২৩ মে, ২০১৯ ০৩:২১ পিএম

৩৯তম বিসিএসে কাউকে নন-ক্যাডারে সুপারিশ করা হয়নি: পিএসসি

৩৯তম বিসিএসে কাউকে নন-ক্যাডারে সুপারিশ করা হয়নি: পিএসসি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেছেন, ৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ কাউকে নন-ক্যাডারে সুপারিশ করা হয়নি, কয়েকজনকে তালিকায় রাখা হয়েছে। যদি নন ক্যাডার পদে খালি হয়, তাহলে তাদেরকে সুপারিশ করা হবে। এছাড়া তাদের সুপারিশের কোন নিশ্চয়তা নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ চিকিৎসকদের ক্যাডার পদে নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন প্রসঙ্গে মেডিভয়েসকে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মোহাম্মদ সাদিক মেডিভয়েসকে বলেন, ৩৯তম বিসিএসটা হলো বিশেষ। সুতরাং এর মধ্যে নন-ক্যাডার যারা আছে তারাও বিশেষ। ডাক্তার ছাড়া তাদের জন্য আর কোন পদ নেই। জেলখানায় ডাক্তার আছে, ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ে মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আছে, এগুলো নন ক্যাডারে মাঝেমাঝে খালি হয়। এ কারণেই তাদের জন্য একটা সুযোগ রাখছি। কিন্তু যাদেরকে নাম দেয়া হয়েছে, তাদেরকে তো নন ক্যাডারে সুপারিশ করা হয়নি। তাদেরকে শুধুমাত্র তালিকায় রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা যত পদের জন্য সুপারিশ দিয়েছিলাম, সে পদ তো আমরা সুপারিশ দিয়ে দিছি। সুতরাং এইসব আন্দোলনে কোন কাজ হবে না। আন্দোলন করে কি আর বিসিএসে সুপারিশ পাওয়া যায়? কারণ হলো, যে পদের জন্য আমরা রিকুইজিশন দিয়েছিলাম, সে পদ তো আমরা দিয়েই দিছি। আর দ্বিতীয় কথা হলো, যে নন-ক্যাডার পদে এখনো সুপারিশ পায়নি, সে ক্যাডারভুক্তির আন্দোলন করে কি করে?

পিএসসি চেয়ারম্যান বলেন, আমার সাড়ে তিন লাখ চার লাখ ছেলে-মেয়ে পরীক্ষা দেয়, আমি দুই হাজার ক্যাডার আর দুই হাজার নন ক্যাডারে লোক দিতে পারি। পাস ফেইল বা উত্তীর্ণ হওয়া তো কোন বিষয়ই না। আমাকে তো সবাইকে নিয়েই ভাবতে হবে।

প্রসঙ্গত, নিয়োগের দাবিতে দীর্ঘদিন যাবৎ আন্দোলন করে আসছে ৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা। এ লক্ষ্যে তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপিও দিয়েছে। তাদের দাবি, স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান সংকট দূর করতে চিকিৎসক নিয়োগের বিকল্প নাই। সংকট নিরসনে শুধুমাত্র ৮ হাজার ৩৬০ জন চিকিৎসক নিয়োগই যথেষ্ট নয়, স্বাস্থ্যখাত ভালোভাবে চালাতে হলে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার ডাক্তার জরুরি। 

এ বিসিএসে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ডা. গোবিন্দ দাশ মেডিভয়েসকে বলেন, “নতুন করে চার হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসক নিয়োগে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় হয়তো বা আমাদের কথা একবারও উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে আমরা ধরে নিতে পারছি না যে, আমাদের থেকেই এই চিকিৎসক নেওয়া হবে। এজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে একটি লিখিত বক্তব্য চাই, যেখানে আমাদের ৮ হাজার ৩৬০ জনকে নিয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে একটি সিদ্ধান্ত চাচ্ছি আমরা।”

উত্তীর্ণ আরেক চিকিৎসক ডা. মাসউদুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, “আমাদের দাবি হচ্ছে, উত্তীর্ণ ৮ হাজার ৩৬০ জন নন-ক্যাডার চিকিৎসককে ক্যাডারভুক্ত করা হোক। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ঘোষণা ছাড়া এটা আমাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে বলে মনে করছি না। আমাদের জন্য সুনির্দিষ্টি করে ঘোষণা চাই। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, যদি এ নিয়োগ হয়, তাহলে আমাদের কথা হচ্ছে—আমরা তো উত্তীর্ণ। যোগ্যরা থাকতে তো অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।”

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ এম পারভেজ রহিম মেডিভয়েসকে বলেন, “তাদের থেকে না, নতুন করে নেওয়া হবে, ১০ হাজারের অবশিষ্ট চিকিৎসকদের নেওয়া হবে। এজন্য পিএসসি থেকে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।”

সেজন্য আবার স্পেশাল কোনো বিসিএসের আয়োজন করা হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা যখন তখন বিসিএস আয়োজন করতে পারি না, জেনারেল বিসিএস থেকে তাদের নেওয়া হবে। আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে স্পেশাল বিসিএসের সম্ভাবনা নাই।”

৪১তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে শূন্য পদ ১৪০ টি:

৩৯ তম বিসিএসের নন ক্যাডার জটিলতা ও ৪০ তম বিসিএস হাতে রেখেই ৪১ তম বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারের শূন্য পদের সংখ্যা জানিয়ে ৪১তম বিসিএস আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। এ বিসিএসে ২ হাজার ১৩৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য ক্যাডারে শূন্য পদ রয়েছে ১৪০টি।

এ প্রসঙ্গে ড. মোহাম্মদ সাদিক মেডিভয়েসকে বলেন, সরকার আমাদের ৪১তম বিসিএসের চাহিদা দিয়েছে। আমাদের হাতে বেশ কিছু কাজ আছে। যেমন- ৪০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারী রেজাল্ট দিব। ৩৮ তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার রেজাল্ট দিব। ৩৭ তম বিসিএসের নন ক্যাডার দিব। তারপর ৪১ তম বিসিএসের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবো।

৩৮ তম বিসিএসের রেজাল্ট ঈদের পর:

৩৮তম বিসিএসের রেজাল্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার রেজাল্ট ঈদের আগেই চেয়েছিলাম, কিন্তু তৃতীয় নিরীক্ষকের কাছে খাতা পাঠানোর জন্য দেরি হয়েছে। দুইজন নিরীক্ষক এবং ক্ষেত্রবিশেষ তিনজন নিরীক্ষক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করছেন। বিশেষ করে কোনো নিরীক্ষকের নম্বর ২০ এর কম বেশি হলে তৃতীয় নিরীক্ষকের কাছে খাতা পাঠানো হয়েছে। ইনশাআল্লাহ ঈদের পরই ৩৮তম বিসিএসের রেজাল্ট দিয়ে দিব।

তিনি আরও বলেন, আগামী জুন মাসে ৪০ তম বিসিএসের প্রিলিমিনারী পরীক্ষার ফল এবং ৩৭তম বিসিএস নন-ক্যাডারের দ্বিতীয়, প্রথম শ্রেণির তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতিও চলছে।

Add
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি