ডা. আজাদ হাসান

ডা. আজাদ হাসান

সিওমেক , ২১তম ব্যাচ।


২৮ মে, ২০১৯ ১০:৫৩ এএম

সরকারী কর্মচারী চিকিৎসা পরিচর্যা বিধিমালা ও কিছু সংশোধনী

সরকারী কর্মচারী চিকিৎসা পরিচর্যা বিধিমালা ও কিছু সংশোধনী

আমাদের কাজের ভীড়ে আমরা যেন (নিম্নে উল্লেখিত) চিকিৎসক-নিবর্তন মূলক "সরকারী কর্মচারী (চিকিৎসা পরিচর্যা) বিধিমালা" শীর্ষক সরকারী আদেশ সমূহ চিকিৎসক-বান্ধব আদেশে পরিণত করতে ভুলে না যাই।

কিছুদিন আগে একজন ডিসি সাহেব অসুস্থতার খবরে সদর হাসপাতাল হতে কোনো চিকিৎসককে না পাঠানোর পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। (যদিও সিভিল সার্জন অফিস হতে একজন মেডিকেল অফিসার উনাকে এটেন্ড করেন, তথাপি শেষ রক্ষা হয়নি) এবং লক্ষীপুরের জনৈক এক আমলা কর্মকর্তা কর্তৃক নিরীহ ডাক্তার নিগৃত হলে সবাই যখন এই সব নিয়ম ঘাটাঘাটি করি, তখন কেচো খুড়তে সাপ বেড়িয়ে আসার মত এই কালা-কানুন বেরিয়ে আসে। এখন আমাদের উচিত এই কাল-কানুনের গন্ডি হতে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা।

অন্যান্য ক্যাডার সার্ভিসের সাথে আমাদের কাজের ধরনের যেটা পার্থক্য সেটা হলো। অন্যরা ফাইল ওয়ার্ক করেন। মনে হলে ফাইলে নোট দেন কিংবা ফাইল এপ্রুভ করেন, মনে না চাইলে হাত গুটিয়ে বসে থাকেন। কিন্তু ডাক্তারদেরকে সরাসরি জীবন-মৃত্যু নিয়ে কাজ করতে হয়। অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের অফিসাররা যখন তখন ফাইল এর কাজ বন্ধ করে যেদিকে ইচ্ছে যেতে পারেন, কিন্তু একজন ডাক্তার ইচ্ছে হলেই রোগী ফেলে চলে যেতে পারেন না। তাছাড়া বেশীর ভাগ হাসপাতালে চিকিৎসক স্বল্পতা আছে, সেই সাথে আছে প্রচুর রোগীর চাপ। সুতরাং উর্ধতন কর্মকর্তারা যখন তখন বললেই ফরমায়েশ মোতাবেক ডাক্তার পাঠাতে হবে, এমনি আসলে বাস্তবতার নিরিখে সম্ভব নয়। এ বাস্তবতাটি অনেকেরই ধারণা নেই।

এখন আর আগের মতো, ডাক্তার বাড়ী বাড়ী যেয়ে চিকিৎসা দিবেন, ওনি এক দেখায় রোগ নির্নয় করে কমপ্লিট চিকিৎসা দিবেন, এটা আশা করা সমীচীন নয়। এখন একদিকে যেমন বেড়েছে রোগের ধরণ, সেই সাথে বেড়েছে রোগীদের প্রত্যাশা। তাই "সরকারী কর্মচারী (চিকিৎসা পরিচর্যা) বিধিমালা" শীর্ষক বিধিমালা সংশোধন হওয়া সময়ের দাবী।

"স্বাস্থ্য প্রশাসন" বলে যদি প্রকৃত পক্ষে কোনো কর্তৃপক্ষ থেকে থাকেন (!) তাহলে দয়া করে আর কুম্ভকর্ণের মতো না ঘুমিয়ে, একটু নাড়াচাড়া দিয়ে দাঁড়ান। নিন্মে সরকারী কর্মচারীরা কি ধরনের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ভোগ করবেন তার বিধি সংযোজন করা হলো। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার অনুরোধ রইলো।

লক্ষ্য করুন:

সরকারী কর্মচারী (চিকিৎসা পরিচর্যা) বিধিমালা, ১৯৭৪.

৩। সংজ্ঞাঃ

(ক) প্রাধিকৃত চিকিৎসা পরিচর্যাকারী বলিতে- (১) চিকিৎসা কর্মকর্তা অথবা বাংলাদেশ সরকারাধীন ডাক্তারসহ জাতীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের ডাক্তার বুঝায়, যাহারা ব্যক্তিগত ভাবে "চিকিৎসা ব্যবসা" করিবার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত। 

*** এখানেআসলে কি হওয়ার কথা? চিকিৎসা সেবা(!) নাকি চিকিৎসা ব্যবসা?

ব্যাখ্যা (৫) (জ) শূশ্রুষা: (ঈ) হাসপাতালের সাধারণ বিভাগে জায়গার ব্যবস্থা তবে কেবিন "গেজেটেড অফিসার" ও মারাত্মক রোগীর পদমর্যাদা বিবেচনা ব্যতিরেকে সীমিত থাকিবে।

*** এখানে "মারাত্মক রোগীর পদমর্যাদা" বিষয়টির ব্যাখ্যা কি?

৪। সরকারী কর্মচারী, ক্ষমতাপ্রাপ্ত চিকিৎসা কর্মকর্তার চিকিৎসা পরিচর্যার অধিকারী। 

***এ ক্ষেত্রে উক্ত চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বার নিশ্চয় অন্তর্ভুক্ত হবার কথা নয়।

৫। (১) (খ) যে ক্ষেত্রে রোগী এতটা অসুস্থ যে, তাহার অসুস্থতা হেতু যাতায়াত করিতে অক্ষম সেই ক্ষেত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত চিকিৎসক যেই স্থানে কর্মচারী অসুস্থ সেই স্থানে আসার ও গমনের জন্য যাতায়ত ভাতা পাইবেন।

*** এখানে প্রশ্ন হলো, ঐ রোগীকে এটেন্ড করা কার (কোন পদমর্যাদার / ধরনের চিকিৎসকের) দায়িত্ব? রোগী যদি এতটাই অসুস্থ যে ডাক্তারের কাছে আসা সম্ভব নয়, তাহলে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করা উচিত। কখনো তার বাসগৃহে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান সম্ভব নয়। তাছাড়া, নরমাল অফিস ডিউটির পর ডাক্তাররা রোটেশন অনুযায়ী ইমার্জেন্সী ডিউটি এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে হাসপাতালে "অন কল্" এটেন্ড করে থাকেন। বাসায় কল্ এটেন্ড করা কারো দায়িত্বে পড়ে কি?

এছাড়া হাসপাতালে ডিউটিরত অবস্থায় সবাই আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন দায়িত্বে অ্যাসাইনড থাকেন, তাদের পক্ষে তো হাসপাতাল ছেড়ে সরকারী কর্মচারীদের বাসায় বাসায় কল্ এটেন্ড করা সম্ভব নয়। সুতরাং সঙ্গত কারণেই এসব কালো কানুন বাতিল হওয়া আবশ্যক।

৬। (১) (খ) রোগী যদি এতটাই অসুস্থ হয় যে সে যাতায়ত করিতে অক্ষম তাহা হইলে তিনি বিশেষজ্ঞ অথবা অন্য চিকিৎসা কর্মকর্তাকে রোগীতে দেখিবার জন্য ডাকিয়া পাঠাইবেন।

*** এই ধারাটি বাতিল হওয়া প্রয়োজন। কেননা, এ জাতীয় সিরিয়াস রোগীর চিকিৎসা কখনো বাড়িতে করা সম্ভব নয়। তাছাড়া কেবল ডাক্তার এটেন্ড করলেই কি রোগী সুস্থ হয়ে যাবে? যদি রোগীর ইনজেকশন কিংবা স্যালাইনের প্রয়োজন হয়, তখন সে দায়িত্ব কে নিবে?

৮। (১) যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত চিকিৎসক মনে করেন যে কোন যথাযথ হাসপাতালের অবর্তমান অথবা দূরবর্তিতা অথবা অসুস্থতা মারাত্মক..... তাহা হইলে সরকারী কর্মচারী তাহার বাসায় চিকিৎসা লাভ করিতে পারিবে।

*** এই ধারাটিও সঙ্গত কারণে বাতিল হওয়া আবশ্যক।

১১। সরকারী কর্মচারীর পরিবার বিনামূল্যে চিকিৎসকের দর্শন ও চিকিৎসা তাহার বেতনক্রম অনুযায়ী সরকারের অনুমিত বিধান অনুযায়ী প্রাপ্য হইবেন।

*** এখানে এ বিষয়টি আমার কাছে ক্লিয়ার নয়।

১৩। (১) অবসর যাপনস্থ সরকারী কর্মচারীগণ বিনামূল্যে....... চিকিৎসার অধিকারী যাহা.....  যে পদ হইতে অবসর গ্রহন করেন...।

[এইসব বিধি বিধান সম্পর্কে আমাদের সব সরকারী ডাক্তারদের জানা আবশ্যক বিধায় উল্লেখ করলাম]।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত