ঢাকা      মঙ্গলবার ১৮, জুন ২০১৯ - ৫, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী

প্রতিদিন যৌনবাহিত সংক্রমণের শিকার ১০ লাখেরও বেশি মানুষ

মেডিভয়েস ডেস্ক: প্রতিদিন বিশ্বব্যাপী ১০ লাখেরও বেশি মানুষ যৌনবাহিত সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। সংস্থাটির অনলাইন বুলেটিনে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা ও সমীক্ষায় এ কথা বলা হয়েছে বলে গত বৃহস্পতিবার সিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।  

চার সংক্রমণ হলো: ক্ল্যামাইডিয়া, গনোরিয়া, ট্রিকোমোনিয়াসিস এবং সিফিলিস। 

সংস্থাটি বলছে, অধিকাংশ সংক্রমণ সহজে প্রতিরোধযোগ্য এবং নিরাময়যোগ্য। তবে কিছু রোগ, বিশেষ করে গনোরিয়া, সুপারবাগ প্রয়োগ অধিক মাত্রায় হওয়ার কারণে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েও এর চিকিৎসা কঠিন হয়ে উঠছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রজনন স্বাস্থ্য ও গবেষণার বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. টিওডোরা বলেন, “যৌন বাহিত সংক্রমণের ঘটনা সব জায়গায় হচ্ছে, এবং এটি কল্পনাতীত।”

২০১৬ সালের বৈশ্বিক জরিপের ভিত্তিতে তৈরি ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছর ক্ল্যামাইডিয়ায় ১২৭ মিলিয়ন মানুষ সংক্রমিত হয়েছে। এছাড়া গনোরিয়ায় ৮৭ মিলিয়ন ও সিফিলিসে সংক্রমিত হয়েছে ৬ মিলিয়ন মানুষ। আর ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়স্ক ১৫৬ মিলিয়ন নারী ও পুরুষ সংক্রমিত হয়েছে ট্রিকোমোনিয়াসিসে।  
 
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, যৌনবাহিত সংক্রমণ (এসটিআই) বিশ্বব্যাপী একটি “স্থায়ী ও স্থানীয় স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সকলের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে আক্রান্তরা গুরুতর এবং দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হবে, যার মধ্যে নিউরোলজিক্যাল এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগ ও বন্ধ্যাত্বসহ এইচআইভি বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, শুধুমাত্র সিফিলিসের কারণে বিশ্বে আনুমানিক ২ লাখ নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। এটি বিশ্বব্যাপী মানব শিশুর ক্ষয়ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ২০১২ সালের পর থেকে যৌন সংক্রমণের হার হ্রাস পাচ্ছে না।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ডা. পিটার সালমা এক সংবাদ বিবৃতিতে বলেন, “আমারা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, যৌন সংক্রমণের বিস্তার বন্ধে অগ্রগতিমূলক পদক্ষেপের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এসব রোগের প্রতিরোধ ও চিকিৎসার লক্ষ্যে সর্বত্র রোগগুলোর পরিষেবা কার্যকর করতে সবাইকে একসঙ্গে জেগে উঠতে হবে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা বলছে, ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট যৌন সংক্রমণ সাধারণত চিকিৎসা এবং সহজলভ্য ঔষধে নিরাময় করা যেতে পারে, কিন্তু বিশ্বব্যাপী বেনজ্যাথাইন পেনিসিলিন সরবরাহের সাম্প্রতিক অভাবগুলো সিফিলিস নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন করে তুলেছে। আর গনোরিয়া চিকিৎসার ক্ষেত্রে ওষুধের অপ্রতুলতা একটি ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য হুমকি।

ব্রিটেনের ওয়েলকাম ট্রাস্ট গ্লোবাল হেলথ চ্যারিটির সংক্রামক ব্যাধি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ টিম জিন্স বলেন, এসটিআইগুলোর কিছু দিক বিপজ্জনক হয়ে উঠছে, বিশেষ করে কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অকার্যকর হয়ে উঠছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক ইমেইল মন্তব্যে তিনি বলেন, "অধিক সংখ্যক মানুষের গনোরিয়ায় আক্রান্তের বিষয় বিশেষ উদ্বেগের। ক্রমবর্ধমান যে 'অতি-গনোরিয়া' আমরা দেখছি, বাস্তবিকই তার চিকিৎসা করা অসম্ভব।"

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ভুটানে সর্বোচ্চ বেতন পাবেন শিক্ষক-চিকিৎসকরা

ভুটানে সর্বোচ্চ বেতন পাবেন শিক্ষক-চিকিৎসকরা

মেডিভয়েস ডেস্ক: চিকিৎসা এবং শিক্ষকতা সবচেয়ে খাঁটুনির কাজ এবং এই দুইটি পদে…

ভারতে চিকিৎসকের উপর হামলার প্রতিবাদে ১২ ঘণ্টার ধর্মঘট

ভারতে চিকিৎসকের উপর হামলার প্রতিবাদে ১২ ঘণ্টার ধর্মঘট

মেডিভয়েস নিউজ: চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগে ভারতে জুনিয়র চিকিৎসকদের উপর হামলা…

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চিকিৎসকদের গণ-পদত্যাগ

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চিকিৎসকদের গণ-পদত্যাগ

মেডিভয়েস ডেস্ক: ‘এসমা’ (Essential Service Maintenance Act) জারির হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে…

এবার ভারত জুড়েই হাসপাতাল ধর্মঘটের ডাক

এবার ভারত জুড়েই হাসপাতাল ধর্মঘটের ডাক

মেডিভয়েস ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসকদের উপর হামলা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনরত…

শিশুদের বিরল-রোগ নির্ণয়ে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের বিস্ময়

শিশুদের বিরল-রোগ নির্ণয়ে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের বিস্ময়

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুদের রোগ নির্ণয়ে জিনোম সিকোয়েন্সিং বা ডিএনএ-এর…

ভারতে তাপদাহে ৪০ জনের মৃত্যু 

ভারতে তাপদাহে ৪০ জনের মৃত্যু 

মেডিভয়েস ডেস্ক: ভারতে তাপদাহে কমপক্ষে ৪০ জন মারা গেছেন। শনিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর