ঢাকা      সোমবার ২৩, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৭, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী

আমাদের হেলথে প্রমোশন জটিলতা অনেক: স্বাচিপ মহাসচিব

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব ও বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেছেন, অন্যান্য ক্যাডারে সময় ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী স্কেল বাড়ে, পদোন্নতি হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে ৫ বছর ধরে পোস্ট গ্রাজুয়েশন করতে হবে, তারপর তিন বছর প্রশিক্ষণ দিতে হবে, ডিগ্রি নিতে হবে, বেশ কয়েকটা প্রকাশনা থাকতে হবে ইত্যাদি নানা হিসাব নিকাশ রয়েছে পদোন্নতিতে। এত কিছু পেরিয়ে তারপর কেউ সহকারী অধ্যাপক হন। তারপরেও আবার পরীক্ষা দিতে হয়। আমাদের হেলথে প্রমোশন জটিলতা অনেক। এ ধরনের নানা বিষয় বিবেচনা করে অনেক তরুণ চিকিৎসক অন্য পেশায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সম্প্রতি মেডিভয়েসের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাচিপ মহাসচিব বলেন, অনেক চিকিৎসক নিজস্ব পেশা বাদ দিয়ে বিসিএসে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। আমার সাথে যারা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে জয়েন করেছিলেন তারা সচিব হয়ে গেছেন। আর আমাদের চিকিৎসকরা হয়তো মেডিকেল অফিসার, সিভিল সার্জন, টিএইচও হয়ে অবসরে যাচ্ছেন। এমনকি তারা স্কেলও পান না। এজন্য হতাশা কাজ করছে। এজন্যই তরুণ চিকিৎসকরা অন্য প্রফেশনে চলে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, সরকারি চিকিৎসকদের মধ্যে পেশা নিয়ে অনেক হতাশা রয়েছে। এর অনেকগুলো কারণ রয়েছে। তার মধ্যে উদাহরণস্বরূপ আমি বলি- ৮ম বিসিএসের একজন গাইনোকলজিস্ট (স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ) ২৫ বছর ধরে জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছেন, আবার অন্য সাবজেক্টের ২৮তম বিসিএসের আরেকজন চিকিৎসক ইতিমধ্যেই সহযোগী অধ্যাপক হয়ে গেছেন। এ বৈষম্যের কারণে এ পেশায় হতাশা আসছে। এটা অবশ্যই সমন্বয় করতে হবে।

বৈষম্যের বিষয়ে সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে উল্লেখ করে ডা. এম এ আজিজ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর বিভিন্ন কোর্সে ২ থেকে ৩ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাদের মধ্যে সরকারি শিক্ষার্থী থাকেন, বেসরকারি শিক্ষার্থীও থাকেন। ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর ও চয়েসের ভিত্তিতে তারা নির্দিষ্ট বিষয়ে ভর্তি হন। এখন বেসরকারি শিক্ষার্থী যারা, তারা তো যা খুশি সেটাতেই পড়বেন। কিন্তু সরকারি শিক্ষার্থী যারা তাদের মধ্যে প্রতিবছর কতজন  সার্জারি, কতজন গাইনি বা কতজন অ্যানেস্থেশিয়ার চিকিৎসক দরকার এটা আগে থেকেই ঠিক করতে হবে। তারপর পরীক্ষার ভিত্তিতে মেরিট অ্যান্ড চয়েস অনুসারে নির্দিষ্ট বিষয়ে যতজন দরকার ততজন পড়ার সুযোগ পাবেন। তাহলে কিন্তু সমস্যাগুলো থাকবে না। পাঁচ বছরের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান হয়ে যাবে। বিদেশেও তাই হয়। এমনকি আমাদের  দেশে সেনাবাহিনীতেও তাই হয়। আমরা চাই এ সেক্টরেও এটা বাস্তবায়ন হোক।

বর্তমানে একজন মেডিকেল অফিসার পরের ধাপে কনসালটেন্ট এরপরের ধাপে সহকারী অধ্যাপক হয়ে যান। আমরা চাচ্ছি পদোন্নতি তিনটা ক্যাটাগরিতে হোক। একটা ক্যাটাগরি হোক মেডিকেল অফিসার, আরএমও, টিএইচও, সিভিল সার্জন, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর, ডেপুটি ডিরেক্টর, ডিরেক্টর, এডিজি, ডিজি এভাবে। তাদের প্রশাসনিক একটা লাইন থাকবে গ্রেড ওয়ান পর্যন্ত।

আরেকটা ক্যাটাগরি হবে জুনিয়র কনসালটেন্ট, সিনিয়র কনসালটেন্ট, এডিশনাল কনসালটেন্ট, চিফ কনসালটেন্ট এভাবে। তারা হাসপাতালে সার্ভিস দেবেন। শেষ ক্যাটাগরিটা হবে যারা শিক্ষকতা করবেন তাদের নিয়ে। তাদের ক্ষেত্রে লেকচারার, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও প্রফেসর এভাবে ভাগ করা উচিত। এভাবে ভাগ করে দেয়া হলে বৈষম্য কমে আসবে।

তিনি বলেন, সরকার এগুলো বাস্তবায়ন করলে বৈষম্য সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বিসিএসের সব পোস্টে গ্রেড ওয়ান আছে, শুধু আমাদের চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে নাই। ডাক্তারদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পদোন্নতি হচ্ছে জয়েন্ট সেক্রেটারি পর্যন্ত। এর উপরে উঠতে পারবেন না। দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীরা মেডিকেল চান্স পায় আর তারা চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ জয়েন্ট সেক্রেটারি পর্যন্ত হতে পারেন। আর অন্য বিসিএস ক্যাডাররা সচিব পর্যন্ত হন। না হলেও সচিব স্কেল পান। এটাও চিকিৎসকদের মধ্যে হতাশার একটা কারণ। সরকারের উচিত প্রশাসনে বৈষম্য কমাতে এ বিষয়টাতে নজর দেয়া।

এক নজরে অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ:

অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ মৃত্যুঞ্জয় উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়ে বিখ্যাত আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৭৮ সালে একই বিভাগে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। আর সেখান থেকেই সক্রিয়ভাবে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত হন।

তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নির্বাচিত হন ১৯৮২ সালে। ১৯৮৩ সালে একই শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ১৯৮৪ সালে সরাসরি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। একই বছর ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন আজিজ। এরপর ১৯৮৫ সালে এমবিবিএস পাশ করে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) ময়মনসিংহ শাখার সেন্ট্রাল কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি।

১৯৮৯ সালে এ সংগঠনের নেত্রকোনা জেলার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম পেশাজীবি সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পদ লাভ করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন আইপিজিএম এন্ড আর এর হোস্টেল ওয়েলফেয়ার কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হন তিনি।

১৯৯৬ সালে বিএমএ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদ লাভ করেন আজিজ। দুবছর পর ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর দলের দুর্দিনে তিনি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হয়ে দলের পক্ষে কাজ করে যান। এরপর ২০০৯ সালে বিএমএ এর যুগ্ম সহাসচিব নির্বাচিত হন তিনি।

রাজনৈতিক কর্মকান্ড সহজভাবে পরিচালনা করতে ২০১০ সালের ৪ ঠা জানুয়ারীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশা থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে তিনি ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে যোগদান করেন। ২০১২ সালে ফের এর স্বীকৃতস্বরূপ তিনি বিএমএ এর যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন।

বর্তমানে তিনি ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে অধ্যক্ষ পদে নিয়োজিত আছেন। চিকিৎসা খাতে অবদানের জন্য আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব হিসেবে চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজের নাম ঘোষণা করেন।

সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি ► চিকিৎসকদের পদোন্নতি তিনটি ক্যাটাগরিতে হোক

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় রেকর্ড সংখ্যক আবেদন

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় রেকর্ড সংখ্যক আবেদন

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায…

চিকিৎসক হিসেবে স্বীকৃতি চান পল্লী চিকিৎসকরা

চিকিৎসক হিসেবে স্বীকৃতি চান পল্লী চিকিৎসকরা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নির্ধারিত কিছু কোর্স সম্পন্ন করেই নিবন্ধিত চিকিৎসকের মর্যাদা চাচ্ছেন পল্লী…

‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন…

উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি পেলেন ৪৯ চিকিৎসক

উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি পেলেন ৪৯ চিকিৎসক

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের বিভাগীয় পদোন্নতি পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সুপারিশক্রমে…

ঢাকা মেডিকেল কলেজ নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ভেঙে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে বড় পরিসরে নির্মাণের…

কুমিল্লার সেরা মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল ফরহাজ খান

কুমিল্লার সেরা মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল ফরহাজ খান

মো. মনির উদ্দিন: কুমিল্লা জেলার সেরা মেডিকেল অফিসার হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন চান্দিনা…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস