ঢাকা      মঙ্গলবার ২০, অগাস্ট ২০১৯ - ৫, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. তাইফুর রহমান

কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি

জেনারেল হাসপাতাল, কুমিল্লা।


জীবনের বিদগ্ধ প্রহসন!

সম্প্রতি মুদ্রার উল্টো পিঠটা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করলাম। উৎসাহ জাগলো। সমাজের এই মানুষগুলো কি আসলেই খারাপ? কি তাদের বহিঃপ্রকাশ, কি তাদের ব্যনার? কি তাদের মুখোশ?

নাহ্। আমি কয়েকবার আমার মাথায় জোরে ঝাঁকি দিলাম! মগজটায় কেমন যেন প্যাচ লেগে গেল! উলট-পালট হয়ে গেল চিন্তা চেতনা। গুপ্তচরবৃত্তি করতে গিয়ে ভীমড়ি খাবার জোগাড়। তাদের ওয়ালে ওয়ালে নীতিবাক্য আর হাদিস কালামের ছড়াছড়ি। যেন তারা একেকজন মানবতার ফেরিওয়ালা! তারা স্রষ্টার সন্তুষ্টি চায়, চায় বেহেশতের বাগানের মালিকানা! ক্যামনে কি!

আমার এক বন্ধু ইদানিং বেশ ধর্মীয় পোস্ট দিচ্ছে। মানবতার সেবায় নিবেদিতপ্রাণ। আমি জানি সে সবসময়ই গাঁজায় বুঁদ হয়ে থাকে। আমি জিজ্ঞেস করলাম কিরে, নামাজ-রোজা ধরলি নাকি! সে ভুবনমোহিনী হাসি উপহার দিল। কিছুই বললো না।

মনে পড়লো, আমি একবার এক অফিসে গেলাম যেখানে লাখে দুই হাজার টাকা লভ্যাংশ দেয়া হতো। সামনের ওয়ালে বড় করে দৃষ্টিনন্দন ভাবে লিখা, "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন, সুদকে করেছেন হারাম"।- আল কোরআন।

আমার পরিচিত এক সমাজপতি কুরবানির ঈদ আসলেই এক সপ্তাহ আগে দেড় লাখ টাকা দিয়ে একটা গরু কিনে তারপর রাস্তার পাশে বেধে রাখে। পারলে উনি গরুর গায়ে লিখে রাখতেন দামটা। উনার উদ্দেশ্য মহৎ। এটা দেখলে মানুষ আল্লাহর রাস্তায় কুরবানী করতে উদ্বুদ্ধ হবে!

আসলেই সর্ট-কাট রাস্তা তাদের বেশ চেনা। মগের মুল্লুকের হয়তো এটাই নিয়ম! তাদের জন্য একটা অনুপ্রেরণাদায়ী একটা জোকস শুনুন। একটু কেষ্ট হাসি হাসুন--

এক পাদ্রী মৃত্যুর পর স্বর্গে ছোট্ট একটি কুঁড়েঘর পেল। সে এতেই খুশি। সে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ায়, হাসে খেলে, খায় দায়। হঠাৎ একদিন চোখ আটকে গেল পাশের বাড়ির দূর পাল্লার বাস ড্রাইভারকে দেখে। যে সারাক্ষণ মদে মাতাল হয়ে থাকতো, সে পেলো বিশাল অট্টালিকা!
 
পাদ্রী ইশ্বরের কাছে অভিযোগ নিয়ে গেল। : ইশ্বর, আমি সারাক্ষণ তোমার প্রার্থনা করলাম, পৃথিবীর মানুষকে তোমার দিকে ডাকলাম, আমি পেলাম কুঁড়েঘর! আর মাতাল ড্রাইভার পেলো রাজপ্রাসাদ?

ইশ্বর মুচকি হাসেন। : পাদ্রী তুমি ধার্মিক, মানুষকে আমার পথে ডেকেছো। কিন্তু কতজন আমার পথে এসেছে? একদিন এসেছে তো পরদিনই বিপথে চলে গেছে। আর ড্রাইভার, মদে বুঁদ হয়ে গাড়ি টান দিতো ঢাকার উদ্দেশ্যে, সাথে সাথে বাসভর্তি মানুষ ভয়ে প্রভুর নাম জপতে শুরু করতো। সে একেকবার গতি বাড়ানোর সাথে সাথে মানুষ জিকির আযকারে মশগুল হয়ে যেত। সবার পূণ্যের অংশ সে পেয়েছে।

পাদ্রী নিশ্চুপ, বিষন্ন তাকিয়ে থাকে। জীবনের বিদগ্ধ প্রহসন!

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতাল নিটোরের গল্প

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতাল নিটোরের গল্প

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিটোর নিয়ে কিছু কথা উঠেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থোপেডিক হাসপাতালটির…

মৃত্যুর আগে কথোপকথন

মৃত্যুর আগে কথোপকথন

হাতির মতন বিশাল মেশিনটি আমার বুকের উপর দিয়ে বার কয়েক চক্কর দিয়ে…

সরকারি হাসপাতালে নানা অনিয়মই যখন নিয়ম!

সরকারি হাসপাতালে নানা অনিয়মই যখন নিয়ম!

একজন কনসালটেন্ট তার মামাতো ভাইকে দেখাতে এসেছে। রোগীর সাথে কথা বলছি, এই…

মানহীন মেডিকেলের প্রাদুর্ভাব বন্ধে মেডিকেলিয় ভূমিকা

মানহীন মেডিকেলের প্রাদুর্ভাব বন্ধে মেডিকেলিয় ভূমিকা

আমরা সবাই জানি এবং প্রতিনিয়ত বলে বেড়াচ্ছি ব্যাঙের ছাতার মতো মানহীন মেডিকেল…

স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা ‘অশনিসংকেত’

স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা ‘অশনিসংকেত’

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সৈন্যের সংখ্যা বিশ্বে তৃতীয়! অথচ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ কোনো…

ভিআইপি রোগী

ভিআইপি রোগী

এমবিবিএস পাস করে কেবল ১৯৮৫ সনের নভেম্বর মাসে ইন-সার্ভিস ট্রেইনিং শুরু করেছি।…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর