ঢাকা      রবিবার ১৮, অগাস্ট ২০১৯ - ৩, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. গুলজার হোসেন উজ্জল

হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ।


বাংলাদেশের ক্যান্সার চিকিৎসা ও এক চিকিৎসকের মন খারাপের গল্প

দেশে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১২ লাখ। এদের ভেতর সরকারি হাসপাতালে নিবন্ধিত হয় মাত্র পৌনে দুই লাখ। বাকিদের রেকর্ড থাকে না। হয় তারা চিকিৎসা ছাড়াই মারা যান, নয়তো বিদেশ চলে যান অথবা এমন কিছু বেসরকারি হাস্পাতালে চিকিৎসা নেন যেগুলো সরকারি হিসেবে আসে না।

প্রতিবছর নতুন রোগী যোগ হচ্ছে প্রায় দেড় লাখ। প্রতিদিন ক্যান্সারে মারা যায় প্রায় চল্লিশজন রোগী।

এই যে পরিসংখ্যান বললাম সেগুলোও খুব নির্ভরযোগ্য সোর্স নয়। আসলে এদেশে ক্যান্সার রোগীদের খুব নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানও নাই৷ যদিও দেশে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল আছে এবং সেখানে ক্যান্সার এপিডেমিওলজি বলে একটি বিভাগও আছে।

দেশে সরকারি মেডিকেল কলেজ এই মুহূর্তে ৩৬টি। এর ভেতর মাত্র ১৩টিতে ক্যান্সার বিভাগ আছে। বাকিগুলোতে কোনো ক্যান্সার বিভাগ নেই। দেশের প্রধান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ক্যান্সার বিভাগ আছে অনেকদিন যাবত। কিন্তু সেখানে রেডিওথেরাপি মেশিন এসেছে এই গত মাসে। এর আগ পর্যন্ত বছরের পর বছর ওই বিভাগ চালু ছিল কোনরকম রেডিওথেরাপি মেশিন ছাড়াই। যদিও ওইখান থেকে রেডিওথেরাপিতে উচ্চতর ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে অনেক বছর যাবত। বিশেষজ্ঞও তৈরি হচ্ছেন বছর বছর৷

সারাদেশে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিটিউট একটি। সেখানে রোগীদের হাহাকার শুনলে আপনার মনে হবে একোন দেশ আমার! বিছানার চেয়ে দশগুণ বেশি রোগী এসে প্রতিদিন ভর্তির জন্য আকুলি-বিকুলি করে। গবেষণা করবেন কি! সার্ভিস দিয়েই তো কূল পাবেন না৷

বাংলাদেশে রোগী অনুযায়ী ক্যান্সার সেন্টার থাকার কথা মোট ১৬০টি। সেখানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে হবে গোটা বিশেক৷

বাংলাদেশে চিকিৎসা কোনো বিজ্ঞান নয়। লোকে এটাকে শুধুমাত্র সেবা বলেই জানে আর গভমেন্টের কাছে চিকিৎসা হলো—এক প্রকারের পলিটিক্যাল এজেন্ডা৷

ক্যান্সারে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েও বাংলাদেশে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পদায়ন হতে পারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কারণ চিকিৎসাসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে৷ তিনি সেখানে রোগীদের জ্বর, সর্দি ও পাতলা পায়খানার ফ্রি ওষুধ দেবেন। মোটা দাগে এটাই হলো বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবা।

ডাক্তাররাও এসব দেখে বিরক্ত, নিরুৎসাহিত, পালাতে পারলেই বাঁচে।

জনগণ বলে আমার সেবা কই?

সরকার বক্তৃতা দিয়ে বলে “ডাক্তাররা গ্রামে থাকতে চায় না”

ওদিকে রোগী চলে যাচ্ছে ভারতে৷যাওয়ার আগে মুণ্ডুপাত করে “দেশে চিকিৎসা নাই। সবাই ভুল চিকিৎসা দেয়।”
 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ঈদে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল প্রসঙ্গে আবেদন

ঈদে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল প্রসঙ্গে আবেদন

‘‘এবারের পবিত্র ঈদুল আজহায় ছুটি না নিয়ে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার্থে আপনারা স্বাস্থ্য…

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতাল নিটোরের গল্প

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতাল নিটোরের গল্প

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিটোর নিয়ে কিছু কথা উঠেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতালটির…

মৃত্যুর আগে কথোপকথন

মৃত্যুর আগে কথোপকথন

হাতির মতন বিশাল মেশিনটি আমার বুকের উপর দিয়ে বার কয়েক চক্কর দিয়ে…

সরকারি হাসপাতালে নানা অনিয়মই যখন নিয়ম!

সরকারি হাসপাতালে নানা অনিয়মই যখন নিয়ম!

একজন কনসালটেন্ট তার মামাতো ভাইকে দেখাতে এসেছে। রোগীর সাথে কথা বলছি, এই…

শুধুমাত্র চিকিৎসকদের ঈদ ছুটি বাতিল কেন?

শুধুমাত্র চিকিৎসকদের ঈদ ছুটি বাতিল কেন?

দুপুর আড়াই টা, বৃহস্পতিবার, ৮ আগষ্ট ২০১৯। ব্যাংকে গিয়ে চেক জমা দিলাম।…

মানহীন মেডিকেলের প্রাদুর্ভাব বন্ধে মেডিকেলিয় ভূমিকা

মানহীন মেডিকেলের প্রাদুর্ভাব বন্ধে মেডিকেলিয় ভূমিকা

আমরা সবাই জানি এবং প্রতিনিয়ত বলে বেড়াচ্ছি ব্যাঙের ছাতার মতো মানহীন মেডিকেল…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর