ঢাকা      রবিবার ১৮, অগাস্ট ২০১৯ - ৩, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. আতিকুজ্জামান ফিলিপ

সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ


ঈদে হাসপাতালের বহির্বিভাগ চালুর নির্দেশনা কতটুকু যৌক্তিক?

ঈদের ছুটিতে এদেশে ইমারজেন্সি বা জরুরি সেবা ছাড়া আর কোনো স্বাভাবিক বা ঐচ্ছিক সেবা চালু থাকে কি-না আমার জানা নেই! 

ঈদের ছুটিতে শুধুমাত্র জরুরি পুলিশ সার্ভিস, জরুরি ফায়ার সার্ভিস যেমন চালু থাকে তেমনি হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সার্ভিস এবং ইনডোর সার্ভিস চালু থাকে!

ঈদের ছুটিতে ব্যাংক, বীমা ও কোর্ট-কাছারি আইন ফৌজদারি ও অন্যান্য অফিস আদালত যেমন স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ থাকে, তেমনি শুধুমাত্র হাসপাতালের আউটডোর সার্ভিসটাই বন্ধ থাকে।

কারণ হাসপাতালের আউটডোরে সেবা নিতে যায় ক্যাটাগরিকালি স্বাভাবিক রোগীরা, যারা মুমূর্ষু নয়!

আর মুমূর্ষু বা দুর্ঘটনাপীড়িত রোগীর জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগ শুধু ঈদের দিন নয়, সকল ছুটির দিনসহ বছরের ৩৬৫ দিনই খোলা থাকে। সেখানে ঈদের ছুটি ও অন্যান্য সকল ছুটিতেই চিকিৎসকরা রোস্টার ডিউটি করেন।

আউটডোর এবং ইমারজেন্সি সার্ভিসের এই পার্থক্যটা সাধারণ মানুষ না বুঝলে সেই কষ্টটুকু সহ্য করা যায়। কিন্তু যখন আমাদের স্বাস্থ্যের কর্তাব্যক্তিরা এই পার্থক্যটুকু বুঝেও না বোঝার ভান করেন, তখন আমাদের দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না!

আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, আমাদের স্বাস্থ্যখাতের (মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর) কর্তাব্যক্তিরা সম্প্রতি চিকিৎসকদের ঈদের ছুটিসহ সকল ধরনের সরকারি ছুটি বাতিল করে হাসপাতালগুলোতে আউটডোর সার্ভিস চালু রাখার নির্দেশনা দিচ্ছেন!এ যেন চিকিৎসকদের উপর চাপিয়ে দেওয়া স্বাস্থ্যখাতের কর্তাব্যক্তিদের ঔপনিবেশিক অপশাসন!

অথচ আমরা দেখেছি, এসব ছুটির দিনে আউটডোরে তেমন কোনো রোগী আসে না কারণ
ছুটির দিনগুলোতে পরিবারের সঙ্গেই কাটায় তারা। আর যে দু'একজন আউটডোরে আসে তারা পরিবারের সঙ্গে চিকিৎসকদের ছুটি কাটাতে না পারার মজা দেখতে আসে! 

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এইদেশে ঈদ একটিমাত্র মহা আনন্দের উৎসব যেটির জন্য মুসলিমরা চাতকপাখির মতো প্রায় সারাবছর অধীর আগ্রহ নিয়ে থাকে!ঈদের ছুটিতে মা-বাবা, ভাই-বোন বউ-বাচ্চা, বন্ধু-বান্ধব পাড়াপ্রতিবেশী আত্মীয়পরিজন নিয়ে মহা ধুমধামে এই উৎসবটি পার করতে চায় সবাই।

কিন্তু চিকিৎসকদের যেন তা আর হবার নয়! আজ থেকে ৫/৭ বছর আগেও এমন লোকদেখানো সস্তা জনপ্রিয়তা কামানোর জন্য আমাদের স্বাস্থ্যখাতের কর্তাব্যক্তিরা এমনটি করতেন না!
তারা ঈদের দিনটা অন্তত চিকিৎসকদের রেহাই দিতেন! এখন আর রেহাই দেন না!সামনে আরো কেমন দিন অপেক্ষা করছে আল্লাহ্ই মালুম!

জনশ্রুতি আছে, যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ!আমাদের কর্তাব্যক্তিরা আমাদের চিকিৎসকদেরকে চুবাইতে চুবাইতে তারা না মরা পর্যন্ত অথবা চিকিৎসকরা ডলা খেয়ে খেয়ে প্রতিবাদী হয়ে ঘুরে দাঁড়ানো পর্যন্ত বোধ করি ক্ষান্ত হবেন না!

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ঈদে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল প্রসঙ্গে আবেদন

ঈদে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল প্রসঙ্গে আবেদন

‘‘এবারের পবিত্র ঈদুল আজহায় ছুটি না নিয়ে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার্থে আপনারা স্বাস্থ্য…

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতাল নিটোরের গল্প

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতাল নিটোরের গল্প

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিটোর নিয়ে কিছু কথা উঠেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতালটির…

মৃত্যুর আগে কথোপকথন

মৃত্যুর আগে কথোপকথন

হাতির মতন বিশাল মেশিনটি আমার বুকের উপর দিয়ে বার কয়েক চক্কর দিয়ে…

সরকারি হাসপাতালে নানা অনিয়মই যখন নিয়ম!

সরকারি হাসপাতালে নানা অনিয়মই যখন নিয়ম!

একজন কনসালটেন্ট তার মামাতো ভাইকে দেখাতে এসেছে। রোগীর সাথে কথা বলছি, এই…

শুধুমাত্র চিকিৎসকদের ঈদ ছুটি বাতিল কেন?

শুধুমাত্র চিকিৎসকদের ঈদ ছুটি বাতিল কেন?

দুপুর আড়াই টা, বৃহস্পতিবার, ৮ আগষ্ট ২০১৯। ব্যাংকে গিয়ে চেক জমা দিলাম।…

মানহীন মেডিকেলের প্রাদুর্ভাব বন্ধে মেডিকেলিয় ভূমিকা

মানহীন মেডিকেলের প্রাদুর্ভাব বন্ধে মেডিকেলিয় ভূমিকা

আমরা সবাই জানি এবং প্রতিনিয়ত বলে বেড়াচ্ছি ব্যাঙের ছাতার মতো মানহীন মেডিকেল…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর