ঢাকা      রবিবার ১৮, অগাস্ট ২০১৯ - ৩, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. জামান অ্যালেক্স

বিসিএস মেডিকেল অফিসার


ঈদে পোলাও কোরমা খান, সমস্যা হলে চিকিৎসকরা আছি

চার জন সুঠাম-দেহী যুবক আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এদের মধ্যে একজনের হাতে স্যালাইনের নল লাগানো, তিনি তার অন্য হাত দিয়ে স্যালাইনের প্লাস্টিকের বোতল উঁচু করে ধরে রেখেছেন। ঘটনা হলো এই লোক পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে ভর্তি ছিলেন পাশ্ববর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ডাক্তার সাহেব ভর্তির সাথে সাথে জানিয়ে দিয়েছেন আগামী দুইদিন রোগীর মুখে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ।

রোগী ও তার সাথের লোকদের ধারণা ডাক্তার সাহেব ইচ্ছে করে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই রোগীকে নিয়ে তার তিন বন্ধু পালিয়ে আমার এখানে এসেছেন। আমি রোগীর সাথে কথাবার্তা শুরু করলামঃ

- পালিয়ে আসলেন কেন? ঘটনাটা কি?

- আমারে জোর কইরা হাসপাতালে ভর্তি কইরা হ্যারা কয় আমার নাকি খাওয়াদাওন বন্ধ! এইটা কেমুন কথা..!

- আপনার যে রোগ (Acute Abdomen), সেই রোগে খাওয়া-দাওয়া বন্ধও এক ধরণের চিকিৎসা।

- (চোখ বড় বড় করে আশ্চর্যান্বিত হয়ে) তাই বইলা ঈদে একটু 'পুলাউ-মাংস' খামুনা?

- আরেহ যন্ত্রনা! জীবনে 'পুলাউ-মাংস' কখনো খান নাই! আপাতত 'পুলাউ-মাংস' কয়েকদিন বন্ধ। আমি ভর্তি লিখে দিচ্ছি, হাসপাতালে ভর্তি হন...।

- আপনেও কি ঐ ডাক্তারের মত আমার খাওন-দাওন বন্ধ কইরা দিতাছেন?

- জ্বি, খাওয়া-দাওয়া তো বন্ধই, নাকে নলও লাগাতে হবে। যে রোগের যে চিকিৎসা।একটু অপেক্ষা করেন...।

মাথা নিচু করে চিকিৎসা লিখছিলাম। লেখা শেষ করে নামধাম রেজিস্টার খাতায় তুলতে গিয়ে মাথা উঠিয়ে দেখি রোগী সহ চারজন লোক একদম হাওয়া! অ্যাডমিশন শিট নিয়ে হন্তদন্ত করে রুমের বাইরে গিয়ে দেখি উনারা একটা টমটম গাড়িতে করে পালিয়ে যাচ্ছেন। আমি 'এই যে' 'এই যে' বলে হাক দিতেই টমটমের গতি আরো বাড়লো...!

দুই.

- কি চাচা, ঘটনা কি?

- আমারে ছুটি দেন।

- শরীর তো ভালো না, জ্বর তো অনেক।

- (অন্যদিকে তাকিয়ে) জ্বরের খেতা পুরি, আমি থাকপো না...।

- প্রেসারও তো কম, থাকেন আর দুইটা দিন, ঈদ উপলক্ষে আজকে দুপুরে পোলাও কোরমা দিবে হাসপাতালে।

- (শরীর চুলকাতে চুলকাতে) আপনের 'পুলাউ-কুরমা' আপনে খান, আমি থাকপো না।

- সমস্যাটা কি? এত ত্যাড়া-ত্যাড়া কথা বলতেছেন কেন? হাসপাতালের কেউ কি আপনারে কিছু বলছে?

- জ্বে না...।

- তাহলে তো আপনাকে ছাড়া যাবে না।

- (রেগে গিয়ে) আপনে কি আমারে বাইন্ধা রাখবার চান! ছাওয়ালরা সব ঈদ করতে বাড়িত আসছে আর আমি জ্বর ..... (অশ্লীল ভাষা) হাসপাতালে পইড়া আছি। থাকপো না আমি হাসপাতালে।

আমার সামনে তার নিঃশঙ্কচিত্তে 'চ' বর্গীয় শব্দের (অশ্লীল ভাষা) ব্যবহারে আমি অনেকটা হতভম্ব এবং কিছুটা ব্যথিত। এরপর হাসপাতালে থাকার জোড়াজুড়ি করলে আরো কোন কোন বর্গীয় শব্দবোমা ছাড়েন কে জানে! খাল কেটে সাপ-কুমির ডেকে আনা ঠিক না। ছাড়পত্র দিয়ে দ্রুত বিদায় দিলাম।

আমি অবশ্য দু’জনের একজনকেও দোষারোপ করতে পারছি না। ঈদের বর্ণিল আনন্দের সময় হাসপাতালের বেডে পড়ে থাকা কোন কাজের কথা না। পরিবার পরিজনের সান্নিধ্যে ঈদের সুন্দর মুহূর্তগুলো উপভোগ করুন। আনন্দ করুন, উৎসব করুন, পোলাও কোর্মা খান। সমস্যা হলে আমরা চিকিৎসকরা আছি আপনাদের পাশে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ঈদে ভোজন-পূর্ব যে বিষয়গুলোতে দৃষ্টি রাখবেন

ঈদে ভোজন-পূর্ব যে বিষয়গুলোতে দৃষ্টি রাখবেন

শুরুতেই ঈদ মোবারক। কোরবানী ঈদের সবচেয়ে আনন্দদায়ক, আকর্ষনীয় শেষ পর্ব- মাংস কাটা,…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর