ঢাকা      মঙ্গলবার ২৫, জুন ২০১৯ - ১১, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী

কিডনি বিকল রোগীর মৃত্যু: তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা 

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কুমিল্লায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে কিডনি বিকল রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্বামী। মঙ্গলবার সকালে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো হয়। 

মামলায় ডাক্তার তাইফুর রহমান, ডা. সীমান্ত ও ডা. আশিককে আসামি করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কিডনি ফেইলিউর হওয়া মুমূর্ষু ওই রোগীকে হাসপাতালে আনার ঘণ্টাখানেক পর মারা যান তিনি।   

পুলিশ জানায়, পেটে ব্যথা হওয়ায় সোমবার সন্ধ্যায় স্ত্রী খুকু মণিকে নগরীর মুন হাসপাতালে ভর্তি করেন অটোরিকশা চালক খোকন সাহা। 

স্বজনদের দাবি, হাসপাতালে নেয়ার পরই কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া খুকুকে ইনজেকশন দেয় চিকিৎসক তাইফুর। এরপরই তার মৃত্যু হয়। এক পর্যায়ে বিল পরিশোধের জন্য চাপ দেয় চিকিৎসক সীমান্ত ও আশিক।

মামলার এজাহারে কি বলা হয়েছে—জানতে চাইলে কোতোয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) সালাহউদ্দিন মেডিভয়েসকে বলেন, “বাদী পক্ষ বলেছে, এটি অবহেলাজনিত মৃত্যু। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ডা. তাইফুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, “গতকাল (২০ মে) রাতে টেনে হিঁচড়ে একজন ৩০-৩৫ বছরের মহিলাকে নিয়ে কয়েকজন ঢুকলো আমার চেম্বারে। সম্ভবত আমার শেষ রোগী। দেখলাম, রোগীর ঊর্ধ্বশ্বাস চলছে। বললাম, ভর্তি হতে হবে। স্বজন বললো, আমরা তো আইসিইউতে পারবো না, স্যার। মেডিকেল কলেজে সে নেবে, কারণ সেখানে প্রফেসর থাকে না, এছাড়া অনেক দূরে। এক্ষেত্রে আমি বাধ্য হয়ে ভর্তি করেছি। পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখলাম, রোগীর প্রেসার নাই। প্যাডে লিখলাম, BP-Non recordable. কোনো কারণই তারা ঠিকমত বলছে না। বের করলাম, তিনদিন যাবৎ পাতলা পায়খানা, বমি। এ কারণে হয়তো কিডনিতে সমস্যা হয়েছে।”

মানবিক কারণে ওই রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রোগীরা যখন আসে, মানুষ হিসেবে তাকে দূরে কোথাও সরিয়ে দেবো, এটার সুযোগ ছিল না। তার স্বামী যেহেতু অটোরিকশা চালায়, তারপক্ষে আইসিইউতে নেওয়া তো সম্ভব না। মানবতার কারণে ফিরিয়ে দেওয়া যায়নি। তাছাড়া আমার বিশ্বাস ছিল, রোগীটা হয়তো ফিরবে।”

তিনি আরও বলেন, “রোগী ভর্তি হওয়ার সময় বন্ড সই দিলো, রোগীর অবস্থা খারাপ জেনেও আমরা জেনারেল বেডে রোগীর চিকিৎসা করছিলাম। রোগী মারা গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। রিপোর্ট আসলো কিডনি ফেইলিউর, ক্রিয়েটিনিন ৩। এবং ঘণ্টাখানেক পর রোগী মারা গেল। তারাবীর নামায পড়ে যখন গেলাম—তারা আমাকে ধরে কান্নাকাটি করলো। বললো, স্যার আপনাকে কোনো দোষ দিচ্ছি না। তারা কি ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেললো।”

রেস্টলেস রোগী হওয়ায় ডিউটি ডাক্তার সেডিল ইনজেকশন দিয়েছিলেন জানিয়ে ডা. তাইফুর রহমান বলেন, “এটি প্রয়োগ করা মোটেও ভুল নয়। রোগীর স্বজনেরা প্রথমে বললো ডেট নাই, পরে ডেট ঠিক আছে দেখে বললো, এটা আপনাকে জিজ্ঞাসা না করে কেন দিলো?”

তিনি বলেন, “পুলিশের সামনে তারা সব স্বীকার করলো এবং লাশ নিয়ে চলে যেতে চাইল। আমি চলে আসলাম। একটু পর এক সাংবাদিক ভাই আসলেন, তার সঙ্গে আরও কয়েকজন—যারা রাজনীতিতে যুক্ত। সাংবাদিক ফেইসবুকে দিলেন, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু। তারপর দলে দলে লোক আসলো। ভাঙচুর হলো মুন হাসপাতাল।”

তাহলে কোনো একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এ মামলা করিয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো ইনটেনশন হয়তো কাজ করেছে, এটা তারাই ভালো বলতে পারবেন। তবে গণমাধ্যমে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন ডা. তাইফুর রহমান।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ















জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর