ঢাকা      মঙ্গলবার ২৫, জুন ২০১৯ - ১২, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী

‘১৬ কোটি মানুষের জন্য একটি নিউরো হাসপাতালই যথেষ্ট নয়’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক ও দেশবরেণ্য এ নিউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম বলেছেন, আমি স্বীকার করি আমাদের হাসপাতালে যেসব রোগী ভর্তির জন্য আসেন, তাদের সবাইকে সিট দেয়া সম্ভব হয় না। তবে আমাদের একটা কথা মনে রাখতে হবে, ১৬ কোটি মানুষের দেশে মাত্র সাড়ে চারশো বেডের একটা নিউরো হাসপাতাল যথেষ্ট নয়।

সম্প্রতি দেশবরেণ্য এ নিউরোলজিস্ট মেডিভয়েসের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটা প্রবণতা আছে, যে কোনো রোগ হলেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। ভালো ও উন্নত সেবা পেতে হলে এ প্রবণতা রোধ করতে হবে।

ডা. বদরুল আলম বলেন, আমরা যখন এ হাসপাতাল করি তখন আমরা বলেছিলাম, খুব বেশি প্রয়োজন না হলে কোনো রোগীকে ভর্তি রাখবো না। তাদেরকে আউটডোরে দেখবো, জরুরি বিভাগে দেখবো। সার্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাটা তাদের বাড়িতে দিয়ে দিবো, যাতে পুরো পরিবার তাদের দেখাশোনা করতে পারে। রোগীর সঙ্গে যখন দূরদূরান্ত থেকে স্বজনরা আসেন, তখন তারা আশপাশের কোনো হোটেলে থাকেন। তখন তাদের অনেক টাকা-পয়সা নষ্ট হয়। এজন্য আমরা মনে করি, যেসমস্ত রোগীদের আমরা চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠাতে পারবো অথবা আশপাশের হাসপাতালে থেকে যারা চিকিৎসা চালিয়ে নিতে পারবে সেসব রোগীদের ভর্তি করার দরকার নেই। আর সে কারণে যেসব রোগীরা বাসায় বসে সেবা নিতে পারে তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিই। আর বলে দিই প্রয়োজনে একমাস দুমাস পরে এসে যেন দেখিয়ে যায়।

এতে অনেকে অভিযোগ করে বসেন যে, আমাকে তো ভর্তি দিল না। আসলে বিষয়টা তা নয়। আসল ব্যাপার হচ্ছে, যেসব রোগীর এখানে ভর্তি দরকার সেসব রোগীকে আমরা ভর্তি করবোই। হয়তো সিট না থাকায় আজকে পারছি না, সেক্ষেত্রে কালকে করবো, কালকে নাহলে পরশু করবো। কিন্তু যাদের চিকিৎসা বাড়িতে করা সম্ভব তাদের কেন ভর্তি করবো? এই ভর্তি না করার ফলে একটা ভুল ধারণা তৈরি হয়, আর সেটা থেকেই সিট না পাওয়ার অভিযোগ করা হয়। 

নতুন সংযোজন হতে যাওয়া নিউরো সায়েন্সের ভবনে কি পরিমাণ রোগী সেবা পাবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোগীর সেবাদানে প্রধানমন্ত্রী নিউরো সায়েন্সকে আরো একটা ভবন প্রতিষ্ঠা করার অনুমোদন দিয়েছেন। সেটা হবে আরো পাঁচশ’ শয্যার। অর্থ্যাৎ এ নিয়ে নিউরো সায়েন্স হাসপাতালটি হবে সাড়ে নয়শো শয্যার হাসপাতাল। এখানে আরো নতুন নতুন কিছু ডিপার্টমেন্ট সংযোজন হবে, যেসব ডিপার্টমেন্ট বর্তমানে বাংলাদেশে নেই। যেমন: স্ট্রোকের রোগীদের পুনর্বাসন দরকার। কিন্তু সেরকম কোনো ব্যবস্থা আমাদের দেশে নাই। আবার ডিমেনসিয়া রোগীদের জন্যও হাসপাতালে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। নতুন পাঁচশ’ বেডে তাদের জন্য কিছু বেড রাখবো। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হচ্ছে, ছোট ছোট বাচ্চাদের পেডিয়াট্রিক নিউরো সার্জারি বিভাগ। আপনি দেখে থাকবেন, অনেক ছোট বাচ্চার মাথা ফুলে যায়, মাথায় পানি জমে বা মাথা মোটা হয়ে যায়। এগুলো হচ্ছে ব্রেইনের জন্মগত ত্রুটি। এই রোগীগুলোর জন্যও সারাদেশে সরকারি হাসপাতালে তেমন কোনো শয্যা নেই।

আমরা মনে করি, নতুন এই পাঁচশ’ বেড করতে পারলে তাদের জন্যও একটা ব্যবস্থা করতে পারবো। এছাড়া অত্যাধুনিক কিছু স্ট্রোক ইউনিট করবো। এতে স্ট্রোকের রোগীদের জন্য আইভি টিপিএ চিকিৎসার পরিসর আরও বৃদ্ধি পাবে। তখন স্ট্রোকের রোগীদের যদি আক্রান্ত হওয়ার ৬ ঘণ্টার মধ্যে নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে আনা সম্ভব হয়, তাহলে এই চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে ভালো করে তোলা সম্ভব হবে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এটা হবে একটা যুগান্তকারী পরিবর্তন।

সেবা নিতে আসেন তাদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম বলেন, এটা একটি সরকারি হাসপাতাল। এখানে মানুষের সেবা পাওয়ার অধিকার আছে। আমাদের দায়িত্ব হলো, পরিপূর্ণ সেবা প্রদান করা। কিন্তু প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আশা করা উচিত নয়। আমাদের বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। সব রোগী এখানে চিকিৎসা নিয়ে ভালো হবে এমনটা না। এখানে এমন কিছু রোগী আসে শেষ পর্যায়ে, যাদের জন্য আমাদের করার কিছুই থাকে না। একসময় রোগী মৃত্যুবরণ করে। কিন্তু তার আত্মীয়-স্বজন এই মৃত্যুকে মেনে নিতে চান না। এই বাস্তব উপলব্ধিগুলো মানুষের মাঝে জাগ্রত হলে আমরা আমাদের কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে পারবো।

পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারটি ► অদূর ভবিষ্যতে কোনো রোগী বিদেশ যাবে না

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ















জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর