২৭ মে, ২০১৯ ১১:৩১ এএম

গর্ভজনিত কারণে প্রতিদিন ১৫ জন মায়ের মৃত্যু হয়

গর্ভজনিত কারণে প্রতিদিন ১৫ জন মায়ের মৃত্যু হয়

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশে গর্ভজনিত কারণে প্রতিদিন মারা যাচ্ছেন ১৪ থেকে ১৫ জন মা। প্রতিবছর মারা যাচ্ছেন ৫ হাজার ৪৭৫ জন মা। আর তাদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ গর্ভজনিত মৃত্যুই বাড়িতে হয়। এছাড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকে ১৪ শতাংশ মায়ের মৃত্যু হয়। আর রক্তক্ষরণের কারণে মারা যান ৩১ শতাংশ।

২৮শে মে ‘নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস-২০১৯’ উপলক্ষে গতকাল অবসটেট্রিক্যাল এন্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) আয়োজনে মিডিয়া ওরিন্টেশন সভায় স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানান। নিরাপদ মাতৃত্ব দিবসের এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে-‘মর্যাদা ও অধিকার, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসূতি সেবার অঙ্গীকার।’

ওজিএসবি’র সভাপতি অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী তার মূল প্রবন্ধে বলেন, মাতৃমৃত্যু প্রধানত দুটি কারণে হয়। একটি হলো রক্তক্ষরণ। আরেকটি হলো একলামশিয়া (খিচুনি)। রক্তক্ষরণের কারণে প্রতিবছর ৩১ শতাংশ মা মারা যান। এবং খিচুনির কারণে এই মারা যাওয়ার হার ২৪ শতাংশ। তবে, মাতৃমৃত্যুর এই দু’টি কারণই সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধযোগ্য। এছাড়াও মাতৃমৃত্যুর পরোক্ষ কারণ যেমন উচ্চরক্তচাপ ডায়াবেটিস নারী সহিংসতা এসবের কারণে আগের তুলনায় মাতৃমৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেয়েছে। গর্ভপাতে ৭ শতাংশ, প্রত্যক্ষ ৭ শতাংশ এবং পরোক্ষ ২০ শতাংশ মায়ের মৃত্যুবরণ করছেন।

ওজিএসবি’র সভাপতি বলেন, প্রসব পরবর্তী সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সকল মাতৃমৃত্যুর ৫৫ ভাগ মৃত্যুই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংঘটিত হয়। দেশে বর্তমানে প্রতি লাখ জীবিত জন্মে ১৭২ জন মৃত্যুবরণ করে (এসভিআরএস ২০১৭)। তাদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ মায়ের মৃত্যু হচ্ছে বাড়িতে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকে ১৪ শতাংশ মায়ের মৃত্যু হচ্ছে।

ডা. সামিনা চৌধুরী বলেন, ৩৭ ভাগ মা বর্তমানে কমপক্ষে চারটি প্রসবপূর্ব সেবা গ্রহণ করে। দেশে এখন প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি করানোর হার ৪৭ শতাংশ। প্রসবের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রসব পরবর্তী সেবা গ্রহণে হার ৩২ শতাংশ। গর্ভধারণ এবং প্রসবজনিত জটিলতায় প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার নারীর মৃত্যু হয় এবং ২৬ লাখ মৃতজন্মসহ ৩০ লাখ নবজাতক অকাল মৃত্যুবরণ করে।

সংগঠনটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. সালেহা বেগম চৌধুরী বলেন, স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্য বিশেষজ্ঞগণের এই সমিতির সদস্য দুই হাজার এবং ১৩টি শাখা রয়েছে। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে অবস্থিত। ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমাদের সদস্যরা দেশের মায়েদের সেবা প্রদানে তাদের দক্ষতার প্রমাণ রাখতে সক্ষম হয়েছে। সদস্যদের পরিচালনায় ঢাকার মিরপুর-১ এবং মিরপুর-১৩ নম্বরে দুটি হাসপাতাল অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে সেবা প্রদান করছে। ওজিএসবি প্রতিবছর নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালন করে থাকে। সেখানে মায়েদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অপারেশন করা হয়ে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সায়বা আক্রার বলেন,  আমাদের সচেতন হতে হবে। তাহলে মাতৃমৃত্যুর হার কমে আসবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. লায়লা আঞ্জুমান বানু, অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী বেগম, অধ্যাপক ডা.ফারহানা দেওয়ান, অধ্যাপক ডা. রওশন আক্তার প্রমুখ।

জাতিসংঘের অনুমান অনুযায়ী ২০১৫ সালে এমএমআর প্রতি লাখে জীবিত জন্মে ১৭৬ জন। স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এটা সম্ভব হয়েছে মূলত নিম্নমুখী প্রজনন সক্ষমতা, উন্নততর যত্ন গ্রহণের চর্চা এবং উচ্চতর সেবা গ্রহণের উন্নত সুবিধার ফলে।

দাবি পেশাজীবী সংগঠনের, রিট পিটিশন দায়ের

‘বেসরকারি মেডিকেলের ৮২ ভাগের বোনাস ও ৬১ ভাগের বেতন হয়নি’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি