ঢাকা      শনিবার ২১, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৫, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. তাইফুর রহমান

কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি

জেনারেল হাসপাতাল, কুমিল্লা।


হাসপাতাল ভাঙচুর ফ্যাশন নাকি দুরভিসন্ধিমূলক!

গতকাল আমার চেম্বারে বসে আছেন একজন এপিপি ও একজন সিনিয়র এডভোকেট। তারাই শেষ রোগী। এমন সময় টেনে হিঁচড়ে একজন ৩০-৩৫ বছরের মহিলাকে নিয়ে কয়েকজন ঢুকলো আমার চেম্বারে। দেখলাম রোগীর উর্ধশ্বাস চলছে। অগত্যা এপিপি সাহেবকে অর্ধেক দেখা অবস্থায়ই এই রোগী দেখতে গেলাম। পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখলাম রোগীর প্রেশার নাই। প্যাডে লিখলাম BP-Non recordable.

কোন কারণই তারা ঠিকমত বলছে না। কোনরকমে বের করলাম তিনদিন যাবৎ পাতলা পায়খানা, বমি। বকা দিলাম রোগীটাকে এভাবে শেষ করে দিয়ে আমার কাছে আনলেন কেন? ডাক্তার দেখান নাই কেন? তারা বললো ডাক্তারতো দেখাইছি। দেখলাম একজন পল্লী চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন। আমি বুঝতে পারছিলাম যে পাতলা পায়খানা ও বমির কারণে হয়তো কিডনিতে সমস্যা হয়েছে। জিজ্ঞেস করলাম প্রস্রাবের ব্যাপারে। তাদের ভাষ্যমতে কোন সমস্যা নাই। শুধু আগের ডাক্তার একটি ঘুমের ঔষধ দিয়েছে তাই ঘুমাচ্ছে।

যাহোক, আমি দ্রুত দরজা খুলে তাড়াতাড়ি স্ট্রেচার আনতে বললাম। রোগী গরীব, তারা ভর্তি করাবে না। রোগীর শাশুড়ি আমার আগের রোগী। এবার উনি দেখাতে চান। আমি বললাম আপনাকে পরে দেখা যাবে, আগে আপনার বৌ-মাকে বাঁচান। তবুও তাদের পিড়াপিড়িতে সংক্ষেপে ওনার কথা শুনে দুইটা ঔষধ লিখে দিলাম। রোগীকে ভর্তি দিয়ে, চিকিৎসা লিখে, কিছু পরীক্ষা নিরিক্ষা দিয়ে বিদায় করলাম।

এত দ্রুততার সাথে করলাম যে, একজনেরও ফি নেওয়া হয়নি। পরে আমার এটেন্ডেন্ট গিয়ে ফি এর কথা বলে আসলো। ভদ্রলোক আসলেন একহাজার টাকার নোট দিয়ে বললেন স্যার, গরীব মানুষ, একটু রহম করেন। আমি একজনের ভিজিট নিলাম। ভদ্রলোক তখন বললেন আমরা অন্য হাসপাতালে নিতে চাই, কিন্তু আপনিতো অন্য কোথাও যান না। আমি বললাম আজকের রাতটা অন্তত এখানে রাখুন, পরে বেঁচে থাকলে সকালে অন্য হাসপাতালে নিয়েন।

রোগী ভর্তি হওয়ার সময় বন্ড সই দিলো, রোগীর অবস্থা খারাপ জেনেও আমরা জেনারেল বেডে রোগীর চিকিৎসা করতেছি। রোগী মারা গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

রোগীর রিপোর্ট আসলো কিডনি ফেইলিউর, ক্রিয়েটিনিন ৩। এবং ঘন্টাখানেক পর রোগী মারা গেল। এবার রোগীর লোকদের আসল চেহারা বের হল। দোষ দিচ্ছে ডিউটি ডাক্তারের। রোগী রেষ্টলেস দেখে সেডিল ইনজেকশন দিয়েছিল। প্রথমে বললো ডেট নাই, পরে ডেট ঠিক আছে দেখে বললো এটা আমাকে জিজ্ঞেস না করে কেন দিল?

তারাবী শেষ করে আমি হাসপাতালে গেলাম। পুলিশের সামনে তারা সব স্বীকার করল এবং লাশ নিয়ে চলে যেতে চাইল। আমি চলে আসলাম। এর একটুপর এক সাংবাদিক ভাই আসলেন। উনি ফেইসবুকে দিলেন ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু। তারপর দলে দলে লোক আসলো। ভাংচুর হলো মুন হাসপাতাল।

তাহলে কি চিকিৎসা দেয়া বন্ধ রাখাই এখন সমাধান। মামলা কে কার বিরুদ্ধে করবে?

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সন্তানের থ্যালাসেমিয়ার জন্য পিতা-মাতার অজ্ঞতাই দায়ী!

সন্তানের থ্যালাসেমিয়ার জন্য পিতা-মাতার অজ্ঞতাই দায়ী!

সিএমসি, ভেলোরে আমি যে রুমে বসে রোগী দেখছি সেখানে ইন্ডিয়ার অন্যান্য রাজ্যের…

এক্সাম ফোবিয়া ও ডিপ্রেশন: মুক্তির সহজ সমাধান

এক্সাম ফোবিয়া ও ডিপ্রেশন: মুক্তির সহজ সমাধান

প্রশ্ন: স্যার আমি মেডিকেলের ৩য় বর্ষের ছাত্রী। মেডিকেলে ইতিমধ্যেই ১ বছর লস…

আধুনিক মায়েরা সিজার ছাড়া বাচ্চা প্রসবের চিন্তাই করেন না

আধুনিক মায়েরা সিজার ছাড়া বাচ্চা প্রসবের চিন্তাই করেন না

সমাজে কিছু মানসিকভাবে অসুস্থ ডাক্তার বিদ্বেষী মানুষ আছে। অসুখ হলে ইনিয়ে বিনিয়ে…

আনিসের প্রত্যাবর্তন 

আনিসের প্রত্যাবর্তন 

রাস্তায় একজনের মুখে সরাসরি সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে দিলো আনিস। আচমকা এ আচরণে…

কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ: গল্পে গল্পে শিখি

কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ: গল্পে গল্পে শিখি

স্রষ্টার সৃষ্টি বড় অদ্ভুত, মেডিকেল সায়েন্স পড়লে এটা ভাল বুঝা যায়। মাছের…

বদ লোকের গল্প!

বদ লোকের গল্প!

উপজেলায় নতুন তখন। সবাইকে ঠিকঠাক চিনিও না। হঠাৎ একদিন আমার রুমে পেট…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর