ঢাকা      শুক্রবার ২৩, অগাস্ট ২০১৯ - ৮, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি ‘যক্ষ্মা রোগীর’ পলায়নের খবর ভাইরাল

মেডিভয়েস রিপোর্ট: মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রদেশ পেরাকের রাজধানী আইপোহতে এক বাংলাদেশি টিবি আক্রান্ত রোগীর কথিত পলায়নের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে স্টেট হেলথ কনজিউমার অ্যাফেয়ার্স সিভিল সোসাইটি ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেশন এন্ড হিউম্যান রিসোর্স কমিটিকে সংবাদ সম্মেলন করতে হয়েছে। 

গত ২৩ মে স্টেট সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ে আয়োজিত জনাকীর্ণ প্রেস কনফারেন্সে কমিটির চেয়ারম্যান মি. শ্রীনিবাসন জানান, সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি শ্রমিক মো. জয়াল (জয়নাল) অত্যন্ত ছোঁয়াচে ক্রনিক টিউবারকিউলোসিস (যক্ষ্মা) রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছেন। তারা তদন্ত করে দেখেছন, এটি ভিত্তিহীন খবর। 

“হাসপাতালগুলোতে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, ওই নামে কোনো বাংলাদেশি রোগী ভর্তি ছিল না”, যোগ করেন এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলর শ্রীনিবাসন। 

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের মধ্যে এই খবর আতঙ্ক ছড়ায় যে, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বলেছে, বাংলাদেশি শ্রমিক মো. জয়াল সহজে অত্যন্ত সংক্রমণ ঘটে এমন এক ধরনের বিরল যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত। হাসপাতালের একজন রোগী তার ওই পলায়ন প্রত্যক্ষ করেন। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে টিবিতে আক্রান্ত এক ব্যক্তি তার এক বন্ধুর কাছে থাকতে গিয়েছিলেন।

ওই বার্তায় বলা হয়, হাসপাতালের স্টাফরা বলেছেন, কথিত ওই বাংলাদেশির টিবি খুবই খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর সেটা ১৮+, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সংক্রামক। তার কাছে যেই যাবে, সেই লোকই আক্রান্ত হতে পারে। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৩ পর্যন্ত পেরাকের আশপাশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৬৩৫ জন যক্ষ্মা রোগী নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে ২২ জন বিদেশি। আক্রান্ত বিদেশিদের মধ্যে শুধু একজন বাংলাদেশি। বাকিদের মধ্যে ১৩ জন ইন্দোনেশীয়। তিনজন ভিয়েতনামি, নেপাল ও মিয়ানমারের দু’জন করে। এছাড়া রয়েছেন একজন ভারতীয়। 

শ্রীনিবাসন বলেন, পেরাকের যক্ষ্মা রোগীদের প্রায় ৮০ ভাগই লাংটিবি। এই আক্রান্তদের হাঁচি-কাশি যদি কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে আসে, তাহলে তিনি আক্রান্ত হতে পারেন। তিনি বলেছেন, আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। তার পূর্ণ চিকিৎসার দরকার হবে। আর যদি তা করতে কেউ ব্যর্থ হয় তাহলে তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।
গত ২৩ মে মালয়েশিয়ার দি সান ডেইলির এক খবরে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশি শ্রমিক মো. জয়ালের স্থানীয় চাকরিদাতা দাবি করেন যে, তাদের বাংলাদেশি টিবি আক্রান্ত কর্মী জেলাপাংয়ের হেলথ ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তাকে আইপো জেনারেল হসপিটালে স্থানান্তর করা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে কথিত মতে তিনি পালিয়ে যান। এ সংক্রান্ত খবরের সঙ্গে কথিত জয়ালের বাংলাদেশি পাসপোর্টের ছবিও দেয়া হয়েছিল। 

স্থানীয় মিডিয়ায় এ নিয়ে একটা হৈচৈ পড়ে গেলে কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্তের উদ্যোগ নেয়। পেরাকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবস্থান কম নয়। 

সেখানে বাংলাদেশ সরকার নিয়োজিত অনারারি কনসাল জেনারেল শেখ ইসমাইল আলাউদ্দিন দি সান ডেইলিকে বলেছেন, আক্রান্ত বাংলাদেশির পলায়নের খবর তার জানা নেই। ওই খবরে বলা হয়, যক্ষ্মা বায়ুবাহিত একটি রোগ। সাধারণভাবে মালয়েশিয়ায় যক্ষ্মার প্রকোপ অনেক আগে থেকেই বেশি। তবে সামপ্রতিক বছরগুলোতে নতুন উপসর্গ নিয়ে এটির প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বলেছেন, বিশেষ করে সামপ্রতিক বছরগুলোতে প্রবাসী শ্রমিকদের আসার কারণে এর প্রকোপ আরো বেড়ে গেছে। অবৈধভাবে আসা প্রবাসীদের মাধ্যমে এই রোগ বেশি ছড়াচ্ছে। 
 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নয়া দিল্লিতে হাসপাতালে আগুন

নয়া দিল্লিতে হাসপাতালে আগুন

মেডিভয়েস ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির একটি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার…

আরো সংবাদ


































জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর