ঢাকা      সোমবার ২৪, জুন ২০১৯ - ১০, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী



ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাছির উদ্দিন আহমেদ

পরিচালক 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


আদর্শ স্বাস্থ্যসেবার উদ্দেশ্য রোগীর সম্পূর্ণ সন্তুষ্টি

খলিফা শব্দের সহজ বাংলা অর্থ হল প্রতিনিধি। যেমন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অন্তত একজন করে প্রতিনিধি বিশ্বের প্রায় দেশেই রয়েছে। যারা সে দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের স্বার্থ এবং দুই দেশের মধ্যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক রক্ষা ও উন্নয়ন করে থাকেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পৃথিবীর সব দেশে একই সময়ে অবস্থান করা সম্ভব নয়। তাই তারা রাষ্ট্রদূত ও অ্যাম্বাসির মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি নিয়োগ করে থাকেন।

প্রতিনিধির কাজ হল- তার দেশের রাষ্ট্র ও সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা। প্রতিনিধি তার দেশের রাষ্ট্র ও সরকারের নীতির বাহিরে কোন কাজ করতে ও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। সরকার ও সংবিধান অনুমোদন দেয়না এমন কোন কাজ করলে তাকে সেখান থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়।

একটি হাসপাতালের পরিচালকও একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রতিনিধি। যিনি সরকারের নিয়ম নীতির মধ্য থেকে হাসপাতালের প্রশাসনিক ও রোগী সংক্রান্ত কাজ বা দায়িত্ব বিভিন্ন প্রতিনিধির উপর অর্পন করেন। প্রত্যেকে তার নিজের জায়গায় দায়িত্ব সঠিক ভাবে করবে এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা।

একটি বড় হাসপাতালে সীমাবদ্ধ জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে, দক্ষতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হয়। আপনি দোকানে গিয়ে টাকা দেন তারা আপনাকে প্রয়োজনীয় জিনিস দেন। উভয় পক্ষই খুশী। কিন্তু হাসপাতালে কোন পক্ষই পরস্পরের কাছে ভাল নয়, সন্তুষ্ট নয়।

ডাক্তাররাই কি স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র পক্ষ! না মোটেই না। এখানে নার্সিং অফিসার, তৃতীয় শ্রেনীর পদমর্যাদার টেকনোলজিস্ট, চতুর্থ শ্রেনীর পরিছন্ন কর্মী, আয়া আরো অনেক সাপোর্ট স্টাফকে কাজ করতে হয়। সবাই সমান দক্ষ নয়। সবার আচরণ ও মানসিকতা এক হবে না। তেমনি ভাবে সকল রোগীর পারিবারিক, সামাজিক, শিক্ষার পর্যায় ও কালচারের প্রেক্ষাপট এবং রোগের ধরন, তীব্রতা, অনুভূতি চিকিৎসা প্রদানকারী সকল পর্যায়ের স্টাফদের আন্ত যোগাযোগ (Inter Personal communication) এক নয়।

ডাক্তার ও সাপোর্ট স্টাফদের অনেকের আচরণ প্রত্যাশিত মানের নয়। হতে পারে এটা স্বভাবগত বা অতিরিক্ত কাজের চাপ।

সবচেয়ে বড় বিষয় পলিসি লেভেলে অনেক বড় দায়িত্ব আছে। সেগুলো এখনো সম্পুর্ণভাবে পরিশুদ্ধ হয়নি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব আছে। ন্যায্যতার অভাব আছে।

যেমনঃ ৫০ বেড হাসপাতালে কি যন্ত্রপাতি থাকবে, সম্পুর্ণ স্টাফদের প্রাপ্যতা, অবকাঠামোর সুবিধা এখনো অপর্যাপ্ত। রোগীও ধারণ ক্ষমতার তিন চার গুন বেশি। এ অবস্থায় রোগী ও সেবাপ্রদানকারী কেউই সন্তুষ্ট নয়। দায়িত্ববোধ ও মমত্ববোধ, সততা, কথাগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে গল্প ও উপন্যাসে আছে। বাস্তবে নেই। এটা সব মানুষের থাকতে হবে দেশের ভালোর জন্য।

একটি আদর্শ স্বাস্থ্যসেবার উদ্দেশ্য রোগীর সম্পূর্ণ সন্তুষ্টি। এটা কি সরকারি বা বেসরকারি কোন হাসপাতালে আছে? না, নেই। কিন্তু কেন নেই?

নাগরিক, সাধারণ জনগণ, রাজনীতিবিদ, উপরের লেভেলে, পলিসি লেভেলে কেউই এ ব্যাপারে নির্মোহ ভাবে আন্তরিক নন। দু’একজন সম্মানজনক ব্যাতিক্রম বাদে আছে শুধু বানিজ্য আর ব্যাক্তি স্বার্থ। লোভের লম্বা বা অন্তহীন দীর্ঘ জিহবা।

একজন রনবীর, টোকাই বা পথ শিশু যে ভাবে বড় হয় বা বেড়ে উঠে; চিকিৎসা বা সেবা পেশায় অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রী এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা (ক্যাডেট কলেজ ও বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদে) মানসিক ভাবে অযত্নে বেড়ে উঠছে। ভাল পরিবেশ ও সহানুভূতিশীল শিক্ষার বিদ্যাপীঠ ও কর্মক্ষেত্র সব শিক্ষার্থী ও চাকুরীজীবী এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য সমাজের সবাই মিলে ও সরকারের সহযোগিতায় নিশ্চিত করতে পারলে আমরা সকলেই সকলের উপর সন্তুষ্ট হতে পারব। আমরা আরো মানবিক হতে পারব। অবশ্যই এ শিক্ষায় ধর্মীয় অনুশাসন এর শিক্ষা যুক্ত হতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

‘দুর্বল পরিকল্পনার কারণে স্বাস্থ্যে সর্বনিম্ন বরাদ্দ’ 

‘দুর্বল পরিকল্পনার কারণে স্বাস্থ্যে সর্বনিম্ন বরাদ্দ’ 

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৫…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর