ঢাকা      রবিবার ১৮, অগাস্ট ২০১৯ - ৩, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক

স্কিন অ্যান্ড সেক্সুয়াল মেডিসিন স্পেশালিস্ট

এফসিপিএস, এফআরসিপি (যুক্তরাজ্য), ডিডিভি (অস্ট্রিয়া)

 


ট্রান্সসেক্সুয়ালদের বেশিরভাগই স্বাভাবিক পুরুষ ও প্রতারক

চিকিৎসক হিসাবে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার মাঝে এক রোগীর কথা মনে পড়ে। সব রোগী দেখা শেষে একরাশ ক্লান্তি নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এ সময় চেম্বার এ এক অতি সপ্রতিভ তন্বির প্রবেশ। সদ্য কৈশোর পেরোনো বয়সের পেলব অবয়ব।

অল্প কথার পরই প্রথম দর্শনের ভ্রান্তি কাটতে দেরি হয়নি। মিষ্টি কমনীয় রূপের আড়ালে, মারাত্মকভাবে বিভ্রান্ত এই তরুণীটি আসলে পুরো দস্তুর এক তরুণ।

তার বক্তব্য আমাকে বিস্মিত করে যখন সে দাবি করে যে সে প্রকৃতিগত ভাবে ভুল লিঙ্গ নির্ধারণের শিকার এবং অধীরভাবে সে লিঙ্গান্তর ঘটানোর সকল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

আত্মীয়দের পীড়া পিঁড়িতে মানসিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া হয় আরও বিস্তর চেষ্টা তার বদ্ধমূল ধারণা বদলাতে পারেনি।

আমার কাছে সে হরমোন প্রয়োগজনিত চিকিৎসাসহ আর নানা প্রচেষ্টার অনুরোধ জানায়, শল্য চিকিৎসকের ঠিকানা চায়। আমি তখন বিদেশ থেকে পড়াশোনা শেষ করে নুতন সহকারী অধ্যাপক হিসাবে যোগ দিয়েছি। চিকিৎসা বিজ্ঞানে ট্রান্স সেক্সুয়াল ইজম নামের এমনই রোগটির কথা পড়েছি,কিন্তু বাস্তবে এমন রোগীর সঙ্গে দেখা হবে ভাবিনি কখনও।

সম্পূর্ণ সুস্থ সবল অধিকারী এই তরুণটি কেনই বা এমন অদ্ভূত কামনা দুর্বারভাবে পোষণ করেই চলেছে, তা আমাকে বিস্মিত করে তোলে।

জানা কথা হলো ব্যক্তির জৈবিক পরিচয় রয়েছে তার লিঙ্গ পরিচয়ে। কোনও মানুষ হয় পুরুষ নয়তো নারী। আদম অথবা ইভ।

স্বাভাবিক যৌনতার পুরুষটি হবে পুরুষাচিত। তার শুক্রে জন্ম নিবে সন্তান। মানসিকতায় সে অনুভব করবে দীপ্ত পৌরষ। নারীর ব্রীড়া তাকে দেবে চিত্ত চাঞ্চল্য।

এমনি ধ্যান ধারণার বিপরীতে দেখলাম,এক সুস্থ সবল, খুঁতহীন তরুণ নিজেকে নারী রূপে কল্পনা করছে এমন কি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মেয়েতে পরিণত হবার আকুতি করছে। একজন তরুণ বিশেষজ্ঞ হয়েও আমার খুউই ভব্যতায় বাঁধছিল।

 

তরুণটিকে আমি ত্রুটিহীনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি। আর বুঝতে পারি, সে transsexualism নামের রোগে জরাগ্রস্থ।তার এই আচরণ যে এতটা কৌতূহল আর বিড়ম্বনার জন্মো দিচ্ছে তাতে তার কোনও বিকার নেই।

বুঝিয়ে,সুঝিয়ে তাকে একজন ভালো psychiatrist এর কাছে পাঠাই (যদিও ট্রান্সসেক্সুয়ালদের আর মানসিক রোগী মনে করা হচ্ছে না)।

সম্প্রতি হিজরার সংখ্যা নিয়ে সংসদে এ আলাপের প্রক্ষিতে প্রথম জীবনের সেই তরুণটির কথা মনে পড়ল।

সরকার ঘোষিত তৃতীয় লিঙ্গের ৯ হাজার মানুষের অনেকেই সম্ভবত ট্রান্সসেক্সুয়াল। এদের বড় অংশ অবশ্য একেবারেই স্বাভাবিক পুরুষ ও প্রতারক।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সরকারি হাসপাতালে নানা অনিয়মই যখন নিয়ম!

সরকারি হাসপাতালে নানা অনিয়মই যখন নিয়ম!

একজন কনসালটেন্ট তার মামাতো ভাইকে দেখাতে এসেছে। রোগীর সাথে কথা বলছি, এই…

ডেঙ্গু নিয়ে ব্যবসা করার চেষ্টা করবেন না 

ডেঙ্গু নিয়ে ব্যবসা করার চেষ্টা করবেন না 

গুজবে কান দেয়া হুজুগে মনুষ্য জাতির এক সহজাত প্রবৃত্তি। এই সুযোগটাকেই কাজে…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর