ঢাকা      মঙ্গলবার ২৫, জুন ২০১৯ - ১১, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিডিয়ায় অপপ্রচার

মেডিভয়েস রিপোর্ট: পাবনার বেড়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিডিয়ায় মিথ্যা ও উসকানিমূলক খবর প্রচার করা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবরে বলা হয়েছে, চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর বাবাকে জরুরি বিভাগের সামনে সাইকেল রাখার অপরাধে ওই চিকিৎসক জখম করেছেন। এছাড়াও বলা হয়েছে, ওই চিকিৎসক আত্মগোপনে রয়েছেন, তিনি কারও ফোন ধরছেন না।

এর আগে ঘটনার অভিযোগকারী আহত সোনাই মোল্লা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের কাছে দাবি করেন, আমি একজন প্রবাসী। আমার ৫ বছরের ছেলে মোস্তাকিম গুরুতর জখম হওয়ায় শনিবার বিকালে আমি তাকে বাইসাইকেলে করে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। তাড়াহুড়া করে গেটে বাইসাইকেল রেখে দ্রুত জরুরি বিভাগে যাই। জরুরি বিভাগ থেকে বের হয়ে দেখি আমার বাইসাইকেলটি এক ব্যক্তি লাথি মেরে ফেলে দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করছেন। পরে জানতে পারি তিনি ওই হাসাপাতালের চিকিৎসক।আমি গালাগাল করতে নিষেধ করলেই ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে কিল-ঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করেন ডা. মিলন মাহমুদ। আমি আহত হয়ে পার্শ্ববর্তী সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি।

বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য মেডিভয়েসের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার ওই চিকিৎসকের সরকারি নাম্বারে কল দেয়া হয়। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই তা রিসিভি করেন মিডিয়া বিদ্বেষের শিকার চিকিৎসক ডা. মিলন মাহমুদ।

ঘটনার ব্যাপারে ভুক্তভোগী চিকিৎসক ডা. মিলন মাহমুদ মেডিভয়েসকে বলেন, মিডিয়াতে আমাকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, সেটা সম্পূর্ণই ভূল এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা আমার সাথে কথা না বলে আমার বক্তব্য না নিয়েই তিলকে তাল বানিয়ে নিউজ করে দিয়েছে। তারা যেভাবে ঘটনাকে উপস্থাপন করছে তা সম্পূর্ণ বিপরীত।

ঘটনা সম্পর্কে ডা. মিলন মাহমুদ বলেন, তারা বলেছে আমার কাছে রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছে। কিন্তু আসল ঘটনা হচ্ছে, এখানে চিকিৎসার দায়িত্বে আমি নই। আমি প্রশাসনিক কর্মকর্তা। আমি ফিল্ড ওয়ার্ক করি, হাসপাতালের দেখাশোনা করি। আমার পদবী হলো, আমি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। আমি তো এখানকার চিকিৎসক না, আমার তো এখানে ডিউটি নেই। তাহলে সে কেন আমার কাছে আসবে চিকিৎসার জন্য? আর আমিই বা কেন চিকিৎসা দেয়ার কথা বলায় তাকে মারতে যাবো? আমি কি পাগল? আমার কি কোন জ্ঞান নেই? আসল ঘটনা হচ্ছে, আমাকে ফাঁসানোর জন্যই স্থানীয় এক নেতা আমার বিরুদ্ধে মিডিয়া লাগিয়ে দিয়ে এ নাটক সাজিয়েছে।

ঘটনার পর থেকে চিকিৎসকের মোবাইল ফোন বন্ধ ও আত্মগোপনে থাকার কথা উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করার বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েকটা মিডিয়া লিখেছে, আমি নাকি মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপনে আছি। এটা একেবারেই ভুয়া ও সাজানো গল্প। আমার মোবাইল বন্ধ থাকলে আপনি (মেডিভয়েস প্রতিনিধি) আমাকে কিভাবে (মোবাইলে) পেলেন? আমি তো যথারীতি অফিস করতেছি, হাসপাতালে গিয়ে হাজিরা দেখেন। তাহলে আত্মগোপনে কোথায় থাকলাম?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শনিবার (১৯ মে) বিকালে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটে সাইকেল রাখা নিয়ে এ হাসপাতালের চিকিৎসককে গালিগালাজের অভিযোগে উপস্থিত লোকজন এক রোগীর স্বজনকে কিল-ঘুষি দিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও তার কাছের কতিপয় সাংবাদিকদের রোষানলে পড়েন ওই চিকিৎসক। এবং তাকে অভিযুক্ত করে (তার কোন বক্তব্য না নিয়ে এবং ঘটনার পিছনের সত্যতা না নিয়ে) আত্মগোপনের নাটক সাজিয়ে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত সংবাদ উপস্থাপন করে এবং সামাজিক ভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।

ঘটনার আগেই হুমকি পেয়েছিলেন সেই চিকিৎসক

রোগীর স্বজনকে মারধর ও তার পেছনে আরও ঘটনা আছে উল্লেখ করে ডা. মিলন মাহমুদ বলেন, ওইদিন ছিল শুক্রবার। আমাকে থাপড়ানোর হুমকির দিনই বিকাল সাড়ে চারটা/পাঁচটার দিকে আরেকটা ঘটনা ঘটে। জরুরি বিভাগের সামনে একটি সাইকেল রাখা হয়। অন্যান্য রোগীদের আসা যাওয়ার সুবিধার্তে হাসপাতালের প্রধান হিসেবে আমি ওই জায়গা থেকে সাইকেলটি সরিয়ে দিই। তারপর সে লোকটি এসে সে জায়গায় সাইকেল না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বাবা-মাকে জড়িয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমি তাতে প্রতিক্রিয়া দেখালে ওই ব্যক্তি তেড়ে এসে আমার কলার চেপে ধরে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী এসে আমাকে নিরাপদে নিয়ে ওই ব্যক্তিকে গণধোলাই দেয়। তারপর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই রাজনৈতিক নেতা আমার বিরুদ্ধে সাংবাদিক ডেকে এনে তিলকে তাল বানিয়ে মিডিয়াতে প্রচার করে। আমার মনে হচ্ছে এই ঘটনাটা তারই সাজানো নাটক।

ঘটনার নেপথ্যে আসলে কী?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের সামনে ও দোকানপাটে সবসময়ই বহিরাগত কিছু লোকজন আসে এবং আড্ডা দেয়। সেখানে রাজনৈতিক নেতারাও আসে। তাদের মধ্যে দুটি গ্রুপ। এক গ্রুপ আসলে আরেক গ্রুপ আসতে পারে না। একজন চিকিৎসক হিসাবে হাসপাতালের পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়াটা নীরব দর্শক হিসেবেই দেখে যান। তাদের কিছু বলতেও সাহস পান না তিনি। তাদের সবার সাথেই আমার মিশতে হয়, ভালো আচরণ করতে হয়।

এ বিষয়ে ডা. মিলন মাহমুদ বলেন,এক গ্রুপের সাথে মিশলে বা ভালো ব্যবহার করলে অন্যগ্রুপ আমাকে নানা কথাবার্তা বলে। ঘটনার দিন শুক্রবার নামাজ শেষে এক গ্রুপের এক নেতা এসে আমায় বলতে থাকে, ‘হাসপাতালে শুধু সংস্কার আর লাইটিং করলেই হবে? মানুষকে চিকিৎসাও তো দিতে হবে।’

আমি বললাম- কেন? কী হয়েছে? তিনি বললেন- “আমি এক রোগী পাঠালাম, আরা তোমরা তাকে অন্য জায়গায় রেফার করে দিলা। কী চিকিৎসক তোমরা, আর কী চিকিৎসা দাও?” 

এছাড়াও তিনি হাসপাতালের ট্রলির কথা জিজ্ঞেস করেন। তারপর আমি বলি- “আমি তো নতুন এসেছি, কাজ করছি ইনশাআল্লাহ সব হবে। হাসপাতালে ডাক্তার কম, আরও ডাক্তার আসলে সেবা বাড়বে।” তারপর তিনি কথার প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে আমাকে বলতে থাকে, “গ্রুপিং করো না?” আমি বললাম, “আমি এখানে দায়িত্বে আছি, অনেক ধরনের লোকই তো আসে, আমি সবার সাথেই মিশি, আমি কেন গ্রুপিং করতে যাব?” তারপর তিনি আমাকে হুমকি ধমকি দিয়ে বলতে থাকে, “এইসব গ্রুপিং করলে থাপড়ায়া দাঁত ফালায়ে দিব।” তারপর আমি এখান থেকে পেছনে সরে আসি।

এরপর ওই দিন বিকালেই জরুরি বিভাগের সামনে রাখা সাইকেল সরানোর অজুহাতে ওই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে রোগীর বাবার এ ঘটনা ঘটে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ















জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর