০২ জুন, ২০১৯ ০১:৩৫ পিএম

চিকিৎসক থেকে আমলা হওয়ার গল্প

চিকিৎসক থেকে আমলা হওয়ার গল্প

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব ডা. এ এম পারভেজ রহিম। ছোটবেলা থেকেই বড় মাপের চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছে থাকলেও ভাগ্য তাঁকে নিয়ে গেলো প্রশাসন ক্যাডারে। চিকিৎসক হয়েও স্বাস্থ্য ক্যাড্যারে না গিয়ে প্রশাসন ক্যাডার হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বপ্ন ছিলো ডাক্তার হবো, কিন্তু কখনও ভাবিনি যে আমলা হবো। মেজিস্ট্রেট হলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হলাম, ডিসি হলাম, সর্বশেষ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব হলাম। আমার মেডিকেল শিক্ষাটা কর্মজীবনে সব জায়গায় কাজে লেগেছে।

সম্প্রতি মেডিভয়েসকে দেয়া ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়াও একান্ত আলাপচারিতায় চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যাওয়ার নাটকীয় গল্পসহ কর্মজীবনের নানা অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেছেন তিনি।

চিকিৎসক হয়ে স্বাস্থ্য ক্যাড্যারে না গিয়ে প্রশাসনে যাওয়ার পেছনের গল্প জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাবা পাবলিক হেলথে চাকরি করতেন। ভাই-বোন সবাই চিকিৎসক। আমি যখন মেডিকেলে আসলাম, তখন কিন্তু এ রকম ভাবনা ছিল না যে, আমলা হবো। কিন্তু মেডিকেলে আমার এক রুমমেট ছিলো ওর লক্ষ্য ছিলো ফরেন সার্ভিসে যাবে। ডিপ্লোমেট হবে। ডাক্তার হবে না এটা তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

সে যখন পিএসসির ফরম আনতে যায়, তখন আমি ওকে বললাম, আমার জন্য একটা ফরম নিয়ে আসিস। আমাদের সময় জেনারেলদের ফরম ছিলো সাদা রংয়ের আর যারা টেকনিকেল ক্যাডার তাদের ফরম ছিলো গোলাপি কালার। ও ভুলবশত আমার জন্য জেনারেল বিসিএসের ফরম নিয়ে আসে।  ফরম ফিলাপের পর জানতে পারলাম, আমি জেনারেল বিসিএসের ফরম পূরণ করেছি। তারপর পরীক্ষা দিলাম। পরীক্ষায় আমি নবম হলাম। প্রথম ছয়জন ফরেন সার্ভিসে গেল আর আমি প্রশাসন ক্যাডারে।

চিকিৎসক পেশাকে মিস করেন কি না -এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. পারভেজ রহিম বলেন, সারাজীবন রক্ত দেখে আসছি, তাহলে গজের মধ্যে রং সেটা দেখলেই তো টের পাচ্ছি। জ্ঞান সব জায়গায় কাজে লাগে। মানে আমি ডাক্তারি পড়ে প্রশাসনে আসলাম, তার মানে এ নয় যে, আমার ডাক্তারি বৃথা গেলো। তাহলে তো যে লোক প্রশাসনে পড়ে তারই প্রশাসনে আসা উচিত ছিল। আবার যে ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনে পড়েছে, তারই ফরেন ক্যাডারে যাওয়া দরকার ছিল। কিন্তু এমনটা তো হয় না। মাল্টিডিসিপ্লিনারি লোক থাকলে প্রশাসন সমৃদ্ধ হয়।

মেজিস্ট্রেট হিসেবে আমরা সাধারণত ফৌজদারি বিষয়গুলো ফেস করতাম। মারামারি-কাটাকাটি। আর সেখানে মেডিকেল সার্টিফিকেট থাকে। একদিন এক বাদী মাথা ফাটা অবস্থায় আমার কাছে আসছে মামলা করার বিষয়ে। কিন্তু আমার কাছে তাকে খুব আহত মনে হয়নি। মাথায় অনেকগুলো ব্যান্ডেজ করে আসছে। কোর্টে যখন আমার পিয়নকে বললাম, ওর ব্যান্ডেজ খুলো। ব্যান্ডেজ খুলে দেখা গেলো, ওর মাথায় কোন জখম নেই। আমি ডাক্তার ছিলাম বিধায় এটা করতে পেরেছিলাম। কোর্ট যদি এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকতো তাহলে তো একটা নিরপরাধ লোক সাজা পেতো।

তিনি আরও বলেন,  আমি যখন শেরপুরে ডিসি ছিলাম, সেখানে আমার এডিসি ছিলেন বুয়েট থেকে কেমিক্যাল পড়া আর এডিসি রেভিন্যু ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে পাস করা। আমি বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল অ্যান্ড নিউরো ডিজঅর্ডার নিয়ে কাজ করছি। সারাদেশের অটিজম বিষয়টি দেখভাল করার দায়িত্ব আমার ওপর। এছাড়া আমি বিভিন্ন জায়গায় উপজেলা নির্বাহী হিসেবে কাজ করেছি। সেখানে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন দিবসে আমি প্রধান থেকে এ বিষয়গুলোতে কাজ করেছি।

একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। আমার পঁচিশ বছরের কর্মজীবনে মাত্র কয়েকদিন হলো মন্ত্রণালয়ে। আমি মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছি। প্রথম শ্রেণীর হাকিম ছিলাম, ডিসি ছিলাম। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে কিছুদিন কাজ করেছি। তখন কিন্তু অটিজম বাচ্চাগুলোর জন্য একীভূত শিক্ষা চালু করেছিলাম। আমার মেডিকেল শিক্ষাটা কর্মজীবনে সব জায়গায় কাজে লেগেছে।

এক নজরে ডা.পারভেজ রহিম:

ডা.পারভেজ রহিম ১৯৬৫ সালের ২৯শে নভেম্বর চট্রগ্রামে জন্মগ্রহন করেন। ১৯৯১ সালে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হতে MBBS, ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার ডেকিন বিশ্ববিদ্যালয় হতে উন্নয়ন অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর এবং ২০১৩ সালে ইতালির তুরিনস্থ ITC-ILO হতে ক্রয় ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ লাভ করেন। তিনি ত্রয়োদশ বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। চাকুরীজীবনে তিনি মাঠ পর্যায়ে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি মন্ত্রণালয় পর্যায়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি শেরপুর জেলায় জেলা প্রশাসক হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

► সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকার: `মেডিকেলে বেসিক সাবজেক্টের শিক্ষকদের প্রণোদনা দেওয়া হবে'

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত