ঢাকা      মঙ্গলবার ২৫, জুন ২০১৯ - ১১, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী

রোগীদের চোখের ইশারায় চলবে হুইলচেয়ার!

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কথা বলতে পারে না, চলতে পারে না, দাঁড়াতে পারে না -এমন প্যারালাইজড রোগীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে এক ধরনের বিশেষ হুইলচেয়ার, যা রোগীর চোখের ইশারাতেই চলবে। এছাড়াও এ হুইলচেয়ারে জিপিএস ব্যবহার করে রোগীর অভিভাবক সার্বক্ষণিক জানতে পারবেন রোগীর অবস্থান। চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইইই (ইলেক্ট্রিক্যাল ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন তৈরি করেছেন এ বায়োনিক হুইলচেয়ার।

সম্প্রতি মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলোজি ইউনিভার্সিটির রোবোলিউসান-২০১৯ তে এই প্রজেক্টটি প্রথম রানার্স আপ হয়।

চেয়ারটি সব ধরনের প্যারালাইজড রোগীদের কথা চিন্তা করে এটিতে এমন সব ফিচার রাখা হয়েছে যার ফলে যেকোনো ধরনের প্যারালাইজড রোগী এর সুফল ভোগ করতে পারবে। এর মধ্যে রাখা হয়েছে ছয় ধরনের কন্ট্রোলিং সিস্টেম- ১. চোখের ইশারা, ২. মাইন্ড ওয়েভ (মনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত) সিস্টেম ৩. হাতের নড়াচড়ার মাধ্যমে, ৪. ভয়েসের মাধ্যমে, ৫. জয়স্টিকের মাধ্যমে এবং ৬. মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে এটিকে কন্ট্রোল করা যাবে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, চেয়ারটিতে রোগীর শরীরের তাপমাত্রা এবং আদ্রতা মনিটরিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে টেম্পারেচার এবং হিউমিডিটি সেন্সর। রোগীর হার্টবিট মনিটরিং এর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে হার্টরেট মনিটরিং সেন্সর। এই সেন্সরের সাহায্যে হার্টবিট ডিটেকশনের পাশাপাশি এমন ব্যবস্থা রেখেছে যেনো রোগীর হার্টবিট অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডাক্তার এবং রোগীর আত্নীয়-স্বজনদের মোবাইলে অটোম্যাটিক্যালি মেসেজ এবং মেইল চলে যাবে। এছাড়া, রোগী যদি কোনো কারণে ছটফট করতে শুরু করে (খিঁচুনি) তা ডাক্তার এবং রোগীর আত্মীয়-স্বজনদের জানানোর জন্য মোবাইলে অটোম্যাটিক মেসেজ এবং মেইল চলে যাওয়ার সিস্টেম রয়েছে।

এছাড়াও, চেয়ারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে মেডিসিনরি মাইন্ডার নামের একটা বক্স। এই বক্সের মধ্যে ছোট ছোট আরও ছয়টি বক্স থাকবে এবং ঐ ছয়টি বক্সে থাকবে রোগীর ছয় বেলার ঔষধ, যখনি ঔষধ খাওয়ার সময় হবে ঠিক তখনি অটোম্যাটিক্যালি বক্সে এলার্ম বেজে উঠবে এবং যেই বেলার ঔষধ খাওয়ার সময় হয়েছে ঠিক ঐ বেলার বক্সের এলইডি জ্বলে উঠবে এবং ঔষধের নামসহ সেবিকার মোবাইলে মেসেজ চলে যাবে যে রোগীকে ঔষধ খাওয়ানোর সময় হয়েছে।

পরবর্তীতে অটোম্যাটিক্যালি মেডিসিন রিমাইন্ডার বক্সের ছয়টি বক্স থেকে যেই বেলার ঔষধ খাওয়ার সময় হয়েছে ঠিক ঐ বক্সটা খুলে ঔষধ বের করে দেবে। পেশেন্ট মনিটরিং সিস্টেমে রোগীর সব ডাটা ওয়েবসাইটে প্রদর্শন এবং ভবিষ্যতে কোনো কারণে আগের ডাটা দেখার জন্য রাখা হয়েছে বর্তমান যুগে সব চাইতে বেশি আলোচিত (আইঅটি) ইন্টারনেট অব থিংকস সিস্টেম।

এ ব্যাপারে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে এই বায়োনিক হুইলচেয়ারটি বানানোর জন্য প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এটি বাজারজাত করার ক্ষেত্রে এর খরচ আরও কমিয়ে আনা যাবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে আমি একটা কথাই বলব, প্রাইভেট-পাবলিক ভার্সিটি কোনো ফ্যাক্ট না। কখনো হতাশ হবে না, সিজিপিএ বাড়ানোর পাশাপাশি প্র্যাক্টিকালি কাজ করো, যোগ্যতা অর্জন করো, ইনশাআল্লাহ জীবনে সফল হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ















জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর