২-৩ মাসের মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগুলো চলে যায়। এ সময় অবশ্যই একজন গাইনোকোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে।
তবে অপারেশন লাগতে পারে, যদি—
ক. ওভারিয়ান সিস্ট টুইস্ট/পেঁচিয়ে যায় অথবা Rupture(ফেটে) হয়। এক্ষেত্রে হঠাৎ করে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হয় এবং জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা করাতে হয়।
খ. দীর্ঘদিন ধরে একই রকম থাকলে অথবা ধীরে ধীরে সাইজ বড় হলে কিংবা টিউমারের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে। এবং 
গ. মহিলাদের ৪০ বছরের পর যেকোনো ওভারিয়ান সিস্ট/টিউমার গুরুত্বের সঙ্গে চিকিৎসা করাতে হবে। কারণ এক্ষেত্রে Malignancy বা ক্যান্সার হবার ঝুঁকি থাকে।

মনে রাখতে হবে, ওভারির ডারময়েড সিস্ট এবং চকলেট সিস্টের নামকরণে সিস্ট থাকলেও এগুলো ফাংশনাল বা ফিজিওলজিক্যাল নয়। এগুলো ওভারির প্যাথলজিক্যাল টিউমার, তাই এর চিকিৎসা পদ্ধতিও ভিন্ন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ভিআইপি রোগী

ভিআইপি রোগী

এমবিবিএস পাস করে কেবল ১৯৮৫ সনের নভেম্বর মাসে ইন-সার্ভিস ট্রেইনিং শুরু করেছি।…

স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা ‘অশনিসংকেত’

স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা ‘অশনিসংকেত’

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সৈন্যের সংখ্যা বিশ্বে তৃতীয়! অথচ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ কোনো…

গর্ভবতী মায়ের সন্তানের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু, করণীয় কী?

গর্ভবতী মায়ের সন্তানের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু, করণীয় কী?

ডেঙ্গু বিষয়ক নানা প্রশ্নের একটি হচ্ছে, গর্ভবতী মায়ের ডেঙ্গু হলে সন্তানেরও তা…























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর