ঢাকা      মঙ্গলবার ২৫, জুন ২০১৯ - ১১, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী

নিরাপদ মাতৃত্ব নিয়ে কী ভাবছেন বিশেষজ্ঞরা?

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস (২৮ মে) উপলক্ষে আজ দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা-উপজেলা হাসপাতাল, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে র‌্যালি, আলোচনাসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, দেশের প্রায় ১৬ শতাংশ মা প্রসবকালীন জটিলতায় কোনো সেবা পান না। একই চিত্র প্রসবপরবর্তী সেবার ক্ষেত্রেও। এর মধ্যে অপুষ্টিজনিত মাতৃমৃত্যুর ২০ ভাগই ঘটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও রক্তস্বল্পতার কারণে। যার অন্যতম কারণ আবার কিশোরী মাতৃত্ব। এদিকে সংস্থাটির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো দেশে ১৫ শতাংশের বেশি সিজার হবে না। অথচ আমাদের দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এ হার কয়েকগুণ বেশি।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০১৮ সালের বুলেটিনে বলা হয়েছে, দেশের সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান ডেলিভারির হার ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ। আর বেসরকারি হাসপাতালে এ হার ৭৩ শতাংশ এবং এনজিও ক্লিনিকে ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ বেসরকারি হাসপাতাল ও এনজিও ক্লিনিকে গড়ে ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ শিশু সিজারের মাধ্যমে জন্ম নিচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে আমাদের দেশে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২১ জন। আমাদের এসডিজি অর্জন করতে হলে মাতৃমৃত্যর হার প্রতি লাখে ৭০ জন এবং শিশুমৃত্যুর হার ১২-তে নামিয়ে আনতে হবে।

এ কারণে সরকার মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, বাড়িতে অদক্ষ প্রসব সহায়তাকারীরা প্রসূতি মায়ের বিপদ চিহ্নগুলো শনাক্ত করতে না পারায় এবং সময়মতো হাসপাতালে রেফার না করায় মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে হলে বাড়াতে হবে হাসপাতালে প্রসবের হার। মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম বলেন, মাতৃমৃত্যুর হার না কমার জন্য দায়ী অদক্ষ দাইয়ের হাতে প্রসব। দেশে এখনো বেশিরভাগ প্রসব হচ্ছে বাসাবাড়িতে দাইদের হাতে। কিন্তু দাইরা সব প্রসব হ্যান্ডেল করতে পারে না। মায়ের যেসব ঝুঁকি থাকে, তারা সেটা জানে না। সব দাই আবার প্রশিক্ষিতও নয়। ফলে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত হচ্ছে না।

তিনি বলেন, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে হলে হাসপাতালে প্রসবের হার বাড়াতে হবে। মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। তা না হলে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর ক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না।

অবসটেট্রিক্যাল এন্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী বলেন, মাতৃমৃত্যু প্রধানত দুটি কারণে হয়। একটি হলো রক্তক্ষরণ। আরেকটি হলো একলামশিয়া (খিচুনি)। রক্তক্ষরণের কারণে প্রতিবছর ৩১ শতাংশ মা মারা যান। এবং খিচুনির কারণে এই মারা যাওয়ার হার ২৪ শতাংশ। তবে, মাতৃমৃত্যুর এই দু’টি কারণই সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধযোগ্য। এছাড়াও মাতৃমৃত্যুর পরোক্ষ কারণ যেমন উচ্চরক্তচাপ ডায়াবেটিস নারী সহিংসতা এসবের কারণে আগের তুলনায় মাতৃমৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেয়েছে। গর্ভপাতে ৭ শতাংশ, প্রত্যক্ষ ৭ শতাংশ এবং পরোক্ষ ২০ শতাংশ মায়ের মৃত্যুবরণ করছেন।

ওজিএসবি’র সভাপতি বলেন, প্রসব পরবর্তী সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সকল মাতৃমৃত্যুর ৫৫ ভাগ মৃত্যুই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংঘটিত হয়। দেশে বর্তমানে প্রতি লাখ জীবিত জন্মে ১৭২ জন মৃত্যুবরণ করে (এসভিআরএস ২০১৭)। তাদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ মায়ের মৃত্যু হচ্ছে বাড়িতে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকে ১৪ শতাংশ মায়ের মৃত্যু হচ্ছে।

ডা. সামিনা চৌধুরী বলেন, ৩৭ ভাগ মা বর্তমানে কমপক্ষে চারটি প্রসবপূর্ব সেবা গ্রহণ করে। দেশে এখন প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি করানোর হার ৪৭ শতাংশ। প্রসবের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রসব পরবর্তী সেবা গ্রহণে হার ৩২ শতাংশ। গর্ভধারণ এবং প্রসবজনিত জটিলতায় প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার নারীর মৃত্যু হয় এবং ২৬ লাখ মৃতজন্মসহ ৩০ লাখ নবজাতক অকাল মৃত্যুবরণ করে।

সংগঠনটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. সালেহা বেগম চৌধুরী বলেন, স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্য বিশেষজ্ঞগণের এই সমিতির সদস্য দুই হাজার এবং ১৩টি শাখা রয়েছে। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে অবস্থিত। ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমাদের সদস্যরা দেশের মায়েদের সেবা প্রদানে তাদের দক্ষতার প্রমাণ রাখতে সক্ষম হয়েছে। সদস্যদের পরিচালনায় ঢাকার মিরপুর-১ এবং মিরপুর-১৩ নম্বরে দুটি হাসপাতাল অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে সেবা প্রদান করছে। ওজিএসবি প্রতিবছর নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালন করে থাকে। সেখানে মায়েদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অপারেশন করা হয়ে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের প্রখ্যাত স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সায়বা আকতার বলেন,  আমাদের সচেতন হতে হবে। তাহলে মাতৃমৃত্যুর হার কমে আসবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ















জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর