ডা. তাইফুর রহমান

ডা. তাইফুর রহমান

কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি

জেনারেল হাসপাতাল, কুমিল্লা।


২৬ মে, ২০১৯ ১২:২৬ পিএম

জীবনের বিদগ্ধ প্রহসন!

জীবনের বিদগ্ধ প্রহসন!

সম্প্রতি মুদ্রার উল্টো পিঠটা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করলাম। উৎসাহ জাগলো। সমাজের এই মানুষগুলো কি আসলেই খারাপ? কি তাদের বহিঃপ্রকাশ, কি তাদের ব্যনার? কি তাদের মুখোশ?

নাহ্। আমি কয়েকবার আমার মাথায় জোরে ঝাঁকি দিলাম! মগজটায় কেমন যেন প্যাচ লেগে গেল! উলট-পালট হয়ে গেল চিন্তা চেতনা। গুপ্তচরবৃত্তি করতে গিয়ে ভীমড়ি খাবার জোগাড়। তাদের ওয়ালে ওয়ালে নীতিবাক্য আর হাদিস কালামের ছড়াছড়ি। যেন তারা একেকজন মানবতার ফেরিওয়ালা! তারা স্রষ্টার সন্তুষ্টি চায়, চায় বেহেশতের বাগানের মালিকানা! ক্যামনে কি!

আমার এক বন্ধু ইদানিং বেশ ধর্মীয় পোস্ট দিচ্ছে। মানবতার সেবায় নিবেদিতপ্রাণ। আমি জানি সে সবসময়ই গাঁজায় বুঁদ হয়ে থাকে। আমি জিজ্ঞেস করলাম কিরে, নামাজ-রোজা ধরলি নাকি! সে ভুবনমোহিনী হাসি উপহার দিল। কিছুই বললো না।

মনে পড়লো, আমি একবার এক অফিসে গেলাম যেখানে লাখে দুই হাজার টাকা লভ্যাংশ দেয়া হতো। সামনের ওয়ালে বড় করে দৃষ্টিনন্দন ভাবে লিখা, "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন, সুদকে করেছেন হারাম"।- আল কোরআন।

আমার পরিচিত এক সমাজপতি কুরবানির ঈদ আসলেই এক সপ্তাহ আগে দেড় লাখ টাকা দিয়ে একটা গরু কিনে তারপর রাস্তার পাশে বেধে রাখে। পারলে উনি গরুর গায়ে লিখে রাখতেন দামটা। উনার উদ্দেশ্য মহৎ। এটা দেখলে মানুষ আল্লাহর রাস্তায় কুরবানী করতে উদ্বুদ্ধ হবে!

আসলেই সর্ট-কাট রাস্তা তাদের বেশ চেনা। মগের মুল্লুকের হয়তো এটাই নিয়ম! তাদের জন্য একটা অনুপ্রেরণাদায়ী একটা জোকস শুনুন। একটু কেষ্ট হাসি হাসুন--

এক পাদ্রী মৃত্যুর পর স্বর্গে ছোট্ট একটি কুঁড়েঘর পেল। সে এতেই খুশি। সে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ায়, হাসে খেলে, খায় দায়। হঠাৎ একদিন চোখ আটকে গেল পাশের বাড়ির দূর পাল্লার বাস ড্রাইভারকে দেখে। যে সারাক্ষণ মদে মাতাল হয়ে থাকতো, সে পেলো বিশাল অট্টালিকা!
 
পাদ্রী ইশ্বরের কাছে অভিযোগ নিয়ে গেল। : ইশ্বর, আমি সারাক্ষণ তোমার প্রার্থনা করলাম, পৃথিবীর মানুষকে তোমার দিকে ডাকলাম, আমি পেলাম কুঁড়েঘর! আর মাতাল ড্রাইভার পেলো রাজপ্রাসাদ?

ইশ্বর মুচকি হাসেন। : পাদ্রী তুমি ধার্মিক, মানুষকে আমার পথে ডেকেছো। কিন্তু কতজন আমার পথে এসেছে? একদিন এসেছে তো পরদিনই বিপথে চলে গেছে। আর ড্রাইভার, মদে বুঁদ হয়ে গাড়ি টান দিতো ঢাকার উদ্দেশ্যে, সাথে সাথে বাসভর্তি মানুষ ভয়ে প্রভুর নাম জপতে শুরু করতো। সে একেকবার গতি বাড়ানোর সাথে সাথে মানুষ জিকির আযকারে মশগুল হয়ে যেত। সবার পূণ্যের অংশ সে পেয়েছে।

পাদ্রী নিশ্চুপ, বিষন্ন তাকিয়ে থাকে। জীবনের বিদগ্ধ প্রহসন!

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত