ঢাকা      রবিবার ২৫, অগাস্ট ২০১৯ - ১০, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

মেডিভয়েসকে একান্ত সাক্ষাৎকারে ডা. এ এম পারভেজ রহিম

`মেডিকেলে বেসিক সাবজেক্টের শিক্ষকদের প্রণোদনা দেওয়া হবে'

ইচ্ছে ছিলো বড় মাপের চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু ভাগ্য তাঁকে নিয়ে গেলো প্রশাসন ক্যাডারে। বর্তমানে তিনি বড় মাপের সরকারি আমলা। চিকিৎসক হলেও প্রশাসনের প্রতিটি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন সফলতার সঙ্গে। এমনকি চিকিৎসাবিদ্যার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সুষ্ঠু বিচার করেছেন বিচারক হিসেবে। বর্তমানে তিনি স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনার উন্নতিকল্পে কাজ করছেন নিজের জায়গা থেকে। তিনি হলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব ডা. এ এম পারভেজ রহিম। একান্ত আলাপচারিতায় চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যাওয়ার নাটকীয় গল্পসহ কর্মজীবনের নানা অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন মেডিভয়েসের সঙ্গে। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

মেডিভয়েস: চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্য ক্যাড্যারে না গিয়ে প্রশাসনে কেন? পেছনের গল্পটা কি?
ডা. পারভেজ রহিম: আমার বাবা পাবলিক হেলথে চাকরি করতেন। ভাই-বোন সবাই চিকিৎসক। আমি যখন মেডিকেলে আসলাম, তখন কিন্তু এ রকম ভাবনা ছিল না যে, আমলা হবো। কিন্তু মেডিকেলে আমার এক রুমমেট ছিলো ওর লক্ষ্য ছিলো ফরেন সার্ভিসে যাবে। ডিপ্লোমেট হবে। ওর নাম বলছি না, ও এখন ডার্মাটোলজির একজন অধ্যাপক। ও ডাক্তার হবে না এটা তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। সে যখন পিএসসির ফরম আনতে যায়, তখন আমি ওকে বললাম, আমার জন্য একটা ফরম নিয়ে আসিস। আমাদের সময় জেনারেলদের ফরম ছিলো সাদা রংয়ের আর যারা টেকনিকেল ক্যাডার তাদের ফরম ছিলো গোলাপি কালার। ও ভুলবশত আমার জন্য জেনারেল বিসিএসের ফরম নিয়ে আসে। 

ফরম ফিলাপের পর জানতে পারলাম, আমি জেনারেল বিসিএসের ফরম পূরণ করেছি। পূরণ করার সময় আমি ফরমে অর্থনীতি, বোটানি ও জোলজি নিলাম।  যেগুলো আমার সঙ্গে যায়। দুর্ভাগ্যবশত যে বন্ধু বলেছিলো, ডাক্তারি করবে না তার জেনারেল বিসিএসে নাম আসলো না, তার মানে সে ফেল করেনি। সে এমন কঠিন কঠিন সাবজেক্ট নিয়েছে, যার ফলে সে পাঁচটি পরীক্ষা দেয়ার পর আর পরীক্ষা দেয়নি। আর আমি সবগুলো পরীক্ষাই দিলাম। পরীক্ষায় আমি নবম হলাম। প্রথম ছয়জন ফরেন সার্ভিসে গেল আর আমি প্রশাসন ক্যাডারে। আমার প্রথম পোস্টিং ছিল রাজশাহী, তারপর বগুড়া ও মানিকগঞ্জে প্রথম শ্রেণীর মেজিস্ট্রেট হিসেবে। এছাড়া ঢাকারও মেজিস্ট্রেট ছিলাম।

মেডিভয়েস: চিকিৎসক পেশাকে মিস করেন কি না? 
ডা. পারভেজ রহিম: দেখেন মেজিস্ট্রেট হিসেবে আমরা সাধারণত ফৌজদারি বিষয়গুলো ফেস করতাম। মারামারি-কাটাকাটি। আর সেখানে মেডিকেল সার্টিফিকেট থাকে। একদিন এক বাদী মাথা ফাটা অবস্থায় আমার কাছে আসছে মামলা করার বিষয়ে। কিন্তু আমার কাছে তাকে খুব আহত মনে হয়নি। মাথায় অনেকগুলো ব্যান্ডেজ করে আসছে। কোর্টে যখন আমার পিয়নকে বললাম, ওর ব্যান্ডেজ খুলো। ব্যান্ডেজ খুলে দেখা গেলো, ওর মাথায় কোন জখম নেই। আমি ডাক্তার ছিলাম বিধায় এটা করতে পেরেছিলাম। আসলে সব জায়গায় কিন্তু অসাধু থাকে।  

সব জায়গায় কিছু দুষ্টুপ্রকৃতির লোক থাকে। কোর্ট যদি এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকতো তাহলে তো একটা নিরপরাধ লোক সাজা পেতো। সারাজীবন রক্ত দেখে আসছি, তাহলে গজের মধ্যে রং সেটা দেখলেই তো টের পাচ্ছি। জ্ঞান সব জায়গায় কাজে লাগে। মানে আমি ডাক্তারি পড়ে প্রশাসনে আসলাম, তার মানে এ নয় যে, আমার ডাক্তারি বৃথা গেলো। তাহলে তো যে লোক প্রশাসনে পড়ে তারই প্রশাসনে আসা উচিত ছিল। আবার যে ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনে পড়েছে, তারই ফরেন ক্যাডারে যাওয়া দরকার ছিল। মাল্টিডিসিপ্লিনারি লোক থাকলে প্রশাসন সমৃদ্ধ হয়। আমি যখন শেরপুরে ডিসি ছিলাম, সেখানে আমার এডিসি ছিলেন বুয়েট থেকে কেমিক্যাল পড়া আর এডিসি রেভিন্যু ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে পাস করা। আমি বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল অ্যান্ড নিউরো ডিজঅর্ডার নিয়ে কাজ করছি। সারাদেশের অটিজম বিষয়টি দেখভাল করার দায়িত্ব আমার ওপর। এছাড়া আমি বিভিন্ন জায়গায় উপজেলা নির্বাহী হিসেবে কাজ করেছি। সেখানে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন দিবসে আমি প্রধান থেকে এ বিষয়গুলোতে কাজ করেছি। মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে কিন্তু উপজেলা নির্বাহী। আমার পঁচিশ বছরের কর্মজীবনে মাত্র কয়েকদিন হলো মন্ত্রণালয়ে। আমি মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছি। প্রথম শ্রেণীর হাকিম ছিলাম, ডিসি ছিলাম। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে কিছুদিন কাজ করেছি। তখন কিন্তু অটিজম বাচ্চাগুলোর জন্য একীভূত শিক্ষা চালু করেছিলাম। আমার মেডিকেল শিক্ষাটা কর্মজীবনে সব জায়গায় কাজে লেগেছে।

মেডিভয়েস: সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বেড়েছে। কিন্তু সে হারে মান বাড়েনি। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি? 
ডা. পারভেজ রহিম: আমাদের কাছে এটা একটা বড় প্রশ্ন। মানটা আমরা কিভাবে রক্ষা করবো। কিসের মান রক্ষা করবো। আর হেলথের মান রক্ষার বিষয়টি বড় করে দেখা হয়, কারণ এখানে মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্ন। মান সব জায়গায়ই রক্ষা করতে হবে। আসলে সত্যি কথা হচ্ছে আমাদের মান কমেছে। তাহলে বাড়ানোর জন্য কি করছি? একটা কথা মনে রাখতে হবে। যখন পরিমাণ বেড়ে যায়, তখন প্রথম দিকে মান কমে যায়।  

ইনিশয়িালি কিছু মান কমেছে। কারণ বেসিক সায়েন্সে ডাক্তাররা পড়বেন না। অ্যানাটমি ফিজিওলজি, ফার্মাকোলজি এসব পড়বেন না। কারণ এসব বিষয়ে রোগী নাই। আর না পরলে শিক্ষক পাবো কই? শিক্ষক না থাকলে পড়াবে কে? যারা এসব সাবজেক্ট থেকে অনার্স মাস্টার্স পাস করেছেন তারা কেউই মেডিকেল কলেজে চাকরি করেননি সব যোগ দিয়েছে বিসিএসে। তবে এসব বেসিক সাবজেক্টের শিক্ষকদের প্রণোদনার বিষয়ে ভাবছি, যাতে ছেলে মেয়েরা উৎসাহিত হয়, এসব বিষয় পড়ার জন্য। আমি মনে করি, ক্লিনিক্যাল সাইটের চেয়ে নন-ক্লিনিক্যাল সাইটে প্রমোশন ভালো। নন ক্লিনিক্যালে পড়ুয়া অনেকেই অধ্যাপক হয়ে গেছেন, কিন্তু তার ব্যাচম্যাটদের যারা ক্লিনিকে ছিলেন দেখা গেছে তারা মাত্র অ্যাসিটেন্ট প্রফেসর হয়েছেন।

মেডিভয়েস: রোগীরা বিদেশ চলে যাচ্ছেন, এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোন পদক্ষেপ নিতে পারে কি না?
ডা. পারভেজ রহিম: আমি মনে করি না। আমরা কাজ করছি। রোগীদের বাধা দিয়ে নয়। বিদেশে অনেক বাংলাদেশি ডাক্তার আছেন, যাদেরকে আমরা বলছি তোমরা দেশে এসে স্বেচ্ছায় কিছু সেবা দাও। সেবাটা দিবেন এইভাবে। আমাদের দেশের ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ দেয়া। সেখানে লেকচারার ব্যবস্থা করে দেয়া। বা কোনো ফোরামে বক্তব্য দিলেন। আরেকটি হচ্ছে আপনি আমাদের দেশে যেকোন হাসপাতালে বসে রোগী দেখেন। আলহামদুলিল্লাহ আমরা বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। বাইরে থেকে বেশ ভালো কিছু ডাক্তার নিয়ে আসছি। আমরা বিএমডিসির মাধ্যমে যাচাই করে নিই। এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা হচ্ছে, বিদেশ থেকে মানসম্পন্ন ডাক্তার আসবেন এবং তারা রোগী দেখবেন প্রয়োজনে আমাদের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিবেন। আর বিএমডিসির মতামত নিয়ে তাদের আমরা অনুমতি দিয়ে দিই। বন্ধ করার কোনো প্রয়োজন নেই, যেটা আমার উপকার হচ্ছে সেটা আমি কেন বন্ধ করবো?

মেডিভয়েস: সরকারি মেডিকেল কলেজে তীব্র শিক্ষক সংকট রয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে? 
ডা. পারভেজ রহিম: হঠাৎ করে যখন চাহিদা বাড়বে তখন তো সংকট হবেই। সব বিষয়ে নয়, বিশেষ বিশেষ কিছু সাবজেক্টে শিক্ষক সংকট আছে। যেমন এনাটমি, ফিজিওলজি, ফার্মাকোলজি, ফরেনসিক মেডিসিন। এগুলো নিরসনের জন্য অনেক জুনিয়রকেও আমরা প্রমোশন দিয়েছি। 

মেডিভয়েস: কর্মস্থলে চিকিৎসকদের ওপর হামলা হচ্ছে কিভাবে দেখছেন? বন্ধে কি করছে মন্ত্রণালয়? 
ডা. পারভেজ রহিম: আমি জেলা প্রশাসক থাকাকালীন ডাক্তারদের হামলার বিষয়ে ডাক্তারদের নিয়ে পাবলিকলি মতবিনিময় করেছি। আমরা বলেছি, তারা আপনাদের সেবা দিতে এসেছেন, পরিবার পরিজন ছেড়ে। হাসপাতালে হামলা কেন? আসলে আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গাটা বাড়াতে হবে। মানুষের আস্থার জায়গাটা তৈরি করতে হবে। একজন ডাক্তার ফুল ট্রিটমেন্ট দেয়ার পরও রোগীদের সঙ্গে খোলামেলা কথা না বলায় আস্থার সংকট তৈরি হয়। চিকিৎসকদের ওপর হামলা বন্ধে অনেকগুলো কমিটি আছে, কিন্তু তারা ঠিকমতো কাজ করে না। জেলা পর্যায়েও কমিটি আছে, সেখানে একজন সংসদ সদস্যকে ওই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কিন্তু তারা কাজ করেন না।  জেলা পর্যায়ে অন্য কমিটিগুলো কাজ করলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটি কাজ করে না। স্বাস্থ্যকমিটিকে ওইভাবে সক্রিয় করা হয়নি। সমস্যা হচ্ছে, জনগণ ডাক্তারদের বিষয়ে আস্থাশীল না। আবার কোনো লোক তাদের সেবাকে স্বীকার করেন না। দেশের ৯৯ ভাগ লোককে স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলবে সেবা পান না। কারণ আস্থার সংকট। 

মেডিভয়েস: চিকিৎসকদের সুনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা হওয়া উচিত কিনা? নির্ধারণ কিভাবে দেখছেন? 
ডা. পারভেজ রহিম: কে বলেছে, সুনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নেই? তাদের তো সুনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা আছে। যিনি সকাল আটটায় আসছেন, তিনি দুপুরে চলে যান। আবার যিনি নাইটে আসেন, পরের দিন তার বন্ধ থাকে। 

মেডিভয়েস: বলা হচ্ছে, দেশে অপরিকল্পিতভাবে চিকিৎসক তৈরি করা হচ্ছে, এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই। 
ডা.পারভেজ রহিম: এক্ষেত্রে কতগুলো বিষয় আছে। আপনাকে প্রাথমিকভাবে কিছু চাপ নিতে হবে। প্রভাব খাটিয়ে হোক আর যেভাবেই হোক, কিছুতো মেডিকেল কলেজ হয়েছে। এটাতো অস্বীকার করার কিছু নাই। আমরা এই মেডিকেল কলেজগুলোকে বন্ধ না করে আরো আপগ্রেড করতে চাচ্ছি। বন্ধ না করে মানোন্নয়নে জোর দিচ্ছি। ভর্তি পরীক্ষার সময় যখন আমরা বেঞ্চ মার্ক করে দেই; তখন দেখা যায়, সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোই ছাত্র পায়। অন্যগুলো পাচ্ছে না। এখন তারা নিচের লোক নিলে তো মানহীন হবেই। এখন আমরা একটা স্ট্যান্ডার্ড মানের দিকে যাচ্ছি। যেসব মেডিকেল কলেজ মানহীন, সেসব কলেজে মানোন্নয়নে ঘন ঘন মনিটরিং করা। একটা মেডিকেল কলেজকে দুই জায়গা থেকে স্বীকৃতি নিতে হয়। 

একটা হচ্ছে, মন্ত্রণালয় আরেকটি হচ্ছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে সে সার্টিফিকেট নিবে। তাদের বেঞ্চমার্কের ক্ষেত্রে একশো স্টুডেন্টের জন্য চারশো বই থাকতে হবে, আলাদা ক্যাম্পাস থাকতে হবে। এছাড়া কমপক্ষে একহাজার বেড না হলেও আটশো বেডের একটা হাসপাতাল দেখাতে হবে। এভাবে আমরা একটা বেঞ্চমার্ক ঠিক করে দিচ্ছি। এভাবে পর্যায়ক্রমে উন্নতি হবে। আমরা এগুলোকে বন্ধ করতে পারি না। বন্ধ না করে মানোন্নয়ন ঘটিয়ে একটা নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। 

মেডিভয়েস: সরকার প্রতিবছর বিসিএসের মাধ্যমে চারশ থেকে আটশো চিকিৎসক নিয়ে থাকেন, এটা হাজার খানেক করা যায় কিনা?  
ডা. পারভেজ রহিম: প্রতিবছর সরকার অন্যান্য বিসিএসের সঙ্গে সমন্বিতভাবে ডাক্তার নিয়োগ দেয়। তখন ওই ডাক্তারের পদগুলোকে অ্যাকটেশন অনুযায়ী (অবসর, মারা যাওয়া, বা চাকুরি ছেড়ে বিদেশ চলে গেলে) আমরা পিএসসিতে একটা রিকুইজিশন পাঠিয়ে দিই। আর হঠাৎ যখন কোনো চাহিদা তৈরি হয়, তখন বিশেষ বিসিএসের জন্য পিএসসিকে আমরা একটা আবেদন পাঠাই। তাদেরকে বলে দিই, এই সময়ের মধ্যে আমাদের এতোগুলো ডাক্তার দিতে হবে। তখন তারা এমসিকিউ দিয়ে ভাইভা দেয়। কোন লিখিত পরীক্ষা দেয়া লাগে না। আর এই প্রসেসটা হচ্ছে তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবেলা করার জন্য। 

মেডিভয়েস: যেসব চিকিৎসক প্রশাসনে আসতে চান তাদের বিষয়ে আপনার পরামর্শ কি?
ডা. পারভেজ রহিম: আমি যখন প্রশাসনে আসি, তখন আমার এক সিনিয়র ভাইও আসেন। অনেক কিছু মিথ শোনা যায়। তিনি সলিমুল্লাহ মেডিকেল থেকে এসেছিলেন। আমার একব্যাচ সিনিয়র। হঠাৎ করে উনি ডেপুটি সেক্রেটারি থেকে জয়েন্ট সেক্রেটারি হয়নি। কি ব্যাপার উনি প্রমোশন মিস করলেন কেন? তখন উনি বললেন, তার মাস্টার্স না থাকার কারণে প্রমোশন হয়নি। বললেন, আমিতো মনে করতাম, এমবিবিএস পাঁচবছরের কোর্স মানে মাস্টার্স। আমার প্রমোশন হয়নি, মাস্টার্স না থাকার কারণে। তারপর আমি স্কলারশিপ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া চলে যাই। আমার স্ত্রীও স্কলারশিপে সেখানে। আমি আইইএলটিএস করি। ভালো মার্কস পাই। আমি তখন হেল্থ অ্যাডমিনেস্ট্রেশনে মাস্টার্স করি। 

তখন আমি ঢাকা ডিভিশনাল কমিশনারের পিএস ছিলাম। কমিশনার স্যারকে বললাম, আমি অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোনীত হয়েছি। স্যার এটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে ফরোয়ার্ড করে দিলেন। তখনকার সংস্থাপন মন্ত্রণালয় আমাকে বললো তোমাকে এমপিএইচ করিয়ে লাভ কি? যেতে দিলো না। তারা বললেন, হয় তোমাকে পড়তে হবে পাবলিক অ্যাডমিনেস্ট্রেশন, না হয় ইকোনমিকস অথবা বিজনেস। এই তিনটা না হলে তারা আমাকে ডেপুটেশন দেবে না। 

তখন আমার কমিশনার স্যার অস্ট্রেলিয়াতে আমার ইউনিভার্সিটিতে ইকোনমিকস ডিপার্টমেন্টে একটা ডিও লেটার দিলেন। এই মর্মে যে, আমার এই অফিসার সিভিল সার্ভিসে দশ বছর ধরে কাজ করছেন। যওি তার ব্যাকগ্রাউন্ড ইকোনমিকস নেই। আমি মনে করি, তিনি এটার জন্য যোগ্য। তখন বিশ্ববিদ্যালয় এটা গ্রহণ করলো। সেখান থেকে তারা আমাকে একটি অফার লেটার পাঠালে আমি সেখানে পড়তে গেলাম। 

আর আমার স্ত্রী গেলো নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে। সেখানে গিয়ে আমার স্ত্রীর কাছ থেকে ইকোনোমিকসের ক্যালকুলাস শিখলাম। একটা বিষয়, বাংলাদেশেই একমাত্র এক প্রফেশনের মানুষ আরেক প্রফেশনের লোকদের আঘাত করে। এটা পৃথিবীর কোথাও নেই। আমার ইকনোমিক্সে মাস্টার্স করতে দুই বছরে অনেক কষ্ট হয়েছে। আমি এই পড়ালেখা না করলে মনে হতো মেডিকেলের চেয়ে পড়ালেখা আর কোথাও নাই। কোনো পড়ালেখাকে খাটো করে দেখা যাবে না। এরপর ২০১৪ সালে পড়ালেখা করেছি ইতালিতে। সম্প্রতি আমি ব্যাংককের এইআইটি থেকে সিনিয়র স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেছি। সব জায়গায়ই পড়শোনা করতে হবে। আর প্রফেশনালি সব জায়গায় আপনাকে সাউন্ড হতে হবে। আমলা হতে হলে লেখাপড়া করতে হবে। তাদেরকে জেনারেল বিসিএস দিয়ে আসতে হবে। এজন্য তাদেরকে কয়েকটা সাবজেক্ট বেশ ভালো করে জানতে হবে। এরমধ্যে অর্থনীতির ওপর অগাধ জ্ঞান থাকতে হবে। আর হ্যা, এটা হতে হবে অনার্স-মাস্টার্স লেভেলে ইকনোমিক্সে।  যে আসতে চায়, তাকে যোগ্যতা দিয়েই আসতে হবে। 

মেডিভয়েস: অবসর সময় কিভাবে কাটান?
ডা. পারভেজ রহিম: আমি পড়শোনা করি। আমাদের অ্যাডমিনেস্ট্রেটিভ জার্নালে আমার তিনটা প্রকাশনা আছে। সম্প্রতি অটিজম নিয়ে একটি লেখেছি। ছাপার অপেক্ষায়। আর সন্তানদের পড়ালেখা দেখশোনা করি। ছোটবেলা থেকে পড়তে ভালো লাগে। মৃত্যু ছাড়া আমাকে বই থেকে কেউ বিচ্যুত করতে পারবে না। আমি সব ধরণের বই পড়ি হোক সেটা ধর্মীয়, পদার্থবিদ্যা কিংবা রসায়ন। 

মেডিভয়েস: প্রিয় ব্যক্তিত্ব কে?
ডা. পারভেজ রহিম: যাকে দেখে বড় হয়েছি, সেই আমার বাবাকেই বলা যায়। অধ্যাপক ফজলুর রহিম। আমার বাবা যিনি অসম্ভব লেখাপড়া করতেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর