ঢাকা শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ২৪ মিনিট আগে
ডা. আতিকুজ্জামান ফিলিপ

ডা. আতিকুজ্জামান ফিলিপ

সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ


০৩ জুন, ২০১৯ ০৮:৫১

ঈদে হাসপাতালের বহির্বিভাগ চালুর নির্দেশনা কতটুকু যৌক্তিক?

ঈদে হাসপাতালের বহির্বিভাগ চালুর নির্দেশনা কতটুকু যৌক্তিক?

ঈদের ছুটিতে এদেশে ইমারজেন্সি বা জরুরি সেবা ছাড়া আর কোনো স্বাভাবিক বা ঐচ্ছিক সেবা চালু থাকে কি-না আমার জানা নেই! 

ঈদের ছুটিতে শুধুমাত্র জরুরি পুলিশ সার্ভিস, জরুরি ফায়ার সার্ভিস যেমন চালু থাকে তেমনি হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সার্ভিস এবং ইনডোর সার্ভিস চালু থাকে!

ঈদের ছুটিতে ব্যাংক, বীমা ও কোর্ট-কাছারি আইন ফৌজদারি ও অন্যান্য অফিস আদালত যেমন স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ থাকে, তেমনি শুধুমাত্র হাসপাতালের আউটডোর সার্ভিসটাই বন্ধ থাকে।

কারণ হাসপাতালের আউটডোরে সেবা নিতে যায় ক্যাটাগরিকালি স্বাভাবিক রোগীরা, যারা মুমূর্ষু নয়!

আর মুমূর্ষু বা দুর্ঘটনাপীড়িত রোগীর জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগ শুধু ঈদের দিন নয়, সকল ছুটির দিনসহ বছরের ৩৬৫ দিনই খোলা থাকে। সেখানে ঈদের ছুটি ও অন্যান্য সকল ছুটিতেই চিকিৎসকরা রোস্টার ডিউটি করেন।

আউটডোর এবং ইমারজেন্সি সার্ভিসের এই পার্থক্যটা সাধারণ মানুষ না বুঝলে সেই কষ্টটুকু সহ্য করা যায়। কিন্তু যখন আমাদের স্বাস্থ্যের কর্তাব্যক্তিরা এই পার্থক্যটুকু বুঝেও না বোঝার ভান করেন, তখন আমাদের দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না!

আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, আমাদের স্বাস্থ্যখাতের (মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর) কর্তাব্যক্তিরা সম্প্রতি চিকিৎসকদের ঈদের ছুটিসহ সকল ধরনের সরকারি ছুটি বাতিল করে হাসপাতালগুলোতে আউটডোর সার্ভিস চালু রাখার নির্দেশনা দিচ্ছেন!এ যেন চিকিৎসকদের উপর চাপিয়ে দেওয়া স্বাস্থ্যখাতের কর্তাব্যক্তিদের ঔপনিবেশিক অপশাসন!

অথচ আমরা দেখেছি, এসব ছুটির দিনে আউটডোরে তেমন কোনো রোগী আসে না কারণ
ছুটির দিনগুলোতে পরিবারের সঙ্গেই কাটায় তারা। আর যে দু'একজন আউটডোরে আসে তারা পরিবারের সঙ্গে চিকিৎসকদের ছুটি কাটাতে না পারার মজা দেখতে আসে! 

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এইদেশে ঈদ একটিমাত্র মহা আনন্দের উৎসব যেটির জন্য মুসলিমরা চাতকপাখির মতো প্রায় সারাবছর অধীর আগ্রহ নিয়ে থাকে!ঈদের ছুটিতে মা-বাবা, ভাই-বোন বউ-বাচ্চা, বন্ধু-বান্ধব পাড়াপ্রতিবেশী আত্মীয়পরিজন নিয়ে মহা ধুমধামে এই উৎসবটি পার করতে চায় সবাই।

কিন্তু চিকিৎসকদের যেন তা আর হবার নয়! আজ থেকে ৫/৭ বছর আগেও এমন লোকদেখানো সস্তা জনপ্রিয়তা কামানোর জন্য আমাদের স্বাস্থ্যখাতের কর্তাব্যক্তিরা এমনটি করতেন না!
তারা ঈদের দিনটা অন্তত চিকিৎসকদের রেহাই দিতেন! এখন আর রেহাই দেন না!সামনে আরো কেমন দিন অপেক্ষা করছে আল্লাহ্ই মালুম!

জনশ্রুতি আছে, যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ!আমাদের কর্তাব্যক্তিরা আমাদের চিকিৎসকদেরকে চুবাইতে চুবাইতে তারা না মরা পর্যন্ত অথবা চিকিৎসকরা ডলা খেয়ে খেয়ে প্রতিবাদী হয়ে ঘুরে দাঁড়ানো পর্যন্ত বোধ করি ক্ষান্ত হবেন না!

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত