০৯ জুন, ২০১৯ ০৯:১০ পিএম
স্থগিতাদেশ না আসায় নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান

হাইকোর্ট নির্দেশ দিলে পরীক্ষা বাতিল হবে: বিএসএমএমইউ উপাচার্য 

হাইকোর্ট নির্দেশ দিলে পরীক্ষা বাতিল হবে: বিএসএমএমইউ উপাচার্য 

মেডিভয়েস রিপোর্ট: হাইকোর্টের নির্দেশ আসলে মেডিকেল অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। রোববার সন্ধ্যায় মেডিভয়েসকে মুঠোফোনে এ কথা জানান তিনি।  

বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, “তারা অনিয়মের অভিযোগ এনে পরীক্ষা বাতিলের দাবি তুলেছে। বলা হয়েছে, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের বয়স বেশি—তাকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেটা তো বাতিলই করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও তারা কোর্টে গেছে। সেখানে প্রমাণ হোক। কোর্ট যদি ঘোষণা (রায়) দেয়, তাহলে সেটা অবশ্যই ফলো করবো।”

এর আগে দুপুরে বিএসএমএমইউর মেডিকেল অফিসার নিয়োগে আগামীকাল (সোমবার) থেকে অনুষ্ঠেয় মৌখিক পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে ক্যাম্পাসে জড়ো হন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা। পরে মিছিল বের করে ও নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় গ্রহণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এ সময় উপাচার্যের কার্যালয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক আহত হন। তাদের অভিযোগ, চিকিৎসকরা শুধু উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন। কিন্তু তিনি পুলিশ ও আনসার ব্যবহার করে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করেছেন।

জানতে চাইলে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া মেডিভয়েসকে বলেন, “তাদের সঙ্গে তো সাক্ষাৎ করলাম। তারা মৌখিক পরীক্ষা পেছাতে বলেছে, লিখিত পরীক্ষা বাতিল করতে বলেছে। আমি বললাম, এটা সম্ভব না। এমন কিছু (লাঠিচার্জ) ঘটে থাকলে তো তারা আমাকে বলতো। আমি তো অফিসে ছিলাম, তাদের সামনে দিয়ে বেরিয়ে আসলাম। এ বিষয়ে আমাকে তারা কিছুই বলেনি। আহত হলে তো তারা সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানাতো।”

বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, “কোর্টে মামলা চলাকালীন তারা তো এখানে আসারও কথা না। মিছিল করে স্লোগান দিয়ে আমার কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটানো…।”

আন্দোলনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন “কোর্ট স্থতিগাদেশ দিলে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকতো। কোর্ট যেহেতু এ ব্যাপারে কিছু বলেনি, সুতরাং আমাকে আমার কাজ চালিয়ে যেতে হবে।”

প্রসঙ্গত, গত ১২ মে বিএসএমএমইউর মেডিকেল অফিসার ও মেডিকেল অফিসার (ডেন্টাল সার্জারি) পদে নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। পরীক্ষায় এক পদের জন্য চারজন পাস করেন। এ হিসাবে ৭১৯ জন মেডিকেল অফিসার ও ডেন্টালের ৮১ জন মিলে মোট ৮২০ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এ অবস্থায় চূড়ান্ত নিয়োগের লক্ষ্যে তাদের ৫০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে। 

কিন্তু ফলাফল ঘোষণার পরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ‘সুযোগবঞ্চিত’ চিকিৎসকরা। তারা পরীক্ষায় দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজন প্রীতির অভিযোগে তা বাতিল ও পুনঃপরীক্ষা গ্রহণ এবং উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার পদত্যাগের দাবিতে ওই দিন থেকে বিএসএমএমইউতে বিক্ষোভ শুরু করেন পরীক্ষার্থীরা। একই দাবিতে গত ১৮ মে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। 

এরই ধারাবাহিকতায় নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল বাতিলের পাশাপাশি পুনরায় গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে গত ১৯ মে আলাদা দুটি রিট দায়ের করেন পরীক্ষায় অংশ নেয়া চিকিৎসকরা। 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত